শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ছয় মাস ঘুরেও মেলেনি বিটুমিন, তদন্তে যমুনা অয়েলের জিএম

বাকি বিল্লাহ চৌধুরী, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৬, ৮:০৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ভোরের আকাশ
ভোরের আকাশ

বিটুমিন সরবরাহে দীর্ঘসূত্রতা, ঠিকাদারকে মাসের পর মাস ঘোরানো এবং অভিযোগের পরও দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ার ঘটনায় যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। একই সঙ্গে তাকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদার মহল ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানার স্বাক্ষরিত এক আদেশে জানানো হয়, যমুনা অয়েলের বিটুমিন কমিটির আহ্বায়ক ও মহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) মো. মাসুদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি গত এক বছরে বিটুমিন সরবরাহ কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম, পক্ষপাত বা অব্যবস্থাপনা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার “ইমপ্রুভমেন্ট অব মলানিহাট-রহমত এইচজিসি রোড ভায় আখানগর ইউপি অফিস” প্রকল্পের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় বিটুমিন সংগ্রহে ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর যমুনা অয়েল কোম্পানির আগ্রাবাদ কার্যালয়ে প্রায় ৪৮ লাখ টাকার পে-অর্ডার জমা দেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. আবদুস সামাদ। নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিটুমিন পাওয়ার কথা থাকলেও মাসের পর মাস কেটে গেলেও তিনি বরাদ্দ পাননি।

এদিকে প্রকল্পের কাজ থমকে যাওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ বাড়তে থাকে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের তাগাদা, শ্রমিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারার আশঙ্কায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন ঠিকাদার। অভিযোগ রয়েছে, বিটুমিন সংগ্রহের জন্য তিনি একাধিকবার যমুনা অয়েল কার্যালয়ে যোগাযোগ করলেও কোনো কার্যকর সমাধান পাননি।

দিনের পর দিন অপেক্ষা, তবুও মেলেনি বরাদ্দ

ভুক্তভোগী ঠিকাদার মো. আবদুস সামাদ অভিযোগ করেন, চলতি বছরের ৫ মে তিনি ঠাকুরগাঁও থেকে চট্টগ্রামে যমুনা অয়েলের প্রধান কার্যালয়ে আসেন। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তাকে বিটুমিন দেওয়া হয়নি। পরে বিটুমিন কমিটির আহ্বায়ক মো. মাসুদুল ইসলাম তাকে জানান, তার সিরিয়াল নম্বর অনেক পিছিয়ে থাকায় এখন সরবরাহ সম্ভব নয়।

তিনি দাবি করেন, “আমরা সরকারি প্রকল্পের কাজ করছি। সময়মতো কাজ শেষ না হলে ঠিকাদারকেই জবাবদিহি করতে হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় বিটুমিন না পাওয়ায় কাজ বন্ধের উপক্রম হয়েছিল। কয়েক মাস ধরে শুধু অফিসে অফিসে ঘুরেছি।”

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি স্থানীয় সরকার বিভাগের মন্ত্রীর নজরে নেওয়া হলে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন। কিন্তু এরপরও তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান হয়নি। বরং বিভিন্ন অজুহাতে সরবরাহ বিলম্বিত করা হয় বলে দাবি করেন অভিযোগকারী।

বাড়তি গুনতে হয়েছে লাখ লাখ টাকা

দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর অবশেষে বিটুমিন পেলেও ততদিনে বাজারমূল্য বেড়ে যায়। ফলে আগের দামের তুলনায় অতিরিক্ত প্রায় ২১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা জমা দিতে হয়েছে বলে জানান মো. আবদুস সামাদ।

তার ভাষায়, “যদি সময়মতো বিটুমিন পেতাম তাহলে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হতো না। দেরির কারণে প্রকল্প ব্যয়ও বেড়ে গেছে। এতে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।”

এ ঘটনায় ঠিকাদার মহলেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অনেকের অভিযোগ, বিটুমিন সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং সিরিয়াল ও বরাদ্দ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, প্রভাবশালী মহলের সুপারিশ ছাড়া অনেক সময় নির্ধারিত সময়ে বিটুমিন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

অভিযোগ অস্বীকার কর্মকর্তার

তবে অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন যমুনা অয়েলের জিএম মো. মাসুদুল ইসলাম। তিনি বলেন, শুরুতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জমা দেওয়া কাগজপত্রে ত্রুটি ছিল। কিছু নথিতে তারিখ উল্লেখ ছিল না এবং সময় বৃদ্ধির অনুমোদনের কাগজও পরে জমা দেওয়া হয়। এজন্য তাৎক্ষণিক বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও বলেন, “বিটুমিন সরবরাহ কোনো ব্যক্তির একক সিদ্ধান্তে হয় না। এটি একটি কমিটির মাধ্যমে এবং অ্যাপসভিত্তিক সিরিয়াল অনুসারে পরিচালিত হয়। মন্ত্রীর পক্ষ থেকে যোগাযোগের পর বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করা হয়েছে।”

একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে অফিস রাজনীতির কারণেও অভিযোগ উত্থাপন করা হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তদন্তে নামছে বিপিসি

আরও পড়ুন

ফারাক্কা চুক্তিই বলে দেবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকবে কি না: মির্জা ফখরুল

বিষয়টি নিয়ে বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা বলেন, বিটুমিন সরবরাহে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে সময়মতো নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ না হলে শুধু প্রকল্প ব্যয়ই বাড়ে না, উন্নয়ন কাজও মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। তাই বিটুমিন সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভোরের আকাশ/এনউব

তদন্তে যমুনা অয়েলের

শেয়ার করুন: