শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আজকের প্রজন্মের চোখে: বিশ্বায়ন, মানবতা ও সংস্কৃতির নতুন পাঠ

বিল্লাল বিন কাশেম

প্রকাশ : ৯ মে ২০২৬, ৮:১৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির আকাশে এক অনন্য নক্ষত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি কেবল একজন কবি নন- তিনি একাধারে দার্শনিক, শিক্ষাবিদ, সংগীতজ্ঞ, নাট্যকার, চিত্রকর এবং সর্বোপরি একজন বিশ্বমানব। প্রতি বছর তাঁর জন্মবার্ষিকী আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরে- আমরা কি সত্যিই তাঁকে বুঝতে পেরেছি? নাকি কেবল আনুষ্ঠানিকতা আর সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্যেই তাঁকে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছি?

বর্তমান বিশ্ব এক জটিল সময়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নয়ন, বিশ্বায়নের প্রসার, এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তার মানুষকে যেমন কাছাকাছি এনেছে, তেমনি তৈরি করেছে এক ধরনের মানসিক দূরত্ব। এই প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রনাথের চিন্তা ও দর্শন নতুনভাবে আলোচনায় আসা জরুরি।

রবীন্দ্রনাথের “বিশ্বমানব” ধারণা ছিল অত্যন্ত গভীর ও সময়োত্তীর্ণ। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষ কোনো একটি জাতি, ধর্ম বা ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সে একটি বৃহত্তর মানবসমাজের অংশ। আজকের বিশ্বায়নের যুগে এই ধারণাটি আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বিশ্বায়নের নামে অনেক সময় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও বৈষম্যও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে রবীন্দ্রনাথ আমাদের শেখান- নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধারণ করে বিশ্বকে গ্রহণ করতে।

আজকের তরুণ প্রজন্ম প্রযুক্তিনির্ভর। তাদের হাতে স্মার্টফোন, সামনে ইন্টারনেটের বিশাল দুনিয়া। কিন্তু এই প্রযুক্তির ভিড়ে অনেক সময় তারা হারিয়ে ফেলছে মানবিক মূল্যবোধ, সম্পর্কের গভীরতা এবং প্রকৃতির প্রতি সংবেদনশীলতা। রবীন্দ্রনাথ তাঁর সাহিত্য ও সংগীতে বারবার প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের গভীর সম্পর্কের কথা বলেছেন। “আমার সোনার বাংলা” থেকে শুরু করে “গীতাঞ্জলি” -সবখানেই প্রকৃতি ও মানবতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন দেখা যায়। আজকের প্রজন্ম যদি তাঁর এই দৃষ্টিভঙ্গি উপলব্ধি করতে পারে, তবে প্রযুক্তির সঙ্গে মানবিকতার একটি সুন্দর সমন্বয় সম্ভব।

শিক্ষা সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অত্যন্ত প্রগতিশীল। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা কেবল পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়; বরং তা হতে হবে মুক্ত, সৃজনশীল এবং প্রকৃতিনির্ভর। তাঁর প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতন ছিল এই চিন্তার বাস্তব রূপ। আজকের শিক্ষাব্যবস্থা যেখানে অনেকাংশে পরীক্ষানির্ভর ও প্রতিযোগিতামূলক, সেখানে রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা দর্শন আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়- আমরা কি সত্যিই মানুষ তৈরি করছি, নাকি কেবল পেশাজীবী তৈরি করছি?

সংস্কৃতির ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন এক অনন্য দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী। তিনি কখনো অন্ধ অনুকরণে বিশ্বাস করেননি। বরং তিনি চেয়েছিলেন, আমরা যেন নিজের সংস্কৃতিকে ভালোবাসি, তাকে লালন করি, এবং সেই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে বিশ্বসংস্কৃতির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করি। বর্তমান সময়ে, যখন অনেক তরুণ বিদেশি সংস্কৃতির প্রতি অতিমাত্রায় আকৃষ্ট হয়ে নিজেদের শিকড় ভুলতে বসেছে, তখন রবীন্দ্রনাথের এই চিন্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে একটি বাস্তবতা অস্বীকার করা যায় না- আজকের অনেক তরুণের কাছে রবীন্দ্রনাথ কিছুটা দূরের মানুষ। তাঁর ভাষা, ভাব এবং সময়কাল অনেকের কাছে জটিল বলে মনে হয়। এর জন্য দায়ী আংশিকভাবে আমাদের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক উপস্থাপনাও। আমরা যদি রবীন্দ্রনাথকে নতুন ভাষায়, নতুন উপস্থাপনায় তরুণদের কাছে তুলে ধরতে পারি, তবে তিনি আবারও তাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারবেন।

রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য আমাদের শেখায় ভালোবাসতে- মানুষকে, প্রকৃতিকে, দেশকে। তাঁর দর্শন আমাদের শেখায় সহনশীলতা, উদারতা এবং মানবিকতা। এই মূল্যবোধগুলো আজকের পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। ধর্মীয় উগ্রতা, জাতিগত বিভাজন এবং সামাজিক বৈষম্যের এই সময়ে রবীন্দ্রনাথের চিন্তা আমাদের জন্য এক আলোর দিশা হতে পারে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকী তাই কেবল একটি স্মরণ দিবস নয়; এটি আমাদের জন্য আত্মসমালোচনার একটি সুযোগ। আমরা তাঁর কাছ থেকে কী শিখেছি? তাঁর দর্শনকে আমাদের জীবনে কতটা প্রয়োগ করতে পেরেছি? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজাই হওয়া উচিত এই দিনের মূল উদ্দেশ্য।

আরও পড়ুন

হামে মৃত্যু সহ অব্যবস্থাপনার তদন্ত চলছে: স্বাস্থ্য সচিব

শেষ পর্যন্ত বলা যায়, রবীন্দ্রনাথ কখনো পুরোনো হন না। সময় বদলায়, প্রজন্ম বদলায়, কিন্তু তাঁর চিন্তা ও দর্শন চিরকাল প্রাসঙ্গিক থাকে। আজকের প্রজন্ম যদি তাঁকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে পারে, তবে তারা শুধু একজন কবিকে নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনদর্শনকে খুঁজে পাবে।

রবীন্দ্রনাথকে জানতে হলে কেবল তাঁর লেখা পড়লেই হবে না- তাঁকে অনুভব করতে হবে, উপলব্ধি করতে হবে। তবেই তাঁর জন্মবার্ষিকী পালন সত্যিকার অর্থে অর্থবহ হয়ে উঠবে।

ভোরের আকাশ/এনএস

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

শেয়ার করুন: