শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ভিক্টোরিয়া ক্রসজয়ী গুর্খা যোদ্ধার অবিশ্বাস্য বীরত্বগাথা

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ে অসংখ্য বীরত্বগাথা ইতিহাসে স্থান পেয়েছে। তবে নেপালের গুর্খা সেনা লছিমন গুরুং-এর সাহসিকতার গল্প আজও সামরিক ইতিহাসে অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এক হাত হারিয়েও টানা চার ঘণ্টা যুদ্ধ করে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবস্থান রক্ষা করেছিলেন এবং শত্রুপক্ষের অগ্রযাত্রা ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন।

১৯৪৫ সালের বসন্তে তৎকালীন বার্মার (বর্তমান মিয়ানমার) তাউংদাউ এলাকায় একটি দুর্গম প্রতিরক্ষা চৌকির দায়িত্বে ছিল অষ্টম গুর্খা রাইফেলসের চতুর্থ ব্যাটালিয়ন। ওই সময় রাতের অন্ধকারে প্রায় ২০০ জাপানি সেনা চৌকিটিতে আকস্মিক আক্রমণ চালায়।

তখন ৩২ বছর বয়সী লছিমন গুরুং আরও দুই গুর্খা সেনার সঙ্গে সামনের একটি পরিখায় অবস্থান করছিলেন। শত্রুপক্ষ একের পর এক গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে শুরু করলে গুরুং প্রথম দুটি গ্রেনেড কুড়িয়ে আবার শত্রুদের দিকে ছুড়ে দেন। কিন্তু তৃতীয় গ্রেনেডটি তাঁর পায়ের কাছে বিস্ফোরিত হয়।

বিস্ফোরণে গুরুংয়ের ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পাশাপাশি তাঁর বাহু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মুখ ও শরীরের ওপরের অংশেও গুরুতর আঘাত লাগে। ঘটনাস্থলেই নিহত হন তাঁর সঙ্গে থাকা দুই সহযোদ্ধা।

গুরুতর আহত হওয়ার পরও তিনি যুদ্ধক্ষেত্র ছাড়েননি। প্রচুর রক্তক্ষরণ ও আংশিক দৃষ্টিশক্তি হারানোর মধ্যেও তিনি নিজের লি-এনফিল্ড রাইফেল বাঁ বাহুর নিচে চেপে ধরে পরিখার দেয়ালের সহায়তায় এক হাতেই গুলি চালাতে থাকেন।

জাপানি সেনারা ধারণা করেছিল, অবস্থানটি ইতোমধ্যে তাদের দখলে চলে এসেছে। সেই সুযোগে তারা বারবার সামনে এগিয়ে আসার চেষ্টা করে। কিন্তু প্রতিবারই গুরুংয়ের প্রতিরোধের মুখে পড়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়।

প্রায় চার ঘণ্টা ধরে একাই তিনি ওই প্রতিরক্ষা অবস্থান ধরে রাখেন। যুদ্ধ চলাকালে বারবার উচ্চারণ করছিলেন গুর্খা বাহিনীর ঐতিহ্যবাহী যুদ্ধধ্বনি— "আয়ো গোরখালি!"

ভোর হওয়ার পর দেখা যায়, তাঁর পরিখার সামনে ৩১ জন জাপানি সেনার মরদেহ পড়ে রয়েছে। নিজের একটি হাত হারিয়েও তিনি অবস্থান থেকে এক ইঞ্চিও সরে যাননি।

সহযোদ্ধারা পৌঁছানোর পরও আক্রমণ সম্পূর্ণভাবে প্রতিহত না হওয়া পর্যন্ত তিনি চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানান। তাঁর এই অসাধারণ প্রতিরোধ পুরো কোম্পানির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা অবস্থান রক্ষা করে এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের প্রাণহানি এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরও পড়ুন

উৎপাদন বাড়লেও সংকটে দেশের চা-শিল্প

অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ লছিমন গুরুংকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ভিক্টোরিয়া ক্রস প্রদান করা হয়। পরে তিনি সুস্থ হয়ে নেপালে ফিরে যান এবং দীর্ঘ জীবন অতিবাহিত করেন।

এক হাত হারিয়েও অদম্য সাহস, দৃঢ় মনোবল ও দায়িত্ববোধের অনন্য নজির স্থাপনকারী লছিমন গুরুং আজও বিশ্বের অন্যতম কিংবদন্তি গুর্খা যোদ্ধা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

ভোরের আকাশ/জেআ

ইতিহাসদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধজাপানি সেনা

শেয়ার করুন: