সুনিধি-ঈশানের কণ্ঠে ‘পাতার বাঁশরি’

কোক স্টুডিও বাংলার চতুর্থ সিজনের তৃতীয় গান ‘পাতার বাঁশরি’ প্রকাশের পর থেকেই শ্রোতাদের প্রশংসায় ভাসছে। ঈশান মজুমদার ও সুনিধি নায়কের কণ্ঠে গাওয়া গানটি অনেকের কাছে ফিরিয়ে এনেছে বাংলা সংগীত ও চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগের আবহ।
ইউটিউবে প্রকাশের পর থেকেই গানটির মন্তব্যের ঘর ভরে উঠেছে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ায়। অনেক শ্রোতা এটিকে ‘স্বর্ণযুগের বাংলা সিনেমার অনুভূতি’ বলে উল্লেখ করেছেন। কেউ কেউ আবার লিখেছেন, গানটি শুনলে মনে হয় যেন ঐতিহাসিক পানাম নগরের কোনো জমিদারবাড়ির গানের আসরে বসে আছেন।
কোক স্টুডিও বাংলার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘পাতার বাঁশরি’ মূলত একটি প্রেমের গান, যেখানে ইতিহাস, লোকজ আবহ ও সুরের মেলবন্ধন ঘটেছে। গানের গল্পে একজন প্রেমিকা প্রিয় মানুষের বাঁশির সুরে বারবার আকৃষ্ট হন। দূরে সরে যেতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত ভালোবাসার টানেই ফিরে আসেন। সেই অর্থে ‘পাতার বাঁশরি’ শুধু প্রেমের নয়, অপেক্ষা ও অনুভূতিরও এক সুরেলা উপাখ্যান।
গানটির কথা ও সুর করেছেন ঈশান মজুমদার। গীত রচনায় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ইলিয়াস হোসেন। সংগীতায়োজন করেছেন অদিত রহমান। আর কোক স্টুডিও বাংলার চলতি সিজনের কিউরেটর ও প্রযোজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শায়ান চৌধুরী অর্ণব।
এর আগে ‘দাঁড়ালে দুয়ারে’ গান দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন ঈশান। এবার সুনিধি নায়কের সঙ্গে দ্বৈত কণ্ঠে নতুন এই পরিবেশনা শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছে। সুনিধিও কোক স্টুডিও বাংলার পরিচিত শিল্পী। এর আগে তিনি শায়ান চৌধুরী অর্ণবের সঙ্গে ‘সন্ধ্যা তারা’ গানেও কণ্ঠ দিয়েছিলেন।
ভিডিও নির্মাণেও রাখা হয়েছে ভিন্নতা। কোক স্টুডিওর প্রচলিত স্টুডিও সেটের পরিবর্তে ‘পাতার বাঁশরি’র মিউজিক ভিডিও ধারণ করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহাসিক সোনারগাঁওয়ের পানাম নগরে। শতবর্ষী স্থাপনা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ভিডিওটিতে যোগ করেছে ঐতিহ্যবাহী এক নান্দনিকতা।
গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় প্রকাশিত গানটি মাত্র ১২ ঘণ্টায় ইউটিউবে প্রায় ২ লাখ ৭১ হাজার ভিউ অর্জন করেছে, যা গানটির প্রতি শ্রোতাদের আগ্রহেরই প্রতিফলন।
ভোরের আকাশ/জেআ