সেন্সর ও কূটনৈতিক জটিলতায় অনিশ্চিত সালমানের ‘মাতৃভূমি’

ক্রমেই বাড়ছে বলিউড অভিনেতা সালমান খানের বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘Maatrubhumi: May War Rest in Peace’ ঘিরে অনিশ্চয়তা। প্রথমে ১৭ এপ্রিল মুক্তির কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত ছবিটি মুক্তি পায়নি। শোনা যাচ্ছে, ছবির একাধিক অংশ নতুন করে শুট করা হচ্ছে। শুধু এই ছবিই নয়, ভারত-চীন সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে নির্মিত আরও কয়েকটি ছবিও একই সমস্যার মুখে পড়েছে।
অভিনেত্রী ভাগ্যশ্রীর স্বামী ও প্রযোজক হিমালয় দাসানি তাঁর ছেলে অভিনেতা অভিমুন্য দাসানিকে নিয়ে ‘দ্য লায়ন অফ গালওয়ান’ নামে একটি ছবি নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিলেন। ছবিটি ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষে শহিদ হওয়া বীর চক্র প্রাপক সৈনিক গুরতেজ সিংয়ের জীবনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়ার কথা ছিল। তবে আপাতত এই প্রজেক্টের কাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে হিমালয় দাসানি বলেন, “এখন ভারত-চীন সম্পর্ক আগের তুলনায় অনেক ভালো। তাই গল্পটা নতুন করে ভাবতে হবে। স্ক্রিপ্ট তৈরির পর শুটিংয়ের আগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে জমা দিতে হবে। সেখান থেকে জানানো হয়েছে, ছবিতে চীন-বিরোধী কোনো বিষয় রাখা যাবে না।”
তিনি আরও বলেন, “যদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্রই না পাই, তাহলে গালওয়ানের গল্প বলার কোনো মানে হয় না। কারণ সংঘর্ষের বাস্তব দিকই যদি না দেখানো যায়, তাহলে ছবিটি তৈরির উদ্দেশ্য থাকে না। তাই আপাতত প্রজেক্টটি স্থগিত রাখা হয়েছে।”
গত বছরের শেষ দিকে নিজের জন্মদিনে ছবিটির প্রথম ঝলক প্রকাশ করেছিলেন সালমান খান। সেখানে তাঁকে লাদাখ সীমান্তে এক সেনা কর্মকর্তার চরিত্রে দেখা যায়। তবে টিজার প্রকাশের পরই চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘Global Times’ অভিযোগ তোলে যে ছবিতে তথ্য বিকৃত করা হয়েছে। পরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানায়, এ ধরনের সিনেমা নির্মাণের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।
এখন শোনা যাচ্ছে, ছবির বেশ কিছু অংশ নতুন করে শুট করা হচ্ছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, গালওয়ানের উল্লেখ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় নির্মাতারা আর কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। তাই ছবিতে সরাসরি চীনের নামও ব্যবহার করা হচ্ছে না; এর বদলে পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত দেওয়ার কৌশল নেওয়া হচ্ছে।
সূত্রের দাবি, ছবিটি এখনো সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পায়নি। তবে নির্মাতারা এটি ওটিটিতে নয়, প্রেক্ষাগৃহেই মুক্তি দিতে চান। যদিও সেন্সর ছাড়াও ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানা গেছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা