শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বিতর্ক জামায়াতের পিছু ছাড়ছে না

মাজাহারুল ইসলাম

প্রকাশ : ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

আর মাত্র ৬ দিন পরই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ ৫১টি দল। দলগুলোর এবং স্বতন্ত্র মিলিয়ে ভোট যুদ্ধে অংশ নিয়েছে প্রায় দুই হাজার প্রার্থী। ভোটের মাঠে জয় পেতে পুরোদমে প্রচার-প্রচারণায় রয়েছেন প্রার্থীরা। কিন্তু একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে বিতর্কের মুখে পড়েছে জামায়াতে ইসলামী- এমনই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা। 

তাদের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে জামায়াত জনমনে যে ইতিবাচক এক প্রভাব ফেলেছিল বা ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি করেছিল, সেই জায়গাটি ধরে রাখতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। নেতাদের বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার জায়গা থেকে আত্মরক্ষার জায়গায় চলে গেছে দলটি। ’৭১ কে পাশ কাটিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানকে সামনে আনতে গিয়ে এবং নিজেদের অতীত কলঙ্কিত অধ্যায় মুছতে গিয়ে নিজেরাই এখন অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে- মনে করছেন রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

বিশিষ্টজনরা বলছে, জামায়াতের অধিকাংশ প্রার্থী, যাদের অনেকেই বিজয়ের ব্যাপারে মোটামুটি আশাবাদী ছিলেন। যেমন, ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াতের প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামান জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কোন কোন ক্ষেত্রে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকেও তিনি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য এবং সেনা সদস্যদের সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের কারণে তার জনপ্রিয়তা এখন তলানিতে।

ওই ঘটনার ভিডিওর সূত্র জানা গেছে, ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় গানম্যান নিয়ে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন জামায়াত প্রার্থী খালিদুজ্জামান। তখন পরিচয় জানতে চাওয়া হলে বলা হয়, উনি এই আসনের এমপি ক্যান্ডিডেট।

এ সময় সেনাসদস্য জানতে চান তিনি কোন দলের প্রার্থী। তখন জবাবে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামী। তখন একজন সেনাসদস্যকে বলতে শোনা যায়, বুঝতে পারছি স্যার। আমাদের ক্যান্টনমেন্টের নিরাপত্তার স্বার্থে গান নিয়ে ঢোকা নিষেধ। তখন জামায়াত প্রার্থী বলেন, গান নিয়ে বসে আছেন, আপনারা তো জিহ্বা দিয়ে চেটে ফেলতেছেন তারেক জিয়ার জন্য। আমরা কেন যাইতে পারব না? তখন সেনাসদস্য বলেন, এটা তো আমরা বলতে পারব না।

পরে জামায়াত প্রার্থী বলেন, আপনারা তো পরিকল্পিতভাবে দেশটাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আপনারা বিতর্কিত করেতেছেন।

এছাড়া, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য দেশব্যাপী আলোচনা ও সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠে জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি যতটাই নন্দিত ছিলেন ততটাই নিন্দার পাত্রে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকদিন পূর্বে নারীবিদুষী পোস্ট ও নারী নিয়ে আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারসহ বিভিন্ন সময়ের বক্তব্যে বিতর্কিত ইস্যু ফুঠে উঠে ডা. শফিকের। আমিরের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া একটি নারীবিদ্বেষী পোস্টকে কেন্দ্র করে আলোচনা-সমালোচনাসহ ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয় জনগণের মধ্যে। এই পোস্টকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী সংগঠনসহ দেশের অন্যান্য নারী সংগঠন ও রাজনৈতিক দলগুলো একে ‘নারীবিদ্বেষী’ ও ‘মধ্যযুগীয় মানসিকতা’ বলে অভিহিত করেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক প্রতিবাদী কণ্ঠ উচ্চারিত হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছে বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মো. শামীম আহসান।

নির্বাচনী জনসভায় শামীম আহসান বলেন, আমরা দেখছি, ডাকসু নির্বাচনের পরে, যে ডাকসু মাদকের আড্ডা ছিল, যে ডাকসু বেশ্যাখানা ছিল, সেটা ইসলামী ছাত্রশিবির পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। তাই এই বাংলাদেশ থেকে সকল প্রকার অন্যায়, সকল প্রকার চাঁদাবাজ, সকল প্রকার দুর্নীতি উৎখাত করতে জামায়াতে ইসলামী সক্ষম।
সম্প্রতি খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর বালিকা বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় বিএনপিকে উদ্দেশ করে গোলাম পরওয়ার বিতর্কিত মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আমাদের বিএনপি বন্ধুদের মাথাটা একটু খারাপ হয়ে গেছে। আপনারা টের পাচ্ছেন তো? এত মাথা খারাপ হয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর পুরুষদের সামনে দাঁড়ানোর সাহস তাদের নেই। এখন আমাদের নারী কর্মীদের গায়ে তারা হাত তুলছেন। দেখছেন তো, অন্তত ১০-১৫ জায়গায় দাঁড়িপাল্লার পক্ষে আমাদের মা-বোনেরা যখন যাচ্ছেন, তাদের মাথা ফাটিয়ে দিচ্ছেন। বোরকা খুলে নিচ্ছেন। এ বিষয়গুলো দেশের সাধারণ জনগণ ভালভাবে নিচ্ছে না বলেও উল্লেখ করেছে রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

বিশিষ্টজনেরা বলছেন, ১৯৭১ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে একটি দুঃস্বপ্নের কালো অধ্যায়, যা তাকে সবসময় তাড়া করে বেড়ায়। অনেক চেষ্টা করেও এই অধ্যায়টি মুছে দিতে তারা সক্ষম হয়নি। সে কারণে ৩৬ জুলাই অভ্যুত্থানের পর জামায়াতের পক্ষ থেকে ১৯৭১ বিপক্ষে ২০২৪, মুক্তিযোদ্ধার বিপক্ষে জুলাইযোদ্ধা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে জুলাইয়ের চেতনা এবং স্বাধীনতার বিপক্ষে দ্বিতীয় স্বাধীনতা নানা বয়ান হাজির করার চেষ্টা করেছে। হঠাৎ কি এমন ঘটল যে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার মহান ঘোষক বলে আমাদের ইতিহাসে অবিসংবাদিত হয়ে রয়েছেন, তার পাশে একজন তারই অধঃস্তন সহকর্মী কর্নেল অলিকে প্রথম বিদ্রোহকারী হিসেবে দাঁড় করাতে গেল? কিন্তু এই ন্যারেটিভগুলো দেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।

জামায়াত আমিরের বিতর্কিত মন্তব্যে প্রতিক্রিয়ায় সোমবার যশোরের নির্বাচনী জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতা নারীদের কর্মসংস্থান নিয়ে কলঙ্কজনক মন্তব্য করেছেন। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী সমাজকে যারা অসম্মান করে এবং কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালি দেয়, তারা আর যাই হোক, দেশদরদি বা জনদরদি হতে পারে না।

আইডি হ্যাক হওয়ার বিষয়কে মিথ্যাচার হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, তীব্র সমালোচনার মুখে তারা এখন বলছে, আইডি হ্যাক হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি অসম্ভব। একটি রাজনৈতিক দলের সিনিয়র নেতা নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে এভাবে মিথ্যা বলছেন। যারা অবলীলায় মিথ্যা বলে, তারা কখনোই দেশের মঙ্গল করতে পারে না। তারা সমগ্র জাতির সামনে নিজেদের রক্ষা করতে মিথ্যা কথা বলেছে। তারা বন্ধু হতে পারে না।

বিএনপির চেয়ারম্যান আরও বলেন, ১৯৭১ সালেই প্রমাণ হয়েছে মা-বোনদের জন্য এদের দরদ নেই। ১৯৭১ সালে তাদের কারণে লাখ লাখ মা-বোন ইজ্জত হারিয়েছেন।

বরিশালে নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, গুপ্ত দলের লোকেরা জালেম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বাংলাদেশে নারী পুরুষ মিলে মাঠে কাজ করে। নতুন জালেম যাদের মানুষ গুপ্ত হিসেবে চেনে সেই জালেমদের নেতা নারীদের নিয়ে কলঙ্কিত শব্দ ব্যবহার করেছেন। এরা ইসলামের রাজনীতি করে কিন্তু এরা নারীদের নিয়ে কিভাবে কলঙ্কিত শব্দ ব্যবহার করে।

তারেক রহমান বলেন, দুঃখের বিষয় যারা জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তাদের ভাষায় একটি রাজনৈতিক দল কথা বলছে। জনগণ সেই রাজনৈতিক দলটিকে গুপ্ত নামে চেনে।

তিনি বলেন, জালেমদের নেতা প্রকাশ্যে বলেছেন, বাংলাদেশের নারীদের নিয়ে অত্যন্ত কলঙ্কিত শব্দ ব্যবহার করেছেন। যেই দলের দেশের মা-বোনদের প্রতি শ্রদ্ধা নেই, তাদের কষ্টের প্রতি সম্মান নেই, তাদের থেকে বাংলাদেশের অগ্রগতি আশা করা যায় না। বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, নারীদের পেছনে ফেলে, নারীদের ঘরে বন্ধ করে রেখে কোনোভাবে সামনে এগোনো যাবে না। দেশ গড়তে হলে নারী-পুরুষদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। তা না হলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জামায়াত নিজেদের অবশিষ্ট গ্রহণযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাদের যদি কিছু এখনো কিছু গ্রহণযোগ্যতা থাকে, এই ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে তাদের সেটাতো তারা হারাচ্ছে।

বিএনপি নেতা বলেন, জামায়াতের আমির মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে এত জ্ঞান রাখে, সেটা আগে তো জানতাম না। উনার যে এত জ্ঞান মুক্তিযুদ্ধ সম্বন্ধে, এখন স্বাধীন মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা কে দিয়েছেন, কীভাবে দিয়েছেন, উনার জ্ঞানের পরিধি দেখে আমি খুশি হয়েছি। আশা করি উনি আরও কিছু বলবেন আমাদেরকে, মুক্তিযুদ্ধে আর কী কী হয়েছিল, ওগুলো তো বলতে পারেন, তাই না!

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জিয়াউর রহমান সাহেবকে বিতর্কিত করে উনারা কী অর্জন করতে চাচ্ছে, সেটার উত্তরতো উনারা দিতে পারবে। আর জিয়াউর রহমান সাহেবকে মার্কেটিং করার আমাদের তো প্রয়োজন নাই। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস বাংলাদেশে যারা জানে তারা এই সমস্ত বাকোয়াজ করে, বাংলাদেশকে বিভক্তি করে একটা নতুন ন্যারেটিভ নিয়ে আসার যে চেষ্টা, এগুলো কি কারো কাছে কোন গ্রহণযোগ্যতা পাবে না।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশে আজ নতুন করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার একটি অপচেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দল-যারা এই দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারাই আজ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বর্ণনা করার চেষ্টা করছে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি- কর্নেল (অব.) অলি সাহেব দিয়েছেন-জামায়াত আমিরের এমন বক্তব্যে পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আরও বলেন, এই ধরনের বক্তব্য অস্বাভাবিক নয়। কারণ যারা একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারাই আজ ইতিহাস বিকৃত করবে-এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ সব জানে। জনগণ জানে, আজ তারা নতুন রূপে নিজেদেরকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার যে চেষ্টা করছে, তা সম্পূর্ণ প্রতারণা ও ভণ্ডামি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আগামীতে কোনোদিন হয়তো এমনও শুনতে হবে ওই দলটি এদেশের স্বাধীনতার পক্ষে যুদ্ধ করেছিলেন।

বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও জাতীয় সংসদের সাবেক বিরোধী দলীয় চিফ হইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, একাত্তরের বিতর্কিত দলটির নেতারা বিএনপির জনপ্রিয়তা দেখে আবোল-তাবোল বলছে। দলটির শীর্ষ নেতারা জনসভায় অসৌজন্যমূলক আচরণ ও অশালীন বক্তব্য রাখছেন। তাদের বক্তব্য ঘৃন্যভরে প্রত্যাখান করছে জনগন।

তিনি বলেন, যে দলটি স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিল, সেই দলটি নতুন করে স্বাধীনতার জয়গান গাইছে। ছবক দিচ্ছে, এমনকি স্বাধীনতার ঘোষককে নিয়ে মিথ্যাচার করছে। তারা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ভাষায় কথা বলা শুরু করছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করার অপচেষ্টা করছে। এছাড়া, মা-বোনদের নিয়ে কূরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছে, জাতীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত দলটির।

সাবেক এই এমপি বলেন, বিএনপির প্রস্তাবিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সাম্প্রতিক আক্রমণাত্মক মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে শফিকুর রহমানের উক্তি ‘রাখ তোদের ফ্যামিলি কার্ড। পাশাপাশি এক হাতে কার্ড দেওয়া হচ্ছে আর অন্য হাতে মায়েদের ওপর আঘাত করা হচ্ছে’- এটা কোন সভ্য মানুষের উক্তি হতে পারে না বললেন জয়নুল আবদিন ফারুক।

বিরোধী দলীয় চিফ হইপ আরও বলেন,  সেনাবাহিনীকে নিয়ে জামায়াত নেতার অশোভন আচরণ এবং ডাকসু নিয়ে জামায়াতের অন্য এক নেতার মন্তব্য একইসঙ্গে দলটির আমিরের উত্তেজিত আচরণের পেছনে গভীরতর কারণ রয়েছে বলেও মনে করছেন তিনি। তার মতে, জামায়াত সম্ভবত বুঝতে পারছে যে তাদের ‘অনলাইন বাবল’ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তা মাঠের প্রকৃত পরিস্থিতির সাথে মিলছে না। ‘বটের তো ভোট নেই’-এমন একটি রূঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েই সম্ভবত দলের শীর্ষ নেতৃত্ব মেজাজ ধরে রাখতে পারছেন না বললেন জয়নুল আবদিন ফারুক।

এ প্রসঙ্গে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান বলেন, একাত্তরের বিতর্কিত দলটির নেতারা ‘৭১ কে পাশ কাটিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানকে সামনে আনতে চায়। তিনি বলেন, গত কয়েকদিনের বক্তব্যে তাদের সঠিক আচার-আচরণের ফুঠে উঠেছে। দলটির নেতাদের মধ্যে কেউ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করছেন। কেউ আবার দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী নিয়ে অশোভন ও অশালীন মন্তব্য করছেন। এমনকি দলটির শীর্ষ নেতা ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতার ঘোষককে নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ মন্তব্য করেছেন। পাশাপাশি নারীবিদ্বেষী পোস্ট ও নারী নিয়ে আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারসহ বিভিন্ন সময়ে শফিকুর রহমানের উদ্ভট মন্তব্য ফুঠে উঠেছে, যাহা বিকৃত মস্তিস্কের বহিঃপ্রকাশ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

আমানউল্লাহ আমান বলেন, একজন আদর্শ রাজনৈতিক নেতা হচ্ছে দেশপ্রেমিক, জনবান্ধব এবং নীতিবান, যিনি রাজনীতিকে পেশা হিসেবে নয়, বরং জনসেবার ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে দেশের মানুষের স্বার্থে কাজ করা তার প্রধান কর্তব্য। কাজেই নেতাদের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য থেকে বিরত থাকা উচিত বলেও মনে করেন তিনি। বিএনপির প্রস্তাবিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জামায়াত আমিরের সাম্প্রতিক আক্রমণাত্মক মন্তব্যকে পাগলের প্রলাপ বলেও মন্তব্য করছেন এই ছাত্রদল নেতা।

এ প্রসঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, জামায়াতের মুখে একটা, কাজে আরেকটা। এটা দেশের মানুষ বুঝে গেছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, একশ্রেণির ক্ষমতালোভী ইসলামের বাক্সের পরিবর্তে চাইছে বর্তমান প্রচলিত আইনে দেশ চালাতে। তারা বলেছে, ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র কায়েম করবে। প্রচলিত নিয়মে ৫৪ বছর দেশ চালানোর পর কি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র বাস্তবায়ন করা হয়েছে? এই নিয়মে আবার নতুন করে কীভাবে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র বাস্তবায়ন করবে তারা? এটা সম্পূর্ণ একটি ধোঁকা।

ভোরের আকাশ/এসএইচ

জামায়াতে ইসলামী

শেয়ার করুন: