শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান

পুঁজিবাজারকে ইমার্জিং মার্কেট বানাতে চাই

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ৫ জুন ২০২৬, ৭:৫৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
সংগৃহীত ছবি
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে একটি স্বচ্ছ, বিশ্বাসযোগ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগনির্ভর বাজারে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান। একই সঙ্গে তিনি বাজারে আস্থা পুনর্গঠন, ভালো মানের কোম্পানির তালিকাভুক্তি বৃদ্ধি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বৃহস্পতিবার (৪জুন) বিকালে বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান তার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

এর আগে দুপুরে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ মাসুদ খানকে চেয়ারম্যান করে তিন সদস্যের বিএসইসির নতুন কমিশনের নাম ঘোষণা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। কমিশনের অপর কমিশনারের পদ পরে দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পরে পূরণ করা হবে।

বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, দেশের পুঁজিবাজার দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা, ভালো কোম্পানির অনাগ্রহ, বিদেশি বিনিয়োগ হ্রাস এবং সীমিত প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণের মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এসব সংকট কাটিয়ে পুঁজিবাজারকে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত করাই কমিশনের মূল লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে খুচরা বিনিয়োগকারী-নির্ভর ফ্রন্টিয়ার বাজার থেকে একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগনির্ভর ইমার্জিং মার্কেটে রূপ দিতে চাই।’

স্মার্ট নিয়ন্ত্রণে কমবে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা: নতুন কমিশন বিদ্যমান বিধিমালা, রিপোর্টিং ব্যবস্থা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কমানোর উদ্যোগ নেবে। বিনিয়োগকারী সুরক্ষা বজায় রেখে নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে আরও নীতিনির্ভর ও ঝুঁকিভিত্তিক করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশেষ করে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদন ও অন্যান্য কমপ্লায়েন্স ব্যয় কমানোর বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্কারের কথা জানানো হয়েছে।

ডিজিটাল হবে পুরো পুঁজিবাজার ব্যবস্থা: পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক কার্যক্রম, লাইসেন্সিং, তথ্য প্রকাশ, আইপিও আবেদন, বন্ড ও সুকুক ইস্যুসহ বিভিন্ন সেবা ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তর করা হবে। চেয়ারম্যান বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর একটি আধুনিক নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানো হবে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো হবে।

বাজারে আনা হবে ভালো মানের কোম্পানি: পুঁজিবাজারে মানসম্মত সিকিউরিটিজের ঘাটতিকে অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে কমিশন জানায়, বহুজাতিক কোম্পানি, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এবং বড় স্থানীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজারে আনতে সক্রিয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া নতুন মূলধন সংগ্রহ ছাড়াই উপযুক্ত কোম্পানিকে তালিকাভুক্তির সুযোগ দিতে ডাইরেক্ট লিস্টিং কাঠামো চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য বিশেষ সুবিধা: ভালো কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনতে সরকার ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে সমন্বয় করে ‘লিস্টেড কোম্পানি অ্যাডভান্টেজ প্রোগ্রাম’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে কমিশন। এর আওতায় তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য কর সুবিধা, দ্রুত অনুমোদন, ঝুঁকিভিত্তিক করমূল্যায়ন এবং সহজ মূলধন সংগ্রহ ব্যবস্থার মতো সুবিধা থাকতে পারে।

মিউচুয়াল ফান্ড ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগে জোর: বিএসইসি জানায়, বাজারকে স্থিতিশীল করতে মিউচুয়াল ফান্ড, বীমা কোম্পানি, পেনশন ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। মিউচুয়াল ফান্ড খাতে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়িয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বিদেশি বিনিয়োগে উদ্বেগ দূর করার প্রতিশ্রুতি: বিদেশি বিনিয়োগকারীদের তথ্য প্রকাশ, সুশাসন ও মুনাফা প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত উদ্বেগ দূর করতে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে কমিশন।

বিএসইসি বলছে, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করা হবে।

কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান: বাজার তদারকি ও আইন প্রয়োগ জোরদারের ঘোষণা দিয়ে কমিশন জানিয়েছে, বিএসইসি, ডিএসই, সিএসই ও সিডিবিএলকে সমন্বিত করে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

ইনসাইডার ট্রেডিং, সার্কুলার ট্রেডিং, ওয়াশ ট্রেড, ফ্রন্ট রানিং ও পাম্প-অ্যান্ড-ডাম্প স্কিমের মতো কারসাজিমূলক কর্মকাণ্ড দ্রুত শনাক্ত ও কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।

চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা নয়। আমাদের উদ্দেশ্য ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ নিশ্চিত করা। মূল্য নির্ধারণ করবে বাজার, কারসাজি নয়।’

ধাপে ধাপে তুলে নেওয়া হবে ফ্লোর প্রাইস: দীর্ঘ মেয়াদে ফ্লোর প্রাইস কোনো স্থায়ী বাজার ব্যবস্থা হতে পারে না বলে উল্লেখ করে কমিশন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নতুন করে ফ্লোর প্রাইস আরোপ করা হবে না। বিদ্যমান ফ্লোর প্রাইসও বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করা হবে।

আস্থা ফিরিয়ে আনাই মূল লক্ষ্য: সংবাদ সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্যে চেয়ারম্যান বলেন, কমিশনের সাফল্য ঘোষণার মাধ্যমে নয়, বাস্তব ফলাফলের মাধ্যমে মূল্যায়িত হবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য শুধু বাজার নিয়ন্ত্রণ করা নয়, বিশ্বাস গড়ে তোলা। কারণ বিশ্বাস ছাড়া আস্থা সৃষ্টি হয় না, আর আস্থা ছাড়া বিনিয়োগ আসে না।’

নতুন কমিশনের প্রত্যাশাÑসরকার, বাজার অংশীজন এবং বিনিয়োগকারীদের সম্মিলিত সহযোগিতায় বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

বিএসইসির চেয়ারম্যান যোগাদানের পাশাপাশি এদিন অন্য চার কমিশনারের মধ্যে তিনজন যোগদান করেন। তারা হলেন ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাফিজ আল তারিক সিএফএ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাহিদ মাহতাব ও আশা ইন্টারন্যাশনালের ফাইনান্স ডিরেক্টর তানভীর হাবিব রহমান। তবে কমিশনারের একটি পদ আপাতত শূন্য থাকছে।

‘সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩’ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত বিএসইসির চেয়ারম্যান পদে থাকার নিয়ম ছিল। তবে ৩০ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধনী) বিল ২০২৬’ পাস হওয়ার মাধ্যমে এই বয়সসীমার বাধ্যবাধকতা সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়। এর ফলে ৭১ বছর বয়সি এই অভিজ্ঞ করপোরেট লিডারের জন্য বিএসইসি প্রধানের পদে যোগদানের পথ সুগম হয়।

এতদিন মাসুদ খান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং ক্রাউন সিমেন্ট গ্রুপের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এর আগে তিনি দীর্ঘ ১৮ বছর লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোতে ২০ বছর ধরে দেশ ও বিদেশে ফিন্যান্সের শীর্ষ পদে দায়িত্ব সামলেছেন।

আরও পড়ুন

গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার চক্রান্ত চলছে: মির্জা ফখরুল

এ ছাড়া তিনি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ, ম্যারিকো বাংলাদেশ, সিঙ্গার বাংলাদেশ এবং কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির স্বাধীন পরিচালক হিসেবে যুক্ত ছিলেন।

এর আগে সকালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকদুসসহ চার কমিশনার মো. মহসীন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ ও মো. সাইফুদ্দিন পদত্যাগ করেন।

ভোরের আকাশ/এনউব

ইমার্জিং মার্কেট

শেয়ার করুন: