শিরোনাম
চালকের আচরণ ও গাড়ির ফিটনেসের কথা বললেই অনেকের গাত্রদাহ হয়: সড়কমন্ত্রীঅর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে : জাতিসংঘে আইরিন খানস্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমেই সুস্থ প্রজন্ম গড়ে ওঠে: মীর শাহে আলমফের দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের গোলাবর্ষণবিদ্যুৎখাতে লুটপাট করতেই দায় মুক্তির আইন পাস করেছিল আ.লীগ: রিজভীসিইসির সঙ্গে বৈঠকে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রতিনিধি দলযুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের আগে ভিসার নিয়মকানুন জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে দেশটির দূতাবাসনাগরিক না হয়েও নির্বাচনে ভোট দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে মামলাচালকের আচরণ ও গাড়ির ফিটনেসের কথা বললেই অনেকের গাত্রদাহ হয়: সড়কমন্ত্রীঅর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে : জাতিসংঘে আইরিন খানস্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমেই সুস্থ প্রজন্ম গড়ে ওঠে: মীর শাহে আলমফের দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের গোলাবর্ষণবিদ্যুৎখাতে লুটপাট করতেই দায় মুক্তির আইন পাস করেছিল আ.লীগ: রিজভীসিইসির সঙ্গে বৈঠকে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রতিনিধি দলযুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের আগে ভিসার নিয়মকানুন জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে দেশটির দূতাবাসনাগরিক না হয়েও নির্বাচনে ভোট দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি যুবকের বিরুদ্ধে মামলা

রাজ কাঁকড়ার নীল রক্তের মূল্য কেন কোটি টাকায়?

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীতে ডাইনোসরদের আগমন ঘটেছিল আজ থেকে প্রায় ২৪ কোটি বছর আগে, আর তারা বিলুপ্তও হয়ে গেছে কোটি কোটি বছর আগে। কিন্তু ডাইনোসরদেরও প্রায় ২০ কোটি বছর আগে এই পৃথিবীতে যে প্রাণীর আগমন ঘটেছিল এবং ডাইনোসরদের বিলুপ্তি চোখের সামনে দেখেও যারা আজ অবধি অবিকল একই রকম টিকে আছে, তাদের নাম ‘রাজ কাঁকড়া’ (Horseshoe Crab)।

বহু প্রাচীন রূপ অপরিবর্তিত রেখে পৃথিবীতে টিকে থাকার এই অবিশ্বাস্য ক্ষমতার কারণে বিজ্ঞানীদের কাছে এটি ‘জীবন্ত জীবাশ্ম’ (Living Fossil) নামে পরিচিত। তবে শুধু প্রাচীনত্ব নয়, এই প্রাণীর সবচেয়ে বড় বিস্ময় লুকিয়ে আছে এর শরীরের ‘নীল রক্তে’। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই নীল রক্তের অবদান মানবজাতিকে কোটি কোটি প্রাণহানির হাত থেকে বাঁচিয়ে চলেছে।

কেন এরা ‘জীবন্ত জীবাশ্ম’?

নামে ‘কাঁকড়া’ হলেও, রূপতাত্ত্বিক ও জিনগত বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে এরা সাধারণ কাঁকড়া বা ক্রাস্টেসিয়ান গোত্রের নয়। বরং মাকড়সা এবং বিচ্ছুর সাথে এদের মিল বেশি।

বিজ্ঞানীদের মতে, প্রায় ৪৫ কোটি বছর ধরে পৃথিবীতে কোনো প্রকার শারীরিক পরিবর্তন ছাড়াই বেঁচে আছে এই রাজ কাঁকড়া। বরফ যুগ থেকে শুরু করে পৃথিবীর বড় বড় সব প্রাকৃতিক মহাবিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনকে জয় করে এরা আজও টিকে রয়েছে, যা বিজ্ঞানীদের কাছে এক পরম বিস্ময়।

নীল রক্তের রহস্য ও মানবকল্যাণে এর জাদুকরী ভূমিকা

সাধারণত মেরুদণ্ডী প্রাণী বা মানুষের রক্তে ‘হিমোগ্লোবিন’ থাকে, যার মধ্যে আয়রন বা লোহা থাকার কারণে রক্তের রঙ লাল হয়। কিন্তু রাজ কাঁকড়ার রক্তে হিমোগ্লোবিন থাকে না; তার বদলে থাকে ‘হিমোসায়ানিন’ (Hemocyanin)। এই হিমোসায়ানিনে কপারের (তামা) উপস্থিতি থাকার কারণেই এদের রক্তের রঙ গাঢ় নীল হয়।

