দক্ষিণপন্থার জুজুর ভয় দেখিয়ে জনগণকে আর বোকা বানানো যাবে না: পাটওয়ারী

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, দেশে দক্ষিণপন্থা নামক ট্যাগ দিয়ে পুনরায় ইসলামপন্থিদের কোণঠাসা করার পাঁয়তারা চলছে। শেখ হাসিনা দেশের আলেম সমাজের ওপর নির্যাতনকে জায়েজ বানিয়ে ফেলেছিল। দক্ষিণপন্থার জুজুর ভয় দেখিয়ে দেশের জনগণকে এখন আর বোকা বানানো যাবে না। যদি দক্ষিণপন্থিরা দেশে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটায় তবে আপনার সমস্যা কী।
শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
জুলাই চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান: প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা এবং ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতার শহীদ ও আহত যারা’ বইয়ের ইংরেজি ও আরবি ভার্সনের মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে সেমিনারটির আয়োজন করা জামায়াত।
অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দুপুরে ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে (ডিএরইউ) এনসিপির শ্রমিক উইংয়ে নতুনদের যোগদান অনুষ্ঠানে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর এই সরকারও শ্রমিকের বুকে গুলি চালিয়েছে। গত কয়েক দশকে মালিক-শ্রমিকের মধ্যে দালাল এসেছে। অভ্যুত্থানের পর একটি দলের দুজন মহারথি বন্দর-ট্রাকস্ট্যান্ডে গড ফাদার হিসেবে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
নাসীরুদ্দীন বলেন, শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ ও মজুরি ঠিক না করে বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব নয়। সংসদে বেশির ভাগ হয়ে গেছেন আইনজীবী ও ব্যবসায়ী, সেখানে শ্রমিকদের কেউ নেই। তাহলে সেখানে শ্রমিক কেউ না থাকলে শ্রমিকের পক্ষ হয়ে কথা বলবে কে। সংসদে যিনি সংসদ সদস্য থাকেন, তিনি বড় ব্যবসায়ী হওয়ায় শ্রমিকদের না হয়ে ব্যবসায়ীর পক্ষ হয়ে সংসদে কথা বলেন। তাই জাতীয় সংসদে শ্রমিক প্রতিনিধি রাখতে হবে।
শ্রমিকদের বড় একটি অংশ মালিকদের পকেটে চলে যায় মন্তব্য করে পাটোয়ারী বলেন, আমরা দেখেছি, চেয়ারের বদল হলেও শ্রমিকের মজুরি বাড়েনি। শ্রমিকের রক্তের ওপরে দাঁড়িয়ে আবার পুরোনো ব্যবস্থার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছে একটি দল। কিছু নেতাকে আমরা মাঠে দেখেছি তাঁরা শ্রমিকদের পক্ষে লড়াই করে যাচ্ছেন। কিন্তু তাঁরা মাঠে গেলে বলেন, শ্রমিকের লোক; ভেতরে গেলে বলেন, মালিকের লোক। এদের মোকাবিলা করতে না পারলে বাংলাদেশের শ্রমিকদের রাজনীতি নতুন করে দাঁড়াবে না।
ভোরের আকাশ/জাআ