জনসমুদ্রে থেকেও অচেনা সুপারস্টার রজনীকান্ত

দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের সুপারস্টার রজনীকান্ত-কে ঘিরে রয়েছে ভক্তদের অসাধারণ উন্মাদনা। পর্দায় তার স্টাইল, ক্যারিশমা আর উপস্থিতি দেখতেই প্রেক্ষাগৃহে ভিড় করেন লাখো দর্শক। তবে সেই মহাতারকাকেই একবার এমন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল, যেখানে কেউ তাকে খুব একটা খেয়ালই করেনি—এমনটাই জানিয়েছেন তিনি নিজেই।
সম্প্রতি আধ্যাত্মিক ধর্মগুরু শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর-এর ‘আর্ট অব লিভিং’ ফাউন্ডেশনের ৪৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বেঙ্গালুরুতে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেন রজনীকান্ত। সেখানেই নিজের জীবনের এই ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন তিনি।
রজনীকান্ত জানান, আশ্রমে যাওয়ার আগে তার ধারণা ছিল, অন্যান্য জায়গার মতো সেখানেও মানুষ তাকে ঘিরে ধরবে বা এক নজর দেখার জন্য ভিড় করবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছিল ঠিক উল্টো ঘটনা। তার ভাষায়, সেখানে উপস্থিত থাকা বহু মানুষ, এমনকি একই রাজ্যের লোকজন থাকলেও কেউই তার দিকে বিশেষ মনোযোগ দেয়নি।
তিনি বলেন, “আমি ভেবেছিলাম অন্য জায়গার মতো এখানেও মানুষ আমাকে একবার দেখার জন্য আগ্রহী হবে। সেখানে তামিলনাড়ুরও অনেক মানুষ ছিলেন। কিন্তু শত শত মানুষের ভিড়েও কেউ আমার দিকে ফিরেও তাকায়নি। তখনই বুঝেছি আধ্যাত্মিকতার শক্তি কতটা গভীর।”
এই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি উপলব্ধি করেন, প্রকৃত অর্থে স্টারডম বা খ্যাতি কী। তার মতে, সেই মুহূর্তে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন সত্যিকারের মানসিক শান্তি ও আধ্যাত্মিকতার গুরুত্ব।
আশ্রমে কাটানো সময়কে জীবনের অন্যতম সুন্দর অভিজ্ঞতা বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সবুজ প্রকৃতি, জলাধার আর প্রাণীদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে তিনি মুগ্ধ হন। মজার ছলে তিনি আরও জানান, সেখানে থাকা এক ঘোড়ার নামও ছিল ‘রজনী’।
একসময় কুলি এবং বাস কন্ডাক্টর হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা এই মানুষটি আজ কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক। তবুও সাধারণ জীবনযাপন, বিনয় আর মাটির কাছাকাছি থাকার জন্য বারবার আলোচনায় আসেন এই তারকা।
ভোরের আকাশ/সু.পা