বন্ধ পাটকল সচলে আবুল খায়ের গ্রুপের উদ্যোগ

বাংলাদেশের ‘সোনালি আঁশ’ পাট একসময় দেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি ছিল। সময়ের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি খাতের একের পর এক পাটকল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই ঐতিহ্যবাহী শিল্প অনেকটাই সংকটে পড়ে। এতে কমে যায় উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা, পাশাপাশি কর্মসংস্থান হারান হাজারো শ্রমিক।
বর্তমানে বন্ধ ও রুগ্ণ শিল্পকারখানা পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের অংশ হিসেবে বেসরকারি খাতের বন্ধ পাটকলগুলো পুনরুজ্জীবিত করতে কাজ করছে আবুল খায়ের গ্রুপ। নতুন কারখানা স্থাপনের পরিবর্তে বিদ্যমান অবকাঠামো ও উৎপাদন সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বন্ধ কারখানাগুলো সচল করার কৌশল নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এরই মধ্যে ফরিদপুরের রাজ্জাক জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, ফরিদপুর জুট মিল ও দামাশি জুট মিল, খুলনার আহিয়ান জুট মিল, কুষ্টিয়ার নাসির জুট মিল এবং মাগুরার এ আর জুট মিলে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিভিন্ন কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ ও রুগ্ণ হয়ে পড়া এসব কারখানা আবুল খায়ের গ্রুপের উদ্যোগে পুনরায় চালু করা হয়েছে। এসব কারখানায় উৎপাদিত পাটের সুতা ইতোমধ্যে তুরস্ক, চীনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি হচ্ছে।
আবুল খায়ের গ্রুপ এসব কারখানা থেকে বছরে প্রায় ৮০ হাজার মেট্রিক টন পাটের সুতা ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার রপ্তানি অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
পাশাপাশি সরকারি খাতের আরও ৩ থেকে ৪টি বন্ধ পাটকল পুনরায় চালুর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ।
গ্রুপটির হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড লিগ্যাল শেখ শাবাব আহমেদ বলেন, পাটপণ্যের ব্যবসা মূলধননির্ভর। দেশে বেসরকারি খাতের অনেক পাটকল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। তাই নতুন কারখানা স্থাপনের পরিবর্তে বিদ্যমান বন্ধ কারখানার অবকাঠামো ও সক্ষমতাকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে বন্ধ শিল্পগুলো পুনরায় উৎপাদনে ফিরছে, পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান ও রপ্তানির সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পাটের গুণগত মান আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। পরিবেশবান্ধব পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদাও ক্রমেই বাড়ছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আবুল খায়ের গ্রুপ পাট ও পাটজাত পণ্যে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরবর্তী লক্ষ্য হচ্ছে উচ্চমূল্যের ভ্যালু-অ্যাডেড পাটপণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানো।
শেখ শাবাব আহমেদ আরও বলেন, বন্ধ পাটকল পুনরুজ্জীবনের এই উদ্যোগ শুধু শিল্পকারখানা চালুর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, স্থানীয় অর্থনীতিতে গতিশীলতা এবং পাটচাষিদের জন্য একটি শক্তিশালী ও টেকসই বাজার তৈরিতে ভূমিকা রাখা সম্ভব।
বন্ধ কারখানাকে উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বাংলাদেশের সোনালি আঁশকে বিশ্ববাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই পাটশিল্পে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণের পথে এগোচ্ছে আবুল খায়ের গ্রুপ।
ভোরের আকাশ/জেআ