ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ তৈরি হলে অর্থনীতি এগিয়ে যাবে: ডিএসসিসি প্রশাসক

ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নত না হলে কোনো দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যেতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো শক্তিশালী করতে শিল্পকারখানা সচল রাখা, উৎপাদন বাড়ানো এবং রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিডি কর্মাশিয়ালের নব নির্বাচিত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, যেকোনো দেশে ব্যবসা খাতকে শক্তিশালী করতে না পারলে সেই দেশ সামনে এগিয়ে যেতে পারে না। ব্যবসা এগিয়ে নিতে হলে বাণিজ্যিক পরিবেশ যত ভালো হবে, ব্যবসাও তত ভালো হবে। আমি মনে করি, আপনারা বাংলাদেশের উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশের অর্থনৈতিক খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। ব্যাংকিং খাতের সংকটের কারণে মানুষের মধ্যে আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। অর্থনৈতিক খাত ঠিক না থাকলে অন্য কোনো খাতই স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে না।
আবদুস সালাম বলেন, মানুষ অনেক আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে ব্যাংকে টাকা জমা রাখে। কিন্তু সেই টাকা তুলতে গিয়ে যখন তারা তুলতে পারে না, তখন তারা হতাশায় পড়ে। এমন একটি পরিস্থিতিতেই সরকার দেশের দায়িত্ব পেয়েছে। সব জায়গায় একটা হযবরল অবস্থা।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভঙ্গুর অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব, বিশেষ করে জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, দীর্ঘদিন গ্যাসের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ না নিয়ে আমদানিনির্ভরতার দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। একইভাবে বিদ্যুৎ খাতেও অতীতের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে।
তিনি বলেন, সরকার চেষ্টা করছে কীভাবে গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করা যায়। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যার পুরোপুরি সমাধান না হলেও বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো আবার চালু করার মতো একটা পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে। আরও কিছু সময় পেলে পরিস্থিতি ভালো হবে। তবে এ জন্য ধৈর্য ধরতে হবে।
সমস্যা সমাধানে সরকারকে সময় ও সহযোগিতা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, সমস্যাগুলো জটিল না করে সেগুলোর সমাধানে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে। দেশের স্বার্থে রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তিনি। আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে শুধু ওষুধ ছিটানো বা মশা নিধন করলেই হবে না, জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা চাই, ওষুধ দেওয়ার পরে মশা তাড়ানোর পাশাপাশি মশা যাতে জন্মই না নেয়, তার প্রজননস্থলগুলো ধ্বংস করা। বাসাবাড়ি, আশপাশের জায়গা, ড্রেন, ছাদ, ফুলের টব কিংবা বেজমেন্টে কয়েক দিন পানি জমে থাকলে সেখানে লার্ভা জন্মাতে পারে। এসব জায়গায় পানি জমতে দেওয়া যাবে না।
সরকারের মেয়াদ নিয়ে আবদুস সালাম বলেন, মাত্র ছয় মাসে পাহাড়সম সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। ‘আলাদিনের জাদুর চেরাগ’ কারও হাতে নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাজের মধ্য দিয়েই সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, লুটপাট হওয়া অর্থ ফেরত আনা, বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা চালু করা এবং উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। ব্যবসায়ীদেরও বাস্তব শিল্পকারখানা সচল রাখা, উৎপাদন বাড়ানো এবং বিদেশে পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আনার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
আবদুস সালাম বলেন, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। আপনারা যেখানে আছেন, যে দায়িত্বে আছেন, সেখান থেকে বাস্তব শিল্পকারখানাগুলো সচল রাখা, উৎপাদন বাড়ানো এবং বিদেশে রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করবেন। এর মধ্য দিয়ে আমাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে আরও সচ্ছল ও মজবুত করতে হবে।
গণতান্ত্রিক পরিবেশ ধরে রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি বলেন, অতীতে গণতন্ত্র বারবার বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি, সামাজিক ও আইনি ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সবশেষে দেশের সমস্যা সমাধানে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, আসুন, আমরা সবাই মিলে দেশটাকে গড়ে তোলার জন্য চেষ্টা করি এবং দেশের সমস্যাগুলো সমাধানে একযোগে কাজ করি।
ভোরের আকাশ/এনএস