ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়েতে যুক্ত হচ্ছে ৩ নতুন সংযোগ

দীর্ঘ ছয় মাস ধরে অনিশ্চয়তায় থাকা ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের জট কাটতে যাচ্ছে। প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।
আগামী বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিতব্য একনেক সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। পরিকল্পনা বিভাগ জানিয়েছে, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ মোট ৯টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকল্পে যুক্ত হচ্ছে নতুন তিন সংযোগ
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সংশোধিত প্রস্তাবে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ যুক্ত করা হয়েছে। এগুলো হলো—
- বাইপাইল ইন্টারসেকশন
- হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল
- নির্মাণাধীন এমআরটি লাইন-১ (পাতাল মেট্রোরেল)
এসব সংযোজনের ফলে প্রকল্পটির ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
মোট ব্যয় দাঁড়াবে ২৬ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা
প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৬ হাজার ৯০১ কোটি ৩২ লাখ টাকা। পরে প্রথম সংশোধনীতে তা বাড়িয়ে ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা করা হয়।
বর্তমান দ্বিতীয় সংশোধনীতে আরও ৯ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়াবে ২৬ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বৃদ্ধি, ভ্যাট ও করের হার বৃদ্ধি, ইউটিলিটি স্থানান্তর, ভূমি অধিগ্রহণ এবং পরামর্শক সেবার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ব্যয় পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব
২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের জুনে। পরে ঋণচুক্তি বিলম্বিত হওয়ায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়।
বর্তমানে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে আরও চার বছর সময় চেয়ে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ১১ হাজার ৭৩৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এতে আর্থিক অগ্রগতি ৬৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি ৫২ শতাংশ।
একনেকে উঠছে আরও ৮টি প্রকল্প
বুধবারের একনেক বৈঠকে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পাশাপাশি আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে—
- মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান এলাকার সুরক্ষা প্রকল্প
- বৃহত্তর দিনাজপুর অঞ্চলের সমন্বিত উন্নয়ন ও পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প
- সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ প্রকল্প
- দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্প
- বেগমগঞ্জ-৫, বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২ গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্প
- সিলেট বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প
- মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোর কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ১০ শয্যার নতুন ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন প্রকল্প।
পরিকল্পনা বিভাগ আশা করছে, অনুমোদন পেলে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের যোগাযোগ, জ্বালানি, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতে নতুন গতি সৃষ্টি হবে।
ভোরের আকাশ/জেআ