শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

দেশীয় তুলা উৎপাদন বাড়াতে সরকারের নতুন রোডম্যাপ

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬, ৭:৫৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দেশীয় তুলা উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের কাঁচামালের জোগান নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনার আওতায় ২০৫০ সালের মধ্যে দেশে তুলার আঁশ উৎপাদন ১৯ লাখ গাঁটে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২ লাখ ২৪ হাজার গাঁট তুলার আঁশ উৎপাদিত হয়, যা দেশের মোট চাহিদার মাত্র ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ পূরণ করে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এ উৎপাদন ৫ লাখ গাঁটে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে ১৯ লাখ গাঁটে উন্নীত করা হবে।

তুলা উন্নয়ন বোর্ডের (সিডিবি) উপ-পরিচালক কুতুব উদ্দিন জানান, হাইব্রিড তুলার নতুন জাত উদ্ভাবন, চাষের আওতা বৃদ্ধি এবং কৃষকদের প্রণোদনা প্রদানসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উপযুক্ত জমির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে দেশে তুলার উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব। এতে আমদানিকৃত তুলার ওপর নির্ভরতা কমবে এবং তৈরি পোশাক শিল্পের সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

চাষের সম্ভাবনা ও সরকারের পরিকল্পনা

সিডিবির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে তুলা চাষ হচ্ছে। তবে প্রায় ২ লাখ হেক্টর জমিকে তুলা চাষের আওতায় আনার সুযোগ রয়েছে।

সরকার চরাঞ্চল, রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চল এবং পাহাড়ি এলাকার খাদ্যশস্য উৎপাদনের জন্য অনুপযোগী জমিতে তুলা চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, এতে খাদ্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব না ফেলেই তুলার উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে।

আমদানিনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য

বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পে প্রতি বছর প্রায় ৯০ লাখ গাঁট কাঁচা তুলার প্রয়োজন হয়। এ চাহিদা পূরণে বছরে ৭৫ থেকে ৮০ লাখ গাঁট তুলা আমদানি করতে হয়।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৩ লাখ গাঁট কাঁচা তুলা আমদানি করা হয়েছে।

কর্মকর্তাদের মতে, শুধু ২০৩০ সালের মধ্যে দেশীয় তুলার আঁশ উৎপাদন ৫ লাখ গাঁটে উন্নীত করা গেলে বছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব হবে।

কৃষকদের জন্য প্রণোদনা

তুলা উৎপাদন বাড়াতে সরকার কৃষকদের জন্য বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রণোদনা প্রদান, ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্তি এবং সহজ কৃষিঋণ সুবিধা।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে তুলা চাষে প্রণোদনা হিসেবে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

তুলা উন্নয়ন বোর্ডের মৃত্তিকা উর্বরতা ও পানি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ড. এম গাজী গোলাম মুর্তুজা জানান, দেশের ২৬টি জেলার প্রায় ২৫ হাজার প্রান্তিক কৃষক এক বিঘা জমিতে আন্তঃফসল হিসেবে তুলা চাষের জন্য উন্নত বীজ, সার ও কীটনাশক পাবেন।

তার মতে, উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে কৃষকদের লাভ বাড়ানোই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।

চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

সিডিবির উপ-পরিচালক ড. মো. তাসদিকুর রহমান বলেন, তুলা চাষে দীর্ঘ উৎপাদনকাল, চাষযোগ্য জমির সীমাবদ্ধতা, জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, বাজারমূল্যের ওঠানামা এবং কীটপতঙ্গের আক্রমণ বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে।

তিনি এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নীতিগত সহায়তা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, গবেষণা এবং সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সিডিবির নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল আমিন জানান, এক বিঘা জমিতে তুলা উৎপাদনে প্রায় ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হলেও কৃষক প্রায় ১৫ মণ কাঁচা তুলা উৎপাদন করে প্রায় ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন।

তিনি বলেন, দেশীয়ভাবে উৎপাদিত প্রতি কেজি তুলা সরকারের প্রায় ৪ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ আমদানি ব্যয় সাশ্রয় করে। ফলে তুলা চাষ কৃষক এবং জাতীয় অর্থনীতি—উভয়ের জন্যই লাভজনক।

ভবিষ্যৎ লক্ষ্য

আরও পড়ুন

পরশুরাম সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা

বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত বীজ প্রযুক্তি, আধুনিক চাষাবাদ, চাষের আওতা বৃদ্ধি এবং কৃষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে আগামী কয়েক দশকে বাংলাদেশ তুলা উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে পারবে।

এর ফলে আমদানিনির্ভরতা কমার পাশাপাশি দেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামালের জোগান আরও শক্তিশালী হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিও উপকৃত হবে।

ভোরের আকাশ/জেআ

তুলা চাষবস্ত্র ও পোশাক শিল্প

শেয়ার করুন: