শিরোনাম
ঢামেকে চলছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরাচার দফা কমার পর সোনার ভরিতে বাড়ল ২২১৬ টাকাব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন বলসোনারোবিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দামদেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠকবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীঢামেকে চলছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরাচার দফা কমার পর সোনার ভরিতে বাড়ল ২২১৬ টাকাব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন বলসোনারোবিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দামদেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠকবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

রাজধানীর পূর্বাচলে গণসংবর্ধনায় তারেক রহমান

নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই

মাজাহারুল ইসলাম

প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মার্টিন লুথারের আই হ্যাভ অ্যা ড্রিমের উক্তি উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান।’ দেশকে গড়ে তুলতে পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। তাহলে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। সকলে মিলে নিরাপদ বাংলাদেশ, প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই বলে উল্লেখ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

গতকাল বৃহস্পতিবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লাল-সবুজ রঙে সাজানো একটি বাসে করে রাজধানীর পূর্বাচলে ৩০০ ফিটে গণসংবর্ধনাস্থলে পৌঁছান তারেক রহমান। বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে তিনি মঞ্চে ওঠেন। এসময় তার সঙ্গে বিএনপির সিনিয়র নেতারা ছিলেন। বেলা ৩টা ৫৭ মিনিটে তিনি বক্তব্য শুরু করেন। শুরুতেই, ‘প্রিয় বাংলাদেশ’ বলে মঞ্চে উঠে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাত নাড়েন তারেক রহমান। সে সময় উপস্থিত লোকজন ছিল প্রায় অর্ধকোটি। আর তাতে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিনত হয়।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে বলেন, ‘প্রিয় বাংলাদেশ, উপস্থিত প্রিয় মুরব্বিবর্গ, জাতীয় নেতৃবৃন্দ এবং প্রিয় ভাই ও বোনেরা, প্রিয় মা ও বোনেরা আসসালামু আলাইকুম।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, প্রথমেই আমি রাব্বুল আল আমিনের প্রতি হাজারো শুকরিয়া আদায় করছি। মহান রাব্বুল আলামিনের দোয়ায় মাতৃভূমিতে ফিরে এসেছি। আমি আপনাদের মাঝে ফিরে আসতে পেরেছি। তারেক রহমান এ সময় মা বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চান।

তারেক রহমান বলেন, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল।

তিনি বলেন, আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি ৭১ সালে লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিন হয়েছিল। ‘৭১ সালে যেমন মানুষ স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, সর্বস্তরের মানুষ কৃষক শ্রমিক, দল-মত শ্রেণিপেশা নির্বিশেষে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এদেশের সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেছিল। আজ বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়। গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায়। যোগ্যতা অনুযায়ী চায় ন্যায্য অধিকার।

তিনি আরও বলেন, আজ আমাদের সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। এ দেশে মুসলমান, হিন্দু বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই আছে। আমরা নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যে দেশে নারী, পুরুষ, শিশু সবাই যেন নিরাপদে ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে ফিরতে পারে। এই দেশে যেমন পাহাড়ের মানুষ আছে, তেমনি সমতলের মানুষ আছে। আমরা চাই সকলে মিলে এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলব, যে স্বপ্ন একজন মা দেখে। এই দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, ৪ কোটিরও বেশি তরুণ প্রজন্মের সদস্য, ৫ কোটির মতো শিশু, ৪০ লাখের মতো প্রতিবন্ধী মানুষ ও কয়েক কোটি কৃষক-শ্রমিক রয়েছে। এই মানুষগুলোর প্রত্যাশা আছে রাষ্ট্রের কাছে। এই মানুষগুলোর আকাঙ্ক্ষা আছে এই দেশের কাছে। আজ আমরা সকলে যদি ঐক্যবদ্ধ হই, আজ আমরা যদি সকলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, তাহলে আমরা এই মানুষগুলোর সেই প্রত্যাশাগুলো পূরণ করতে পারি ইনশাআল্লাহ,’ যোগ করেন তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী-তরুণ-যুবকসহ সর্বস্তরের মানুষের অবদান স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, সকলে জীবনবাজী রেখে এই দেশ থেকে ফ্যাস্টিস উৎখাত করেছেন।

ওসমান হাদিকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ওসমান হাদি চেয়েছিলেন এদেশের মানুষ অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পাক। ৭১ এ যারা শহীদ হয়েছে, ২৪ এ যারা শহীদ হয়েছে তাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। গণতান্ত্রিক, অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দেশকে গড়ে তুলতে চাই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, যে কোনো মূল্যে দেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তরুণ প্রজন্মই আগামীতে দেশ গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করে তিনি পরপর তিনবার বলেন, আমরা দেশের শান্তি চাই।

