শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বিগ ব্যাং তত্ত্ব: কীভাবে সৃষ্টি হলো মহাবিশ্ব?

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

অন্ধকার, শূন্যতা ও অসীম নীরবতায় ঘেরা এক অবস্থা—যেখানে ছিল না কোনো গ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি, এমনকি স্থান ও সময়ও। সেখান থেকেই প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন (১,৩৮০ কোটি) বছর আগে শুরু হয় মহাবিশ্বের বিস্ময়কর যাত্রা। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই ঘটনার নাম বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিগ ব্যাং কোনো সাধারণ বিস্ফোরণ ছিল না। এটি ছিল স্থান বা স্পেসের অত্যন্ত দ্রুত প্রসারণ, যার মাধ্যমে সৃষ্টি হয় আজকের মহাবিশ্ব।

সিঙ্গুলারিটি থেকে সূচনা

বিগ ব্যাং তত্ত্ব অনুযায়ী, মহাবিশ্বের সমস্ত পদার্থ, শক্তি, স্থান ও সময় একসময় একটি অতিক্ষুদ্র, অত্যন্ত উত্তপ্ত ও অসীম ঘন অবস্থায় কেন্দ্রীভূত ছিল। বিজ্ঞানীরা এই অবস্থাকে সিঙ্গুলারিটি নামে অভিহিত করেন।

সেই অবস্থায় প্রচলিত পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম কার্যকর ছিল না। এরপর কোনো এক পর্যায়ে শুরু হয় দ্রুত প্রসারণ, যা মহাবিশ্বের জন্মের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিগ ব্যাং কি সত্যিই বিস্ফোরণ ছিল?

'মহাবিস্ফোরণ' শব্দটি শুনলে অনেকের মনে বোমা বিস্ফোরণের মতো দৃশ্য ভেসে ওঠে। কিন্তু বিজ্ঞানীদের মতে, বিগ ব্যাং ছিল না কোনো নির্দিষ্ট স্থানে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণ। বরং স্থান নিজেই দ্রুত প্রসারিত হতে শুরু করেছিল।

এই প্রসারণের প্রথম মুহূর্তগুলো ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেকেন্ডের ক্ষুদ্রতম ভগ্নাংশের মধ্যেই মহাবিশ্ব ভরে যায় মৌলিক কণা যেমন কোয়ার্ক, ইলেকট্রন ও ফোটনে। কয়েক মিনিটের মধ্যে গঠিত হতে শুরু করে প্রোটন ও নিউট্রন। আর প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার বছর পরে তাপমাত্রা যথেষ্ট কমে এলে সৃষ্টি হয় প্রথম পরমাণু এবং মহাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে প্রথম আলো। এই আলোর অবশিষ্টাংশই আজ কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড (CMB) নামে পরিচিত।

কীভাবে নিশ্চিত হলেন বিজ্ঞানীরা?

বিগ ব্যাং তত্ত্বকে সমর্থন করে এমন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে।

১৯২৯ সালে জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডউইন হাবল পর্যবেক্ষণ করেন, দূরবর্তী গ্যালাক্সিগুলো একে অপরের থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে। এই পর্যবেক্ষণ থেকে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, অতীতে গেলে সব গ্যালাক্সি একসময় একই বিন্দুতে অবস্থান করেছিল।

এরপর ১৯৬৫ সালে বিজ্ঞানী আরনো পেনজিয়াস ও রবার্ট উইলসন মহাকাশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এক ধরনের ক্ষীণ তাপীয় বিকিরণ আবিষ্কার করেন। পরে এটিই বিগ ব্যাংয়ের অন্যতম শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

এ ছাড়া মহাবিশ্বে হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের অনুপাতও বিগ ব্যাং তত্ত্বের পূর্বাভাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

গ্যালাক্সি, নক্ষত্র ও পৃথিবীর জন্ম

মহাবিশ্বের প্রসারণের পর ধীরে ধীরে মহাকর্ষ বলের প্রভাবে গ্যাসের বিশাল মেঘ জমাট বাঁধতে শুরু করে। সেখান থেকে জন্ম নেয় প্রথম নক্ষত্র ও গ্যালাক্সি।

এই নক্ষত্রগুলোর অভ্যন্তরে সৃষ্টি হয় কার্বন, অক্সিজেন, লোহাসহ ভারী মৌল। পরবর্তীতে নক্ষত্রের বিস্ফোরণের মাধ্যমে এসব মৌল মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে। সেই উপাদান দিয়েই গড়ে ওঠে নতুন নক্ষত্র, গ্রহ এবং সৌরজগৎ। কোটি কোটি বছর পরে সেই ধারাবাহিকতায় সৃষ্টি হয় পৃথিবী, যেখানে প্রাণের বিকাশ সম্ভব হয়েছে।

এখনো অমীমাংসিত কিছু প্রশ্ন

বিগ ব্যাং তত্ত্ব মহাবিশ্বের বিবর্তন সম্পর্কে শক্তিশালী ব্যাখ্যা দিলেও একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা—সিঙ্গুলারিটির আগে কী ছিল এবং বিগ ব্যাংয়ের সূচনা ঠিক কীভাবে হয়েছিল?

আরও পড়ুন

চুক্তির প্রলোভনে ডেকে নির্যাতন, মামলা করলেন অভিনেত্রী স্নিগ্ধা

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আজও গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিশ্বের বিজ্ঞানীরা। কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটি, ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি নিয়ে নতুন নতুন গবেষণা ভবিষ্যতে মহাবিশ্বের সূচনার রহস্য আরও স্পষ্ট করতে পারে।

বিজ্ঞানীদের মতে, মহাবিশ্বের উৎপত্তির রহস্য উদ্ঘাটনের এই অনুসন্ধান এখনো শেষ হয়নি। বরং প্রতিটি নতুন আবিষ্কার মানবজাতিকে মহাবিশ্ব সম্পর্কে আরও গভীর উপলব্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।।

ভোরের আকাশ/জেআ

জ্যোতির্বিজ্ঞানবিগ ব্যাংআলবার্ট আইনস্টাইন

শেয়ার করুন: