শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ইতিহাসের এক বিস্ময়কর অধ্যায়

একসময় টাক মাথার পুরুষই ছিল লিপস্টিক পরীক্ষার ল্যাব!

আবু আফিয়া

প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ৫:৫৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
একসময় টাক মাথার পুরুষই ছিল লিপস্টিক পরীক্ষার ল্যাব!
একসময় টাক মাথার পুরুষই ছিল লিপস্টিক পরীক্ষার ল্যাব!

ইতিহাসের পাতায় এমন অনেক ঘটনা আছে, যা প্রথম শুনলে অবিশ্বাস্য মনে হয়। আধুনিক বিজ্ঞান ও শিল্পের বিকাশের পথে নানা সময় এমন কিছু পরীক্ষামূলক পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে, যা আজকের দৃষ্টিতে বেশ অদ্ভুত বলে মনে হয়। তেমনই একটি ঘটনা হলো—একসময় প্রসাধনী গবেষণায় টাক মাথার পুরুষদের ব্যবহার করা হতো লিপস্টিক পরীক্ষার জন্য।

শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটি কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো কল্পকাহিনি নয়। ইতিহাসবিদদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রসাধনী প্রতিষ্ঠানে নতুন লিপস্টিকের কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য এমন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল।

কেন টাক মাথা?

সেই সময় প্রসাধনী শিল্প দ্রুত প্রসার লাভ করছিল। নতুন পণ্য বাজারে আনার আগে গবেষকরা জানতে চাইতেন—রঙ কতটা স্পষ্ট থাকে, কতক্ষণ স্থায়ী হয়, সহজে ছড়িয়ে পড়ে কি না কিংবা দাগ কেমন হয়।

এ ধরনের পরীক্ষা করার জন্য প্রয়োজন ছিল একটি মসৃণ ও সমতল ত্বক। টাক মাথার পুরুষদের মাথার ত্বক এই কাজের জন্য উপযুক্ত মনে করা হতো। নারী স্বেচ্ছাসেবীরা পরীক্ষামূলকভাবে লিপস্টিক ব্যবহার করে মাথায় চুম্বনের ছাপ দিতেন। এরপর গবেষকরা সেই দাগের ঘনত্ব, স্থায়িত্ব ও বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করতেন। উদ্দেশ্য ছিল শুধুই পণ্যের গুণগত মান যাচাই।

ইতিহাসের সাক্ষী একটি ছবি

এই পরীক্ষার কয়েকটি আলোকচিত্র তুলেছিলেন মার্কিন আলোকচিত্রী ইয়েল জোয়েল, যিনি সে সময় Life Magazine-এর হয়ে কাজ করতেন। বহু বছর পর সেই ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই সেগুলোকে সম্পাদিত ছবি বলে মনে করেছিলেন। পরে বিভিন্ন ঐতিহাসিক আর্কাইভ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়, ছবিগুলো বাস্তব ঘটনারই দলিল।

তবে কি সব কোম্পানি এমন করত?

না। গবেষণা বলছে, এটি সব প্রসাধনী প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত পদ্ধতি ছিল না। কিছু প্রতিষ্ঠান পরীক্ষামূলকভাবে এই কৌশল ব্যবহার করেছিল মাত্র।

সে সময় লিপস্টিকের মান যাচাইয়ের আরও নানা উপায় ছিল। যেমন—স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে ব্যবহারিক পরীক্ষা, কাপড় বা কাগজে দাগ পরীক্ষা, কাচের ওপর রঙের স্থায়িত্ব দেখা এবং বিভিন্ন ধরনের ত্বকে প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা।

এখন কীভাবে পরীক্ষা হয়?

বর্তমান যুগে প্রসাধনী গবেষণা অনেক বেশি বৈজ্ঞানিক ও নিয়ন্ত্রিত। আধুনিক পরীক্ষায় ডার্মাটোলজিস্টের তত্ত্বাবধানে ক্লিনিক্যাল মূল্যায়ন, কৃত্রিম ত্বক, উন্নত ডিজিটাল ইমেজ বিশ্লেষণ এবং ল্যাবভিত্তিক নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হয়। অনেক দেশেই এ বিষয়ে কঠোর নীতিমালা রয়েছে, যাতে ব্যবহারকারীর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়।

ইতিহাসের শিক্ষা

এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সময়ের সঙ্গে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণার পদ্ধতিও বদলে যায়। অতীতে যেসব পদ্ধতি স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হতো, সেগুলোর অনেকই আজ আর ব্যবহার করা হয় না।

মুসলিম সমাজে সৌন্দর্যচর্চার ক্ষেত্রেও শালীনতা, সংযম ও পর্দার নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ। তাই ইতিহাসের এই অধ্যায়কে কৌতূহল ও জ্ঞানার্জনের দৃষ্টিতে দেখা যেতে পারে; এটি কোনো প্রসাধনী ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার বিষয় নয়। বরং এটি বিজ্ঞান ও শিল্পের বিবর্তনের একটি ব্যতিক্রমী দলিল, যা আমাদের অতীতের গবেষণা-পদ্ধতি সম্পর্কে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়।

সূত্র: Smithsonian Magazine — The Strange History of Lipstick Testing in the 1950s

ভোরের আকাশ/এনএ

 

ডিএনএ ল্যাবটাক

শেয়ার করুন: