জৈব পদ্ধতি গ্রহণ করুন, বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করুন

বাংলাদেশে সবজি চাষে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার এক ভয়ংকর পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষা করা সবজির নমুনার প্রায় ২৯ শতাংশে কীটনাশকের অবশেষ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৭৩ শতাংশ ক্ষেত্রে তা সর্বোচ্চ অনুমোদিত মাত্রা (MRL) ছাড়িয়ে গেছে।
শসা, টমেটো, ফুলকপি, বেগুন, বিনসহ বিভিন্ন সবজিতে ক্লোরপাইরিফস, ডাইমেথোয়েট ও ডায়াজিননের মতো অত্যন্ত বিষাক্ত কীটনাশকের উপস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে আমাদের খাদ্যে বিষ ও ভেজালের মাত্রা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অতিরিক্ত ইউরিয়া ব্যবহারের প্রবণতা।
চাষিরা যদি সবজি চাষে একমাত্র ইউরিয়ার অতিনির্ভরতা কমান, তাহলে বিষনির্ভর কৃষি ব্যবসার একটি বড় অংশই কমে আসবে। কিন্তু বাস্তবে এই অপব্যবহার এখনও চলছে। এর ফলে মাটির জৈব উপাদান কমে যাচ্ছে, উপকারী অণুজীব ধ্বংস হচ্ছে এবং ভূগর্ভস্থ পানিও দূষিত হচ্ছে।
সমাধান সহজ, কিন্তু জরুরি
জৈব ও সুষম পদ্ধতি গ্রহণ করলে এই সংকট অনেকাংশে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। নাইট্রেটভিত্তিক সার, অর্গানিক লিকুইড সার এবং MKP-সহ সলুবল সার সহজলভ্য করতে হবে। চাষিরা নিজস্ব উদ্যোগে ড্রিপ ইরিগেশন সিস্টেম স্থাপন করতেও আগ্রহী—শুধু প্রয়োজন সরকারি সহায়তা ও ভ্যাট সুবিধা।
একইসাথে মানসম্পন্ন ও নিরাপদ কীটনাশকের ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং সঠিক pH বজায় রাখার মাধ্যমে খাদ্যে বিষাক্ত উপাদানের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। কম্পোস্ট, সবুজ সার, ফসল আবর্তন ও জৈব কীটনাশকের ব্যবহার মাটির স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এখনই সময়
রাসায়নিকের অন্ধ নির্ভরতা কমিয়ে টেকসই ও জৈব কৃষি ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এখনই। সরকার, কৃষি বিভাগ ও কৃষকদের সম্মিলিত উদ্যোগেই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব। জৈব পদ্ধতি গ্রহণ করুন, বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করুন। আজকের বিষাক্ত সবজি আগামী প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ হুমকি।
মিনহাজ উদ্দীন আত্তার
কৃষি উদ্যোক্তা, সংগঠক ও প্রশিক্ষক