ডিম মারা সংস্কৃতি বাংলাদেশের জন্য লজ্জাজনক : জামায়াতে ইসলামী

যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেনের ওপর হামলা হয়েছে। এ সময় দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাসনিম জারা ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিক্রিয়া জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
তিনি বলেন, ‘ডিম মারা সংস্কৃতি’ বাংলাদেশের জন্য লজ্জাজনক। নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেনের ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনাকে তিনি ‘অসভ্য সংস্কৃতি’ আখ্যা দেন।
তিনি আরও বলেন, এটা আমি খুব বিব্রতভোধ করি না এজন্য যে বাংলাদেশের এই নেগেটিভ কালচারটা আগে থেকেই হয়ে আসছিল। যখন কোনও সরকার বা দল সফর করে তখন বিরোধী দলে যে থাকে তারা এখানে এসে স্লোগান দেয়। আমেরিকা একটি ডেমোক্রেটিক দেশ। ১০ থেকে ২০ জন এসে স্লোগান দিতে পারে। ডিম মারতে পারে। তবে এটা নিঃসন্দেহে ব্যাড কালচার।
ডা. তাহের বলেন, এটা খুব ব্যতিক্রমধর্মী এমন কোনও মানে হতাশ হওয়ার মতো বা খুব উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কোনও ঘটনা নয়। কারণ ১০ থেকে ২০ জন এসে ডিম মেরে দিতে পারে। তবে বাংলাদেশের জন্য এটা লজ্জাজনক। এই কালচার টা খুবই নেগেটিভ। এটার অবসান হওয়া উচিত। এখানে যারা করছে তারা অপমানিত হয়েছে। যারা করছে তারাই কনডেমনড হয়েছে তারাই বাংলাদেশকে অসম্মানিত করেছে।
তিনি বলেন, কোন একজন লোক বিদেশে আসবে। একজন লোক পাশে দাঁড়িয়ে ডিম একটা মারবে, এটা যার উপর মারছে তার এখানে কোন দায়িত্ব নেই এবং সে অপমানিত হওয়ারও কিছু নেই।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওভার অল পুরা ম্যানেজমেন্ট যেটা আমি দেখলাম যে, আজকে আমাদেরকে এক জায়গায় দিয়ে গাড়িতে উঠানো হয়েছে, আবার গাড়ি থেকে নামিয়ে নম্বর প্রসেস করা হয়েছে। এগুলো হাই কমিশনের খুব বেশি কমিউনিকেশন গ্যাপ আছে বলে এটা আমার কাছে মনে হয়েছে। হাইকমিশনের ম্যানেজমেন্ট ব্যর্থতা এটা তো কোন সন্দেহ নেই।
জামায়াতের এ নেতা বলেন, তাদের উচিত ছিল এর আগে আরও অনেকপ্রিপারেশন নেওয়া। আমরা দুইটা বড়দলের প্রতিনিধি আসছি এনসিপিসহ। কোঅর্ডিনেশন থাকলে আমরা সব একসাথে আসলে আওয়ামী লীগের কারও ধারে কাছে আসার সাধ্য ছিল না।
কর্মসূচির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের দলীয়ভাবে কিছু কর্মসূচি থাকবে। যারা আমাদের জনশক্তি আছে তাদের সঙ্গে আমরা মতবিনিময় করব এবং সব বাংলাদেশিদেরকে নিয়েই এখানে একটা প্রোগ্রাম হবে। দলমতের বাইরে প্রবাসী যারা আছে তাদের নিয়েও মতবিনিময় হবে। নানাভাবে এবং নানা নামে জামায়াতে ইসলামীর যারা এখানে রয়েছে তারা এখানে বেশ অনেকগুলো প্রোগ্রাম অর্গানাইজ করেছে। সকল দলমত মিলিয়ে সকল মানুষের একটা গেদারিং করার জন্য আমরা বলেছি। আমরা আশা করি সেটাও তারা করবে।
ভোরের আকাশ/মো.আ.