জন্মদিনে বিশেষ আয়োজনে সাবিনা ইয়াসমিন

দেশের জীবন্ত কিংবদন্তি ‘প্লে-ব্যাক সম্রাজ্ঞী’খ্যাত কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন। কোকিলকণ্ঠী কিংবা মিষ্টি গায়িকা—বিভিন্ন উপমায় পরিচিত এই বরেণ্য শিল্পী তাঁর কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ করেছেন প্রজন্মের পর প্রজন্মের শ্রোতাকে।
নায়িকা কবরী থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের অপু বিশ্বাস, শবনম বুবলীসহ চলচ্চিত্রের অসংখ্য নায়িকার ঠোঁটে শোভা পেয়েছে সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠ। হাজারো গান গেয়ে বাংলা সংগীতের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করা এই শিল্পীর জন্মদিন ৪ সেপ্টেম্বর। ১৯৫৪ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
জন্মদিন উপলক্ষে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ২০ মিনিটে চ্যানেল আইয়ে প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘শুধু গান গেয়ে পরিচয়’। অনুষ্ঠানে সিনিয়র চলচ্চিত্র সাংবাদিক আবদুর রহমানের সঙ্গে আলাপচারিতায় অংশ নেবেন সাবিনা ইয়াসমিন। এরই মধ্যে অনুষ্ঠানটির দৃশ্য ধারণের কাজ শেষ হয়েছে। পরদিন শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় অনুষ্ঠানটি পুনঃপ্রচার করা হবে।
মাত্র সাত বছর বয়সে মঞ্চে গান শুরু করেন সাবিনা ইয়াসমিন। এরপর পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা গানের জগতে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। বিশেষ করে দেশের গান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করা গানে তাঁর অবদান শ্রোতাদের কাছে আজও অনন্য।
১৯৬২ সালে এহতেশাম পরিচালিত ‘নতুন সুর’ সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে প্রথম গান গাওয়ার সুযোগ পান সাবিনা ইয়াসমিন। ১৯৬৭ সালে আমজাদ হোসেন ও নুরুল হক বাচ্চু পরিচালিত ‘আগুন নিয়ে খেলা’ চলচ্চিত্রে প্রথম প্লেব্যাক করেন তিনি। এরপর অসংখ্য চলচ্চিত্রে কণ্ঠ দিয়েছেন এই শিল্পী।
১৯৭১ সালে নঈম গহরের লেখা ও আজাদ রহমানের সুরে সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠে প্রকাশিত ‘জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো’ গানটি মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। দেশাত্মবোধক গানেও তাঁর অসামান্য অবদান রয়েছে।
সাবিনা ইয়াসমিনের গাওয়া গানের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। তাঁর জনপ্রিয় গানের তালিকায় রয়েছে—‘একবার যেতে দে না’, ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’, ‘কত সাধনায় এমন ভাগ্য মেলে’, ‘ও মাঝি নাও ছাইড়া দে’, ‘সুন্দর সুবর্ণ’, ‘এই মন তোমাকে দিলাম’, ‘মনেরই রঙে রাঙাবো’, ‘তুমি বড় ভাগ্যবতী’, ‘ও আমার রসিয়া বন্ধু রে’, ‘এই পৃথিবীর পরে’, ‘সেই রেললাইনের ধারে’, ‘আমার হৃদয়ের আয়না’, ‘তুমি যে আমার কবিতা’, ‘আমি রজনীগন্ধা ফুলের মতো’, ‘বাবা বলে গেলো’ ও ‘একি সোনার আলোয়’সহ অসংখ্য গান।
১৯৭৫ সালে ‘সুজন সখী’ সিনেমায় গান গাওয়ার জন্য প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান সাবিনা ইয়াসমিন। দীর্ঘ সংগীতজীবনে শ্রেষ্ঠ কণ্ঠশিল্পী হিসেবে মোট ১৪ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন তিনি, যা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ইতিহাসে অনন্য রেকর্ড।
এ ছাড়া সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছেন। ১৯৮৫ সালে সংগীতে অবদানের জন্য ভারত থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। এ ছাড়া উত্তম কুমার পুরস্কার, ছয়বার বাচসাস পুরস্কারসহ দেশ-বিদেশে অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন এই কিংবদন্তি শিল্পী।
ভোরের আকাশ/জেআ