উসকানির মুখেও ধীর-শান্ত থাকতে হবে
যে কোনো উসকানির মুখে ধীর-শান্ত থাকতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, যেসব জাতীয় নেতারা এ মঞ্চে আছেন; যারা মঞ্চের বাইরে আছেন; আমরা সকলে মিলে এ দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। যে কোনো মূল্যে আমাদের এ দেশের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে।

নবীর ন্যায়পরায়ণতার আলোকে দেশ পরিচালনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো
জনগণের সমর্থন নিয়ে আগামীতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর ন্যায়পরায়ণতার আলোকে দেশ পরিচালনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, আগামী দিনে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে যারা আসবে, আমরা সবাই নবী করিম (সা.)-এর যে ন্যায়পরায়ণতা, সেই ন্যায়পরায়ণতার আলোকে দেশ পরিচালনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।

তারেক রহমান বলেন, যদি আল্লাহর রহমত এ দেশ ও দেশের মানুষের পক্ষে থাকে, আল্লাহর সাহায্য; আল্লাহর দয়া; এ দেশের মানুষের ওপরে; এ দেশের ওপরে থাকে; ইনশাআল্লাহ আমরা আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবো।

তিনি বলেন, দেশের মানুষের স্বার্থে আমার একটি পরিকল্পনা আছে। আপনারা যদি আমাদের পাশে থাকেন। আপনারা যদি আমাদের সহযোগিতা করেন আমরা আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবো।

তিনি আরো বলেন, আজ আমার মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে যাবো। আমার মা দেশের মানুষের জন্য সারাজীবন লড়াই সংগ্রাম করেছেন। যেই মানুষগুলোর জন্য আমার মা সারাজীবন লড়াই করে গেছেন। সেই মানুষগুলোর কাছে আজ আমি এসেছি।

তারেক রহমান বলেন, আমার মন পড়ে আছে এভারকেয়ার হাসপাতালে, যেখানে আমার মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যিনি বাংলাদেশকে তার জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবেসেছেন।

তিনি আরও বলেন, আজ আমার মায়ের কাছে যাওয়ার আগে আপনাদের কাছে এসেছি আমি। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। ইনশাল্লাহ সবাই মিলে গড়বো দেশ। আবারও আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি, আমাকে আপনারা বরণ করে নেয়ার জন্য। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এখন সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার।

তারেক রহমান বলেন, আমরা একটি নিরাপদ বাংলাদেশ চাই।

তিনি বলেন, আমরা দেশে ‘শান্তি চাই, শান্তি চাই, শান্তি চাই’। বক্তব্য দেওয়ার পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে অসুস্থ মাকে দেখতে যান তারেক রহমান।

তারেক রহমানের আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। সংবর্ধনা মঞ্চে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সালাহউদ্দিন আহমদ ছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া দীর্ঘদিনের যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীদের মধ্যে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, জাতীয় সমাজাতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তানিয়া রব, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর, এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক নুরুল আমিন ব্যাপারীসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকাল ১০টা থেকে নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত রাখতে মঞ্চ থেকে বক্তৃতা দিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী ও প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে আগত লাখ লাখ নেতাকর্মী এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। সকাল থেকেই রাজধানী ও আশপাশের জেলা থেকে আসা লাখো মানুষের উপস্থিতিতে ৩০০ ফিট এলাকা এক জনসমুদ্রে পরিণত হয়। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মঞ্চে ওঠার পর তারেক রহমান হাত নেড়ে জনতাকে অভিবাদন জানান।

গতকাল বেলা পৌনে ১২টার দিকে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ‘বিজি ২০২’ ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ পেরিয়ে মাটি ছুঁয়ে দেশের মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নেন তারেক রহমান। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে কড়া নিরাপত্তায় বুলেটপ্রুফ বাসে করে, রাস্তার দুপাশে দাঁড়ানো লাখ লাখ নেতাকর্মীর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে এবং জনতার উত্তাল তরঙ্গ পেরিয়ে ৩০০ ফিট সড়ক সংলগ্ন বিশাল গণঅভ্যর্থনার মঞ্চে উপস্থিত হন তারেক রহমান।

ভোরের আকাশ/এসএইচ

 

 

 

 

 

তারেক রহমান

শেয়ার করুন: