‘মেহজাবীনের জায়গায় কেউ যেতে পারে না’: তটিনী

তানজিম সাইয়ারা তটিনী ছোট পর্দার একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী। অভিনয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করার পাশাপাশি প্রায়ই তাঁকে শুনতে হয়, তিনি নাকি অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর মতো। এমন তুলনা ভালো লাগলেও নিজেকে কখনো মেহজাবীনের জায়গায় কল্পনা করেন না তটিনী। বরং মেহজাবীনের কাজ, পরিশ্রম ও ক্যারিয়ার থেকে শেখার বিষয়টিকেই গুরুত্ব দেন তিনি।
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে মেহজাবীনের সঙ্গে তুলনা প্রসঙ্গে কথা বলেন তটিনী। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের মন্তব্য তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলে না; বরং নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে আরও সচেতনভাবে ভাবতে উৎসাহিত করে।
তটিনী বলেন, “অনেকেই বলেন, তুমি মেহজাবীনের মতো, মেহজাবীনের জায়গায় যাচ্ছ। আসলে কেউ কারও জায়গায় যেতে পারে না। আমি কারও সঙ্গে নিজেকে তুলনা করব না, কারও জায়গায় নিজেকে ভাবাটাও ঠিক নয়। শিল্পাঙ্গনে এভাবে তুলনা হয় না। মেহজাবীন আপু অনেক বড় ও গুণী একজন শিল্পী। তবে তাঁর সঙ্গে তুলনা করলে ভালো লাগে। তাঁর মতো গুণী অভিনেত্রীর সঙ্গে তুলনা হওয়াটাও বড় পাওয়া।”
তটিনীর বক্তব্যে স্পষ্ট, মেহজাবীনের সঙ্গে তুলনাকে তিনি প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখেন না। বরং তাঁর কাছে মেহজাবীনের দীর্ঘ অভিনয়জীবন, কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও পেশাদারত্ব নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।
এ প্রসঙ্গে তটিনী আরও বলেন, “আমাদের জেনারেশন বা পরের জেনারেশনের জন্য মেহজাবীন আপু একটা উদাহরণ। তাঁর ক্যারিয়ারে এগিয়ে চলা, কাজের প্রতি সততা, পরিশ্রম ও অভিজ্ঞতা—সবকিছু থেকেই আমাদের শেখা উচিত।”
অভিনয়ে আসার পর থেকেই মেহজাবীনকে অনুসরণ করার পরামর্শ পেয়েছেন তটিনী। তবে সেই অনুসরণ শুধু অভিনয় কিংবা ক্যারিয়ারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; মেহজাবীনের ব্যক্তিত্ব ও আচরণও ছিল আলোচনায়।
তটিনী বলেন, “আমি যখন অভিনয়ে আসি, তখনই অনেকে আমাকে একটা কথাই বলেছিলেন—যদি কারও মতো হতে চাও, তাহলে মেহজাবীনকে ফলো করো। শুধু ক্যারিয়ার নয়, মানুষ হিসেবে তিনি কেমন, তাঁর আচার-আচরণ—সবকিছু অনুসরণ করার কথা বলতেন। কারণ, সিনিয়রদের কাছ থেকেই আমাদের অনুপ্রেরণা নেওয়া উচিত।”
মেহজাবীনের সঙ্গে তুলনাকে নিজের অর্জন হিসেবে দেখলেও তটিনী মনে করেন, প্রত্যেক শিল্পীরই নিজস্ব পরিচয় ও স্বকীয়তা রয়েছে। তাই অন্যের জায়গা নেওয়ার চেয়ে নিজের কাজের মাধ্যমে আলাদা অবস্থান তৈরি করাই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ভোরের আকাশ/জেআ