শিরোনাম
ঢামেকে চলছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরাচার দফা কমার পর সোনার ভরিতে বাড়ল ২২১৬ টাকাব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন বলসোনারোবিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দামদেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠকবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীঢামেকে চলছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরাচার দফা কমার পর সোনার ভরিতে বাড়ল ২২১৬ টাকাব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন বলসোনারোবিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দামদেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠকবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

গণভোট ইস্যু: সরকার বনাম রাজনৈতিক দল

কার দিকে কে তাকিয়ে

মো. রেজাউর রহিম

প্রকাশ : ৯ নভেম্বর ২০২৫, ১১:২৫ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, নির্বাচন এবং গণভোট নিয়ে দেশে ‘ত্রিশঙ্কু’ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বৃহৎ রাজনৈতিক দলগুলোর অনৈক্য এবং বিদ্যমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পাশাপাশি জনমনে শঙ্কা বাড়ছে। এদিকে, সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে বড় রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে না এলে এ বিষয়ে সরকার নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে নেবে। কারণ, গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর অনৈক্যের সুযোগে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ বা তাদের সহযোগী কোনো শক্তি বর্তমান সরকার এবং নির্বাচন ও সংস্কারকে ব্যাহত করার কোন অপচেষ্টা করার কোনো সুযোগ নিয়ে দেশে কোনো অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করুক-অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনো অবস্থায়ই এটা চায় না বলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়সহ একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

আর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলমান অনৈক্য চলতে থাকলে আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন নিয়েও অনিশ্চয়তার আশংকা সৃষ্টি হতে পারে বিধায় সরকার নিজেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। অবশ্য, এখনও বৃহৎ রাজনৈকি দল বিশেষ করে- বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি এবং জামায়াতে ইসলামীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন প্রধান উপদেষ্টা। আর চলতি সপ্তাহের মধ্যে দলগুলো ঐকমত্যে না আসতে পারলে সরকারই নিজের মতো করে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত  নেবে।

এছাড়া এক্ষেত্রে আদেশ জারিতে যাতে কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়কে প্রস্তুতি নিতেও উপদেষ্টা পরিষদ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেবেন বলে জানা গেছে।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিদ্যমান ভিন্ন মতের কারণে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট আয়োজন নিয়ে জটিল পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনো অবস্থায়ই চায় না-রাজনৈতিক দলগুলোর অনৈক্যের সুযোগে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ বা তাদের সহযোগী কোনো শক্তি কোনো সুযোগ নিক।

জানা গেছে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে গত ২৭ অক্টোবর দুটি সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দেয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এরপরই ‘গণভোট’ এবং ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (আপত্তি) ইস্যুতে পরস্পরবিরোধী অবস্থান নেয় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী।

এ অবস্থায় গত ৩ নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক অুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনা করে সাত দিনের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত দিতে উপদেষ্টা পরিষদের পক্ষ থেকে অনুরোধও জানানো হয়। ইতোমধ্যে মধ্যে ছয়দিন পার হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ বিষয় নিয়ে পারস্পরিক অবস্থান এখনও বিপরীতমুখীই রয়ে গেছে। অর্থাৎ রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নিজ নিজ অবস্থানে এখনও অনড় অবস্থানে রয়েছে।

অবশ্য, অচলাবস্থা নিরসনে এবং বিষয়টি সমাধানের জন্য জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বিএনপিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হলেও এখনও বিএনপি এ ব্যাপারে ইতিবাচক কোনো সাড়া  দেয়নি।

এদিকে, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমতের অপেক্ষায় থাকলেও এর পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ আদেশ জারির জন্য প্রস্তুতিও নিচ্ছে সরকার।

আইন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে এবং আদেশ জারির বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য উপদেষ্টা পরিষদ থেকে আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ঐক্যমত না হলে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে সিদ্ধান্ত সরকারের
এদিকে, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত না নিলে অন্তর্বর্তী সরকার নিজেরাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলো সাড়া না দিলে সরকার কী করবে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো সিদ্ধান্ত না নিলে অন্তর্বর্তী সরকার নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে।

কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সে বিষয়ে প্রস্তুতিমূলক অনেক বৈঠক হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, তবে আমরা আশা করব, রাজনৈতিক দলগুলো নিজেরাই পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে ইতিবাচক একটা সিদ্ধান্তে আসবে।

প্রেস সচিব বলেন, গোটা জাতি এখন নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে। রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের প্রস্তুতিও ইতোমধ্যে শুরু করেছে। আর জাতি যেন খুব দ্রুত নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন, সে ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলো সিদ্ধান্ত নেবে।

শফিকুল আলম বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আইন উপদেষ্টা রাজনৈতিক দলগুলোকে এক সপ্তাহের মধ্যে নিজেরা বসে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলেছেন। অন্যথায়, সরকার নিজেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবে- এমন কথাও আলোচনা হয়েছে।

সূত্র জানায়, এক্যমত্য কমিশনের দ্বিতীয় প্রস্তাবের আলোকে সরকার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি করতে পারে। সে ক্ষেত্রে ২৭০ দিনের স্থলে যত দিন সময় লাগে, তত দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কারের কাজ শেষ করার কথা উল্লেখ করা হতে পারে।

পাশাপাশি পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার প্রস্তাব ছাড়া বাকি প্রস্তাবগুলোতে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ উল্লেখ থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংবিধান সংস্কার পরিষদ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে এসংক্রান্ত বিল পাস করবে- এমন বিষয় সংযোজন হতে পারে।

এ ব্যাপারে সচিবালয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ভোরের আকাশকে জানান, প্রধান উপদেষ্টা ঐক্যমত্য কমিশন থেকে ঘোষিত সাত দিন সময়সীমার মধ্যে বড় রাজনৈতিক দলগুলো এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না জানালে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে সব দল নিয়ে বৈঠক করার চিন্তা-ভাবনা করছেন।

আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন করার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার বন্ধ পরিকর উল্লেখ কওে তিনি বলেন, এ পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী মাসের শুরুতে তপশিল ঘোষণার চিন্তাও রয়েছ নির্বাচন কমিশনের। এছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সমাধান ধীরগতি হলে নির্বাচনী তপশিল ঘোষণা পিছিয়ে পড়তে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, জুলাই সনদের ধারাগুলো নির্বাচনের আগে বাস্তবায়নে বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে এখনও ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এছাড়া নির্বাচনের আগেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোট আয়োজনের বিষয়ে এখনও অনড় অবস্থানে আছে জামায়াতে ইসলামী।  

অবশ্য, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের বিষয়ে সমঝোতার জন্য আলোচনায় বসতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গত বৃহস্পতিবার রাতে ফোন করেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তবে এ পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ইতিবাচক কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা দেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর একটি সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, আলোচনায় বসার বিষয়ে সরকারের অনুরোধ ও জামায়াতের আমন্ত্রণের বিষয়ে-বিশেষ করে জুলাই সনদ ইস্যুতে বিএনপি আর আলোচনায় বসবে না বলে জানা গেছে।

এদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একটি সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির পক্ষ থেকে আলোচনায় বসার এবং বিষয়টি সমাধানের কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। এমনকি বিএনপি এখন গণভোটকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলেও মনে হচ্ছে। এছাড়া এনসিপি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের বিষয়ে গণতন্ত্র মঞ্চভুক্ত ছয় দল এবং এবি পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বলে জানা গেছে।

বিশেষকদের মতে, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং ফ্যাসিবাদমুক্ত ও স্বৈরাচারী শাষণ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিরোধে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, নির্বাচন এবং গণভোটের বিষয়ে খুব দ্রুত একটি ইতিবাচক সমাধান-দেশ ও জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ। আর রাজনৈতিক দলগুলো এ ব্যাপারে ঐক্যমতে না আসতে পারলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেই  জনকল্যাণমুখী সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলেও মনে করেন তারা।

ভোরের আকাশ/এসএইচ

শেয়ার করুন: