শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জুলাই সনদ-গণভোটে দ্বিমত হলেও নির্বাচনমুখী দলগুলো

মো. রেজাউর রহিম

প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২৫, ১১:১১ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- সংগৃহীত
ছবি- সংগৃহীত

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঘোষিত আগামী ফেব্রুয়ারিতে একইদিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো এখনও একমত না হতে পারলেও প্রায় সবদলই আগামী নির্বাচনের বিষয়টিতে গভীর মনোযোগ দিয়েছে। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ইতোমধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে। আর তারুণ্যনির্ভর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের তালিকা প্রস্তুত করছে। শিগগির দলটি তাদের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবে। আর গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একই দিন হবে কি-না, প্রস্তাবিত গণভোটে কি কি প্রশ্নে জনগণ তাদের মতামত জানাবে এবং নির্বাচন কমিশন (ইসি) একই দিনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন একইসঙ্গে সম্পন্ন করার সক্ষমতা রাখে কি না, এসব বিষয় নিয়ে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনও এক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এ অবস্থায় জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টিকে ‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’ এর ভিত্তিতে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে।  

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে ঘোষিত সিদ্ধান্তসমূহ এবং রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের জারিকৃত আদেশ অনুযায়ী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গেই একত্রে পৃথক ব্যালটে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া আগামী জাতীয় সংসদ হবে দুই কক্ষবিশিষ্ট, যাতে থাকবে সরাসরি ভোটে নির্বাচিতদের নিয়ে ‘নিম্নকক্ষ’ এবং সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হিসেবে দলগুলোর মনোনীতদের সমন্বয়ে গঠিত হবে ‘উচ্চকক্ষ’। নিম্নকক্ষের নির্বাচন বিদ্যমান ব্যবস্থাতেই অনুষ্ঠিত হবে, আর উচ্চকক্ষ হবে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট।

জানা গেছে, সরকারের এ সিদ্ধান্তের পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন দলের সম্মতি বা আপত্তি থাকলেও কোনো রাজনৈতিক দলই সরকারের এ সিদ্ধান্ত মানতে রাজি নয়-তা বলেননি। বিএনপি তাদের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে এ বিষয়ে ধন্যবাদ জানিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ও চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলনসহ আটটি দল কিছুটা অসন্তোষ এবং জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট আয়োজনের দাবি জানালেও বিষয়টি নিয়ে বড় কোনো আন্দোলন এখনও গড়ে তোলেনি। তবে এনসিপি সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছে, কিন্তু সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে দলটি এখনও কোনো আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়নি।

এবিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উপদেষ্টা ভোরের আকাশকে জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ফ্যাসিস্ট শাষন পরবর্তী দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করে বিষয়টির গ্রহণযোগ্য সমাধানকল্পে এখনও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো অনেকটাই ‘নমনীয়’। প্রায় সব রাজনৈতিক দলই চায় দ্রুত নির্বাচনসম্পন্ন হোক। এছাড়া প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি-মতামতের সমন্বয় ঘটিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোট এবং জাতীয় নির্বাচনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া গণভোটের বিষয়ে শিগগির আইন করছে সরকার। আর প্রধান উপদেষ্টা এর আগে একাধিকবার বলেছেন আগামী নির্বাচন হবে বাংলাদেশের জন্য এক ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’।  

সূত্র জানায়, আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের অংশগ্রহণে এবং নানামুখী মেরুকরণে ব্যস্ত রযেছে প্রধান রাজনৈতিক দল-বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ, হেফাজতে ইসলামী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ জাসদ, গণতন্ত্র মঞ্চসহ প্রায় সব রাজনৈতিক দল। এসব দল ভোটের মাঠে মিছিল, সমাবেশ, পোস্টার-ব্যানার-লিফলেটের মাধ্যমে তাদের নির্বাচনী প্রচারণায়ও সরব রয়েছে।

প্রধান রাজনৈতিক দলেগুলোর বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে দলগুলো দৃশ্যত ‘নমনীয়’ বা কিছুটা অনমনীয় ধরনের বক্তব্য-বিবৃতি দিলেও এখন সব দলই এখন নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ইতোমধ্যে গত ৩ নভেম্বর বিএনপি ২৩৭টি আসনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। অবশ্য, পরবর্তীতে একটি আসনে মনোনয়ন স্থগিতও করেছে দলটি। আর দলের মনোনয়নপ্রাপ্তরা ইতোমধ্যেই নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছেন। প্রতিদিনই গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও উঠান বৈঠক করছেন।ভোটারদের ঘরে-ঘরেও যেতে শুরু করেছেন তারা। রাজধানীসহ সারা দেশেই বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট চেয়ে পোস্টার-ব্যানার দিয়েও প্রচারণা চালাচ্ছেন। এছাড়া প্রার্থীরা ভোটারদের মাঝে লিফলেটও বিতরণ করছেন। যেসব আসনে বিএনপি এখনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি, সেসব আসনেও মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নানাভাবে মনোয়নের জন্য দেন-দরবার করছেন এবং ভোটারদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। সবমিলিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম বেশ জোরেশোরেই চালাচ্ছে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত ও সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

আগামী নির্বাচনের বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এদেশের মানুষ বিগত তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি। বিশেষ করে, একটি প্রজন্ম যারা নতুন ভোটার তারা ভোটই চোখে দেখেনি, তারা একটি নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছেন।

সারা দেশের মানুষ নির্বাচনের পক্ষে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের মানুষ  দেশে একটি নির্বাচিত সরকার চায়। নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে। এছাড়া নির্বাচিত সরকার থাকলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ সবকিছুতেই গতি আসবে।

তিনি জানান, বিএনপি এখন আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে জনগণের রায় পেতে সব প্রস্তুতির জন্য কাজ করছে।  

এদিকে, জামায়াতে ইসলামী জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের জোরালো দাবি রাখলেও ইতোমধ্যেই ২৯৯টি আসনে দলীয় প্রার্থী ঠিক করেছে। গত এক বছর ধরে পর্যায়ক্রমে প্রায় সব আসনেইে দলটি তাদেও দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে সভা-সমাবেশ, মিছির-মিটিং এবং গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। আর ইতোমধ্যে জামায়াতের প্রার্থীরা রাজধানীসহ সারা দেশেই ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট চেয়ে পোস্টারিং করেছেন। এছাড়া দলটির নারী শাখার কর্মীরা দলের লিফলেট নিয়ে বাড়িতে-বাড়িতে যাচ্ছেন, উঠান বৈঠকও করছেন।

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, চলতি মাসেই জামায়াত আনুষ্ঠানিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে। জারিকৃত ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ নিয়ে নানা আপত্তি তুললেও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সম্প্রতি তার নিজ নির্বাচনী আসনে (খুলনা-৫, ডুমুরিয়া-ফুলতলা) নির্বাচনি শোভাযাত্রা ও পথসভা করেছেন।

খুলনার জিরো পয়েন্ট এলাকায় এক পথসভায়  সরকার ও প্রশাসনের প্রতি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, আপনারা আগামী নির্বাচন স্বচ্ছ করুন। প্রত্যেক প্রার্থী যেন সমান সুযোগ পেয়ে নির্বাচনি কাজ করতে পারেন।

আর ২০২৪ এর ফ্যাসিস্টবিরোধী জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের নিয়ে গঠিত এবং গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতিতে বিশেষভাবে আলোচিত এনসিপি আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণের কাজ শেষ করেছে। শিগগির গলটি তাদের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোলণা করবে বলে জানা গেছে।  

এখনও দলটি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হতে খুব বেশি ‘আগ্রহ’ দেখায়নি। দলটি শুধুমাত্র সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আসন ছাড়া অন্য সব আসনে (২৯৯ আসনে) তাদের প্রার্থী ঘোষণা করবে বলে জানা গেছে।

এছাড়া আগামী নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে দলটির নেতাকর্মীরা বেশ আশাবাদী। তবে এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি দলটির নেতারা বিএনপি, জামায়াত ও সমমনা অন্য ৯টি দলের সঙ্গেও আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ভোরের আকাশ’কে জানান, খবি শিগগির এনসিপি ২৯৯ আসনে তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবে।

এছাড়া দলটির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে এনসিপির প্রাথীরা বিএনপির সঙ্গে হাড্ডা-হাড্ডি  লডাইয়ে অবতীর্ণ হবে।

নিজের দলের নির্বাচনের জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এবাবের নির্বাচনে মূল লড়াই হবে ‘শাপলা কলি’র সঙ্গে ‘ধানের শীষের’।

এদিকে, বিএনপির মিত্র দল-জোটগুলো আগামী নির্বাচনে আসন সমঝোতার অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা মনে করছেন, মিত্রদের আসনগুলোর বিষয়ে বিএনপি স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে সারাদেশে পুরোদমে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হবে।

বিএনপির মিত্র জোট ১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র ও বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম জানান, আমরা মনে করি বিএনপির সঙ্গে অন্য যেসব দল বিগত ১৬-১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ছিল, তাদের আসন ছাড়ের বিষয়টি দ্রুত ফয়সালা হওয়া জরুরি। এতে জোটের প্রার্থীরাও নিজেদের প্রস্তুতিসম্পন্ন করে দ্রুত নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন।

এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম নির্বাচনী মিত্র ইসলামী আন্দোলনও প্রায় এক বছর ধরেই আসনে-আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করছে।  আর দলটির প্রার্থীরা অনেক আগে খেকেই তাদেও দলীয় প্রতীক ‘হাতপাখা’য় ভোট চেয়ে সারাদেশে পোস্টার-ব্যানার লাগিয়েছেন এবং গণসংযোগ চালাচ্ছেন। আর দলটির প্রার্থীরা প্রায় প্রতিদিনই নিজ নিজ এলাকায় পথসভা ও শোভাযাত্রা করছেন। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা রুটিন করে দলীয় প্রার্থীদের নির্বাচনী সভা-সমাবেশে যোগও দিচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামীর আরেক মিত্রদল-বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশও ইতোমধ্যে বেশির ভাগ আসনে তাদের দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে। দলটির আমির মামুনুল হক বিভিন্ন সভা-সমাবেশে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। দলটির প্রতীক ‘রিকশা’য ভোট চাচ্ছেন তিনি।  

এছাড়া ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দালেনের অন্যতম দল-নুরুল হক নুরের গণ-অধিকার পরিষদ, জোনায়েদ সাকির গণসংহতি আন্দোলন ও মজিবুর রহমান মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টিও ইতোমধ্যে দলীয় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। দলটির মনোনীত প্রার্থীরাও নিজ এলাকায় নির্বাচনি গণসংযোগ করছেন বলে জানা গেছে।

এছাড়া গণ-অধিকার পরিষদ ও গণসংহতি আন্দোলন আসন সমঝোতার বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনাও চালাচ্ছেন। পাশাপাশি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের এলডিপি, বিএনপি মিত্র জোট ‘১২ দলীয় জোট’ও তাদেও প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে।

জানা গেছে, বিএনপির মিত্র এলডিপি, ১২ দলীয় জোট আসন সমঝোতার অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া সাইফুল হক এর নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিও তাদের নির্বাচনী কার্যক্রম চালাচ্ছেন। খুব শিগগির দলটি তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।  

আরও জানা গেছে, বামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোও আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তাদের নতুন একটি জোট গঠন করছে। দেশের প্রধান প্রধান বাম প্রগতিশীল রাজনৈতিক জোট ও দলের সমন্বয়ে ‘কনভেনশনে’র মাধ্যমে চলতি নভেম্বরেই এর আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটবে। ছয়টি বাম দল নিয়ে গঠিত ‘বাম গণতান্ত্রিক জোট’ এবং শরীফ নূরুল আম্বিয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাসদ বৃহত্তর এ জোট গঠনের মূল উদ্যোক্তা বলে জানা গেছে। বাম গণতান্ত্রিক জোটভুক্ত দলগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন ও বাসদ (মার্কসবাদী)।

এছাড়া ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে থাকা বামপন্থিদের আরেক জোট ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চার শরিক দলগুলোর সঙ্গেও বৃহত্তর জোট গঠনের আলোচনা চলছে। এ জোটভুক্ত চারটি দল হচ্ছে- বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন, বাসদ (মাহবুব), গণমুক্তি ইউনিয়ন বলে জানা গেছে।

ভোরের আকাশ/এসএইচ

গণভোটজুলাই সনদনির্বাচন কমিশননির্বাচন

শেয়ার করুন: