শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

সিন্ডিকেটের খপ্পরে পেঁয়াজের বাজার, দাম বেড়ে সেঞ্চুরি

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ৬ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৫৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ এবং বাজারে দেশীয় সরবরাহ কমের অজুহাতে খুচরা বাজারে দাম বেড়ে প্রায় সেঞ্চুরিতে পৌঁছে গেছে। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত। যেখানে এক সপ্তাহ আগেও মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হতো ৮০-৯০ টাকায়, এখন সেটা খুচরায় ১০০-১১০ টাকায় পৌঁছেছে।

বুধবার (৫ নভেম্বর) বাজার ঘুরে এমনই চিত্র দেখা গেছে।

বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরবরাহ ঘাটতির চেয়ে পরিকল্পিতভাবে সিন্ডিকেটের কারসাজিতেই এই দাম বাড়ানো হয়েছে। কারণ সরকারি হিসাবে দেশে পর্যাপ্ত পিঁয়াজ মজুত আছে-এমনকি চাহিদার চেয়ে উৎপাদনও বেশি। তারা মনে করেন, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাবই এখন মূল সমস্যা।

ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে মোকামে পাইকারিতে দাম বেড়ে গেছে পেঁয়াজের। এখন আমরা ৮০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দরে কিনে ৯০-৯৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। এখন মোকামে পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকা। তারপর খরচ আছে ফলে দেখা যাবে ১১০ টাকা কেজি বিক্রি করতে হবে। দাম বেশি থাকায় বিক্রিও কমে গেছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশে বছরে ৩৫ লাখ টন পিঁয়াজের চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩৮ লাখ টন। তবু বেশি মুনাফার লোভে পেঁয়াজ আমদানি করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে জমা পড়েছে প্রায় ৩ হাজার আমদানি অনুমতি (আইপি) আবেদন। স্থানীয় কৃষককে সুরক্ষা দিতে সেসব আইপি আবেদন স্থগিত রেখেছে মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় বলছে, দেশে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। তাই আমদানি করার কোনো প্রশ্নই আসে না। তা ছাড়া নভেম্বর মাসেই বাজারে নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব এমদাদ উল্লাহ মিয়ান বলেন, আমরা সবকিছু নজরদারির ওপর রাখছি। নিম্নচাপের প্রভাবে কয়েকটি উপজেলায় বৃষ্টি হয়েছিল। সেটাকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে হয়তো অনেক ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকটের চেষ্টা করছেন। বেশি সংকট হলে মজুত রাখা পিঁয়াজ বাজারে ছাড়া হবে। কৃষকের কাছে যে পিঁয়াজ মজুত আছে সেগুলো বাজারে ছাড়লেই দাম আবারও কমে আসবে।

এদিকে গতকাল ঢাকার কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব দোকানেই দাম বাড়ার চাপ। পাইকারিতে এক পাল্লা (৫ কেজি) পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪২০-৪৫০ টাকা, যা পাঁচ দিন আগেও ৩৩০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পিঁয়াজের দাম হঠাৎই বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, কয়েক দিনের ব্যবধানে এমন হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি তাদের দৈনন্দিন জীবনে নতুন চাপ তৈরি করেছে।

নাসরিন জাহান নামে এক গৃহিণী বলেন, গত সপ্তাহে ৮০ টাকায় পিঁয়াজ কিনেছি, আজ ১১০ টাকা চাইছে। এভাবে প্রতিদিন একেকটা জিনিসের দাম বাড়লে সংসার কেমনে চলে?

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, আড়তদাররা পাইকারি বাজারে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। শাহীন মিয়া নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা আড়ত থেকেই ৯০ টাকায় কিনছি। সরবরাহ কমে গেছে, তাই বিক্রি করছি ১০০ টাকায়। এই অবস্থায় আর কিছু করারও নেই। শান্তিনগর বাজারেও একই অবস্থা। সেখানকার মুদি দোকানদার রুবেল হোসেন বলেন, পাঁচ দিন আগেও ৮০ টাকায় বিক্রি করতাম। এখন খুচরায় ১১০ টাকার নিচে বিক্রি করা যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীদের একটি অংশ বলছেন, আমদানির অনুমতি না পেয়ে তারা বাধ্য হচ্ছেন বেশি দামে কিনতে। কিন্তু ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো মনে করছে, সেটি কৃত্রিম সংকট তৈরির অজুহাত।

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস মিয়া বলেন, বাজারে সরবরাহ কম। পেঁয়াজ যে পরিমাণ আসছে সেটা যথেষ্ট নয়। মন্ত্রণালয় থেকে আমদানি করার আবেদনও স্থগিত করে রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে এ সংকট তৈরি হয়েছে। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মজুত করে কৃত্রিম সংকট দেখাচ্ছেন। এ চক্রকে থামাতে হলে সরকারের কঠোর নজরদারি দরকার।

ভোরের আকাশ/মো.আ.

মূল্যবৃদ্ধিসারাদেশব্যবসায়ীসিন্ডিকেটপেঁয়াজ

শেয়ার করুন: