শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ প্রথম অধিবেশন

বিতর্ক ও ওয়াকআউটের মধ্যদিয়ে ৯৪ বিল পাস

মাজাহারুল ইসলাম

প্রকাশ : ৩ মে ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। নবীন ও প্রবীণ সংসদ সদস্যদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত এবং আইন পাসের অভাবনীয় রেকর্ডের মধ্য দিয়ে ৩০ এপ্রিল শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন।

গত কয়েক দশকের সংসদীয় ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনটি আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ছিল নজিরবিহীন। কেবল আইন পাসের সংখ্যার কারণেই নয়, বরং পাসের গতির কারণেও ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মাত্র ২৫ দিনের এই অধিবেশনে উত্থাপিত হওয়া ১৩৩টি অধ্যাদেশে মধ্যে ৯২টি আইনে পরিনত হয়েছে। শেষ দিনে আরো দুটি বিল পাস হয়েছে এই অধিবেশনে। 

সরকারী দল ও বিরোধী দলের তর্ক-বিতর্ক এবং ওয়াকআউটের মধ্য দিয়ে কয়েক সপ্তাহের এই অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ ৯৪টি বিল পাস হয়েছে, যাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘আইন পাসের হিড়িক’ বলে অভিহিত করছেন।

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ দিনের এই অধিবেশনে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপিত হয়েছে। যার বিপরীতে ৯১টি বিল পাস হয়। শেষ দিনের দুটি বিলসহ সর্বমোট ৯৪টি বিল পাসের মাধ্যমে অধিবেশন শেষ হয়েছে।

গত ৩০ এপ্রিল শেষ হওয়া এই অধিবেশনে একদিকে যেমন ছিল আইন প্রণয়নের রেকর্ড, অন্যদিকে ছিল তুমুল রাজনৈতিক বিতর্ক ও ভবিষ্যৎ রাজনীতির ইঙ্গিত। রাষ্ট্রপতির ভাষণ, মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই সনদসহ নানা ইস্যুতে সরকারি ও বিরোধী দলের পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্কের পাশাপাশি স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারের নানা বক্তব্যও নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। 

জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো নিয়ে সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে যে তর্কালাপ হয়েছে, তা গত কয়েক দশকের সংসদীয় ইতিহাসে খুব কমই দেখা গেছে। বিশেষ করে দেশের সাম্প্রতিক জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ ও এলপিজি দাম বাড়ানোসহ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সংসদ সদস্যরা যে গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ দিয়েছেন, তা সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সাধারণত সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব এবং শোক প্রস্তাবের আলোচনাতেই সিংহভাগ সময় ব্যয় হয়। কিন্তু এবার চিত্র ছিল ভিন্ন। সংসদীয় কার্যসূচিতে আইন প্রণয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

তথ্যমতে, গুরুত্বপূর্ণ যেসব আইন পাস হলো এবারের অধিবেশনে পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল-প্রশাসনিক সংস্কার বিল, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সংক্রান্ত সংশোধিত আইন এবং জাতীয় অর্থনৈতিক নীতিমালার বিশেষ কিছু ধারা। প্রশ্নোত্তর পর্বেও সরব ছিল সংসদ।

সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুসারে, এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে ৯৩টি প্রশ্নের নোটিশ জমা পড়ে, যার মধ্যে তিনি ৩৫টির উত্তর দিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের জন্য জমা পড়া দুই হাজার ৫০৯টি প্রশ্নের মধ্যে এক হাজার ৭৭৮টির উত্তর দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণের প্রতিবাদ জানিয়ে সংসদ থেকে প্রথম দিনেই ওয়াকআউট করেন জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। এরপর থেকেই রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা এই অধিবেশনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে ওঠে। প্রায় ২৮০ জন সংসদ সদস্য এই আলোচনায় অংশ নেন এবং মোট ৪০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিতর্ক চলে। বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে সাধারণত রাষ্ট্রপতির ভাষণের কেবল প্রশংসা করা হলেও, এবার আলোচনার ধরণ ছিল ভিন্ন। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের দেওয়া বক্তব্যের বিভিন্ন পয়েন্টে সরাসরি বিরোধিতা ও পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে। 

এমনকি অধিবেশনের শেষ দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে তাকে গ্রেফতারের কথাও বলেছেন জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তবে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে মোট ৪০ ঘণ্টা ১৪ মিনিটের আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তারা বলছেন, এত দীর্ঘ সময় যেভাবে আলোচনা হয়েছে সেটি সংসদীয় চর্চার ইতিবাচক দিক।

'জুলাই সনদ' নিয়ে বিতর্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম 'জুলাই সনদ'। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংসদে তীব্র বিতর্ক ও হট্টগোল হতেও দেখা গেছে। একদিকে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলন কুক্ষিগত করার অভিযোগ তুলেছেন সরকারি দলের একাধিক সদস্য। অন্যদিকে বিরোধী দলের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যেটা আপনারা স্বাক্ষর করেছেন। আমরাও করেছি। আসুন, সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করি।

সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করিম রনির জুলাই সনদ নিয়ে দেওয়া একটি বক্তব্য নিয়ে সংসদে হট্টগোল হতেও দেখা গেছে। সংসদের প্রথম দিন থেকেই আননেসেসারি (অপ্রয়োজনীয়) একটি জুলাই সনদ নিয়ে বিতর্ক শুরু করেছে, মঞ্জুরুল করিম রনির এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। অবশ্য সংসদে দেওয়া বক্তব্যে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সেজন্য সর্বদলীয় কমিটি গঠন করার কথাও জানান তিনি। শুরুর দিন থেকেই সংবিধান সংশোধন পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার বিষয়েও মুখোমুখি অবস্থানে ছিলেন সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা।

মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গ: জাতীয় সংসদে ত্রয়োদশ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং বীর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বিতর্ক ও বাকবিতণ্ডা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান দাবি করেছেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন ২০২৬ পাসের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা 'প্রতিষ্ঠিত' হয়েছে, যা নিয়ে সংসদে উত্তাপ ছড়ায়। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাহাস হয়েছে এই অধিবেশনে।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের বক্তব্য নিয়ে বিরোধী দলের আপত্তির কারণে বেশ হট্টগোল হতে দেখা গেছে এই অধিবেশনে। জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নেতাও নিজেদেরকে মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সন্তান বা শিশু মুক্তিযোদ্ধা বলে দাবি করেছেন। জামায়াতে ইসলামী অতীতে বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধের দল হিসেবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, আবার সরকারদলীয় সদস্যরা জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। সংসদে বরাবরের মতো মুক্তিযুদ্ধ বড় আলোচনার বিষয় থাকলেও এবারের প্রেক্ষিত ছিল আলাদা।

রাজনৈতিক স্বার্থে মুক্তিযুদ্ধের ব্যবহার নিয়ে যেমন সমালোচনা হয়েছে, তেমনি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান অক্ষুন্ন রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও দীর্ঘ বিতর্ক হয়েছে।

প্রশ্নোত্তর পর্বে জবাবদিহিতা: সংসদীয় গণতন্ত্রে মন্ত্রীদের জবাবদিহি করার অন্যতম মাধ্যম প্রশ্নোত্তর পর্ব। যা এই সংসদে উল্লেখযোগ্য হারে দেখা গেছে বলেই মনে করেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, সংসদে মন্ত্রীদেরকে জবাবদীহি করার মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগের ওপর আইনসভার নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি ইতিবাচক লক্ষণ।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এর দেওয়া তথ্য মতে, এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য ৯৩টি প্রশ্ন পাওয়া গিয়েছিল যার মধ্যে তিনি ৩৫টির উত্তর সরাসরি দিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের জন্য দুই হাজার ৫০৯টি প্রশ্নের নোটিশের বিপরীতে এক হাজার ৭৭৮টি উত্তর দেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্পিকার।

ওয়াকআউট ও বিরোধী দলের সক্রিয়তা: জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিল পাস ও বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিবাদ জানিয়ে অন্তত তিনদিন বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ওয়াকআউটের ঘটনা ঘটেছে। কোনো নির্দিষ্ট বিল বা সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করার এই পুরনো সংস্কৃতি এবার ভিন্ন বার্তা দিয়েছে বলেই মনে করেন বিশ্লেষকরা।

এছাড়া ওয়াকআউটের পর পুনরায় ফিরে এসে আলোচনায় অংশ নেওয়ার প্রবণতা সংসদীয় শিষ্টাচারের জন্য ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

স্পিকার- ডেপুটি স্পিকার: জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকেই আলোচনায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। বিশেষ করে সংসদের নিয়মকানুন এবং সদস্যদের আলোচনার সময় বণ্টন নিয়ে দেওয়া তাদের নানা বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে আইন প্রণয়নের বাইরেও সংসদীয় কার্যক্রমে গতি আনার চেষ্টা ছিল স্পষ্ট। বিশেষ করে স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকারের ভূমিকা বেশ ইতিবাচক ছিল বলেই মনে করেন বিশ্লেষকদের অনেকে। সরকারি ও বিরোধী পক্ষের সদস্যদের হট্টগোল সামাল দেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় সংসদ অধিবেশনে একজন সংসদ সদস্যের গরম পানি পান করার ঘটনায় স্পিকারের ক্ষোভ প্রকাশ এবং ফ্লোর ক্রসিংসহ সংসদীয় নিয়মকানুনের নানা বক্তব্যও তাদেরকে আলোচিত করেছে।

বিল পাস ও অধ্যাদেশ উত্থাপনের রেকর্ড: প্রথম অধিবেশনের ২৫ কার্যদিবসে মোট ৯৪টি বিল পাস হয়েছে বলে সমাপনি বক্তব্যে জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। এছাড়া বিগত সময়ে জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, একসঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক আইনগত নথি নিষ্পত্তি করা সংসদীয় ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা, যা প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন তারা।

এছাড়া, এই অধিবেশনে অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় ছিল 'সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধি'র সংস্কার। সংসদকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা, সদস্যদের সময় বণ্টন এবং স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে এই অধিবেশনে। সংসদ সদস্যরা দাবি তুলেছেন সংসদ যেন কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠের ইচ্ছার প্রতিফলন না হয়ে সব মতের মানুষের মিলনস্থলে পরিণত হয়।

ঐতিহাসিক বিল পাস ও সংস্কার এই অধিবেশনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল বেশ কিছু যুগান্তকারী বিল পাস হওয়া। এর মধ্যে বিচার বিভাগীয় সংস্কার, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইনের আমূল পরিবর্তন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

এই আইনগুলো পাসের মাধ্যমে ত্রয়োদশ সংসদ প্রথাগত ধারা থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃত অর্থেই জনবান্ধব ও সংস্কারমুখী হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিয়েছে। বিরোধী দলের ভূমিকা সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাণবন্ত করতে বিরোধী দলের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিরোধী দলকে দেখা গেছে অত্যন্ত সক্রিয় এবং সোচ্চার। পয়েন্ট অফ অর্ডারে দাঁড়িয়ে দেশের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরা এবং সরকারের কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিরোধী দল কোনো ছাড় দেয়নি। সরকারি দলও ধৈর্য্যের সাথে সেই সমালোচনা গ্রহণ করেছে, যা সংসদীয় সংস্কৃতির এক ইতিবাচক বিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে ত্রয়োদশ সংসদ বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

এ প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ শামসুল আলম বলছেন, সংসদে সরকারি দল এবং বিরোধী দলের মধ্যে নানা বিষয়ে বিতর্ক হবে, এটাই স্বাভাবিক কিন্তু তা যেন অর্থবহ হয়।

এর মাধ্যমে বোঝা গেছে যে, সংসদে বিরোধী দল কেবল নামমাত্র নয়, বরং তারা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে প্রতিবাদ জানাতে পিছপা হবে না বলেই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক মোহাম্মদ শামসুল আলম।
তিনি বলেন, সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিবাদ জানানোর ভাষা ওয়াকআউট।

সড়কে আন্দোলনের বদলে সংসদীয় গণতন্ত্রে এই চর্চার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হওয়া উচিৎ। বিরোধী দল সরকারের বিভিন্ন কাজের সমালোচনা করে সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার চেষ্টা করবে, সংসদীয় ব্যবস্থার এই রীতি সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেখা গেছে বলেই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষখ অধ্যাপক মোহাম্মদ শামসুল আলম।

তিনি বলেন, জ্বালানি সমস্যা নিয়ে বিরোধী দল সংসদে সরকারের সমালোচনা করেছে। সরকারি দল জবাব দিয়েছে এবং সমস্যা সমাধানে বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে কমিটি গঠন করেছে, এটি ভালো লক্ষণ।

আরও পড়ুন

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় দুই মাসে নিহত ২৬৫৯

এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য সংসদের প্রথম অধিবেশন ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ, জুলাই সনদসহ নানা ইস্যুতে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে বাহাস স্পিকার বেশ ভালোভাবেই সামাল দিয়েছেন বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ।

তিনি বলেন, স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার দুজন ভালো মুরব্বি হওয়াতে আমি আশাবাদি যে এই সংসদটা ভালোই চলবে।

ভোরের আকাশ/নি

জাতীয় সংসদ

শেয়ার করুন: