দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জে মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের চার সদস্য গ্রেফতার করেছে র্যাব

রাজধানীর দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থেকে অপহৃত এক অটোরিকশাচালককে উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১০)। এ ঘটনায় মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের চার সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
র্যাব-১০ জানায়, দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের চর কুন্দলিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. সুন্দর আলী, পেশায় একজন অটোরিকশাচালক। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ের উদ্দেশ্যে গত ১৯ জুলাই বিকেলে গোলাম বাজার থেকে কোনাখোলা হয়ে রামেরকান্দা এলাকায় মেয়ে দেখতে যাচ্ছিলেন।
পথে ধর্মশুর এলাকায় পৌঁছালে কুদ্দুসসহ কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার অটোরিকশার গতিরোধ করে। পরে তাকে মারধর করে জোরপূর্বক অন্য একটি অটোরিকশায় তুলে রামেরকান্দা বালুর মাঠ এলাকায় নিয়ে যায়।
সেখানে অপহরণকারীরা সুন্দর আলীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অভিযোগ রয়েছে, তাকে চেতনানাশক ওষুধও খাওয়ানো হয়। অপহরণকারীরা ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দিতে থাকে।
পরে গভীর রাতে তাকে আসামি রাকিবের ভাড়া বাসায় নিয়ে আটকে রাখা হয়। প্রথমে পরিবারের কাছ থেকে নগদের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়। এরপরও তাকে মুক্তি না দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আরও টাকা দাবি করা হয়। পরে আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার করে ভুক্তভোগীর পরিবার নগদের মাধ্যমে আরও ৩৯ হাজার টাকা অপহরণকারীদের নির্ধারিত অ্যাকাউন্টে পাঠায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বজন দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন এবং র্যাব-১০-এর সহায়তা চান।
র্যাব-১০-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ল’ অফিসার (পিপিএম-সেবা) সোনালী সেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০ জুলাই দুপুর ২টা ৫ মিনিটে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের শুভাঢ্যা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাকিবের ভাড়া বাসা থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় সুন্দর আলীকে উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে অপহরণকারী চক্রের চার সদস্য—মো. কুদ্দুস মিয়া, মো. জুয়েল রানা ওরফে কুত্তা জুয়েল, মো. রাকিব হাওলাদার এবং মো. অপু মীর ওরফে বায়জিদ—কে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ডাকাতি, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও নারী-শিশু নির্যাতনসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ভোরের আকাশ/জেআ