তবে এই নীল রঙের চেয়েও বেশি মূল্যবান হলো এর কার্যকারিতা। চিকিৎসা বিজ্ঞানে রাজ কাঁকড়ার রক্তের গুরুত্ব অপরিসীম:

ব্যাকটেরিয়া শনাক্তকরণের জাদুকরী ক্ষমতা: রাজ কাঁকড়ার নীল রক্তে LAL (Limulus Amebocyte Lysate) নামক এক ধরণের বিশেষ রাসায়নিক উপাদান থাকে। এই উপাদানটি ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার (বিশেষ করে এন্ডোটক্সিন) সংস্পর্শে আসামাত্রই জমাট বেঁধে শক্ত জেলের মতো হয়ে যায়।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে ব্যবহার: মানুষের শরীরে ব্যবহার করা যেকোনো ইনজেকশন, স্যালাইন, টীকা (Vaccine) কিংবা কৃত্রিম অঙ্গ (যেমন- পেসমেকার) জীবাণুমুক্ত বা নিরাপদ কিনা, তা পরীক্ষা করার জন্য বিশ্বজুড়ে একমাত্র রাজ কাঁকড়ার এই নীল রক্ত ব্যবহার করা হয়। এই রক্ত দিয়ে পরীক্ষা না করে কোনো ওষুধ বা ভ্যাকসিন বাজারে ছাড়ার অনুমতি মেলে না।

প্রতি লিটার রাজ কাঁকড়ার নীল রক্তের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য প্রায় ১৫,০০০ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৭ থেকে ১৮ লাখ টাকা)! একারণেই একে পৃথিবীর অন্যতম মূল্যবান তরল উপাদান বলা হয়।

কীভাবে সংগ্রহ করা হয় এই রক্ত?

প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ রাজ কাঁকড়া সমুদ্রের উপকূল থেকে ধরে ল্যাবরেটরিতে নিয়ে আসা হয়। অত্যন্ত সাবধানে এদের হৃৎপিণ্ডের কাছ থেকে প্রায় ৩০ শতাংশ নীল রক্ত চুষে নেওয়া হয়। রক্ত নেওয়া শেষ হলে এদেরকে আবার জীবিত অবস্থায় সমুদ্রে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

বিজ্ঞানীদের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় বেশির ভাগ কাঁকড়া বেঁচে গেলেও, প্রায় ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কাঁকড়া পরবর্তীতে মারা যায় এবং স্ত্রী কাঁকড়াদের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পায়।

অস্তিত্বের সংকটে নীল রক্তের রক্ষক

শত কোটি বছর ধরে প্রকৃতিতে টিকে থাকলেও, বর্তমান যুগে এসে মানুষের অতিরিক্ত শিকার, সমুদ্র উপকূল দূষণ এবং ল্যাবে অতিরিক্ত রক্ত সংগ্রহের কারণে রাজ কাঁকড়ার সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমছে। আইইউসিএন (IUCN) ইতোমধ্যে একে বিপন্নপ্রায় প্রাণীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।

আরও পড়ুন

দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর সচল হয়েছে ফেসবুক

বাংলাদেশের সুন্দরবন ও কক্সবাজার উপকূলেও মাঝে মাঝে এই রাজ কাঁকড়ার দেখা মেলে। প্রকৃতির এই জীবন্ত জীবাশ্ম ও মানবজাতির নীরব রক্ষককে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে এখন বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম উপায়ে এই রক্ত তৈরির গবেষণা চলছে।

কোটি কোটি বছর ধরে রাজ কাঁকড়া তার রূপ না বদলে পৃথিবীর ইতিহাসকে বয়ে বেড়াচ্ছে। আর আজ আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানকে সুরক্ষিত রাখতে এই অদ্ভুত প্রাণীর নীল রক্ত নিঃশব্দে কোটি কোটি মানুষের জীবন বাঁচিয়ে চলেছে। তাই এই ‘জীবন্ত জীবাশ্ম’কে টিকিয়ে রাখা প্রকৃতির ভারসাম্য এবং মানবজাতি—উভয়ের জন্যই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ভোরের আকাশ/জেআ

রাজ কাঁকড়ানীল রক্ত

শেয়ার করুন: