শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

দুপুরে কেন থেমে যায় স্পেন? ‘সিয়েস্তা’র শতবর্ষী গল্প

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ১ আগস্ট ২০২৬, ৪:৫৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
দুপুরে কেন থেমে যায় স্পেন? ‘সিয়েস্তা’র শতবর্ষী গল্প
দুপুরে কেন থেমে যায় স্পেন? ‘সিয়েস্তা’র শতবর্ষী গল্প

ফুটবলে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর স্পেনকে ঘিরে আগ্রহ বেড়েছে সারা বিশ্বে। তবে শুধু ফুটবল নয়, দেশটির জীবনযাপন, সংস্কৃতি ও দৈনন্দিন অভ্যাসও অনেকের কাছে বিস্ময় জাগায়। প্রথমবার স্পেনে যাওয়া অনেক পর্যটকই অবাক হন—দুপুর গড়াতেই হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় অনেক দোকান, রেস্তোরাঁ ও ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। বাইরে থেকে মনে হতে পারে, যেন পুরো শহর কয়েক ঘণ্টার জন্য থেমে গেছে।

আসলে এটি কোনো ধর্মঘট বা ছুটি নয়। এটি স্পেনের ঐতিহ্যবাহী মধ্যাহ্ন বিরতির সংস্কৃতি, যার নাম ‘সিয়েস্তা’ (Siesta)।

কী এই সিয়েস্তা?

ঐতিহ্যগতভাবে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত স্পেনের অনেক ছোট দোকান, পারিবারিক ব্যবসা ও কিছু অফিস বন্ধ থাকে। এ সময় কর্মীরা বাড়ি ফিরে পরিবারের সঙ্গে দুপুরের খাবার খান, বিশ্রাম নেন কিংবা কিছু সময় পরিবারের সঙ্গে কাটান। এরপর বিকেল বা সন্ধ্যায় আবার কর্মস্থল খুলে রাত পর্যন্ত কাজ চলে।

কেন গড়ে উঠল এই সংস্কৃতি?

স্পেনের অনেক অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে দুপুরে প্রচণ্ড গরম পড়ে। অতীতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রচলন না থাকায় মানুষ তীব্র গরম এড়িয়ে কাজের সময় ভাগ করে নিত। সময়ের সঙ্গে সেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাই ঐতিহ্যে পরিণত হয়।

এখনো কি পুরো স্পেনে সিয়েস্তা চলে?

বর্তমানে বড় শহর যেমন মাদ্রিদ, বার্সেলোনা কিংবা বড় শপিংমল ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের দোকানগুলো সাধারণত সারাদিন খোলা থাকে। তবে ছোট শহর, গ্রামাঞ্চল এবং পারিবারিক মালিকানাধীন অনেক দোকানে এখনো সিয়েস্তার প্রচলন রয়েছে। তাই ভ্রমণকারীদের দুপুরে প্রয়োজনীয় দোকান বন্ধ পেয়ে অপেক্ষা করতে হতে পারে।

রাতের খাবারও দেরিতে

স্পেনের মানুষের আরেকটি পরিচিত অভ্যাস হলো দেরিতে রাতের খাবার খাওয়া। অনেক পরিবার রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে রাতের খাবার খায়, গ্রীষ্মকালে কখনো তা আরও দেরি হয়। দীর্ঘ মধ্যাহ্ন বিরতির কারণে কর্মদিবসও তুলনামূলক দীর্ঘ হয়।

ঐতিহ্যের পাশাপাশি আধুনিকতা

সিয়েস্তার পাশাপাশি স্পেনে নতুন বছরে ১২টি আঙুর খাওয়ার রীতি, টমেটো উৎসব ‘লা টোমাটিনা’, ষাঁড়ের সঙ্গে দৌড়ের ঐতিহ্য এবং পারিবারিক সময়কে গুরুত্ব দেওয়ার সংস্কৃতি আজও জনপ্রিয়। একই সঙ্গে উচ্চগতির রেল, আধুনিক প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো খাতেও দেশটি ইউরোপের অগ্রগামী রাষ্ট্রগুলোর একটি।

স্পেনে ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে তাই দুপুরে হঠাৎ দোকান বন্ধ দেখে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এটি কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়; বরং শত বছরের পুরোনো একটি জীবনযাপনের ঐতিহ্য, যা এখনো দেশটির সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সূত্র: The Guardian, Spain Guide।

ভোরের আকাশ/এনএ

শেয়ার করুন: