দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী ডলি জহুরের ৭৩তম জন্মদিন আজ

কখনো মমতাময়ী মা, কখনো প্রতিবাদী গৃহিণী, আবার কখনো মধ্যবিত্ত পরিবারের চিরচেনা ‘নিলু ভাবী’— বহুমাত্রিক অভিনয় দিয়ে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে তুলেছেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী ডলি জহুর। আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই) তার জন্মদিন। জীবনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে তিনি পা রাখলেন ৭৩ বছরে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৭৪-৭৫ সালের দিকে অভিনয়ে হাতেখড়ি হয় ডলি জহুরের। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে নজরে আসেন তিনি। পরে নাট্যব্যক্তিত্ব ম. হামিদের হাত ধরে যোগ দেন ‘নাট্যচক্র’-এ। সেখানে তার প্রথম মঞ্চনাটক ছিল ‘লেট দেয়ার বি লাইট’। পরবর্তীতে বন্ধু ও জীবনসঙ্গী জহুরুল ইসলামের সঙ্গে যুক্ত হন ‘কথক নাট্যগোষ্ঠী’-তে এবং মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্প অবলম্বনে নির্মিত ‘প্রাগৈতিহাসিক’ নাটকে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়ান।
মঞ্চনাটকে তার পথচলা আরও বিস্তৃত হয় মামুনুর রশীদের ‘বাংলা থিয়েটার’-এর ‘মানুষ’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে। বিদেশেও এই নাটকের প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে প্রশংসিত হন তিনি। ওই সফরেই ‘আরণ্যক’ নাট্যদলের ‘ইবলিশ’ নাটকে জরুরি প্রয়োজনে মঞ্চে ওঠেন। দেশে ফিরে ‘আরণ্যক’-এর আলোচিত ‘ময়ূর সিংহাসন’ নাটকে ‘প্রিন্সেস বলাকা’ চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে দলটির সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুক্ত হন।

মঞ্চের সাফল্যের পর ছোট পর্দায় অভিষেক ঘটে ডলি জহুরের। ১৯৮৫ সালে হুমায়ূন আহমেদের লেখা প্রথম ধারাবাহিক নাটক ‘এইসব দিনরাত্রি’-তে ‘নিলু ভাবী’ চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি সারা দেশে জনপ্রিয়তা পান। এরপর হুমায়ূন আহমেদের ‘জননী’ নাটকে নাম ভূমিকায় অভিনয় করে দর্শকদের আবেগাপ্লুত করেন।
টেলিভিশনের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও নিজের শক্ত অবস্থান গড়ে তোলেন ডলি জহুর। তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘অসাধারণ’। এরপর তিনি ১৬০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ১৯৯২ সালে হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘শঙ্খনীল কারাগার’ চলচ্চিত্রে ‘রাবেয়া’ চরিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। একইভাবে ‘আগুনের পরশমণি’ চলচ্চিত্রেও তার অভিনয় দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়।
২০০৬ সালে কাজী মোরশেদ পরিচালিত ‘ঘানি’ চলচ্চিত্রে ‘রোকেয়া’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে দ্বিতীয়বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২১ সালে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননা লাভ করেন।
হুমায়ূন আহমেদের নাটকের বাইরে বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য প্রযোজনাতেও অভিনয় করেছেন ডলি জহুর। ২০১৫ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অঞ্জন আইচ রচিত ও পরিচালিত বিশেষ টেলিফিল্ম ‘শেষের রাত্রি’-তে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।
পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে সমান দক্ষতায় অভিনয় করে ডলি জহুর নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বাংলাদেশের অভিনয়জগতের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে। জন্মদিনে এই গুণী শিল্পীর প্রতি রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।
ভোরের আকাশ/সু.পা