শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

পূর্ণাঙ্গ কমিটি পাচ্ছে যুবদল

মাজাহারুল ইসলাম

প্রকাশ : ৭ মে ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অন্যতম শক্তিশালী ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিত জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সংগঠনের সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঝিমিয়ে পড়া সাংগঠনিক তৎপরতায় প্রাণসঞ্চার এবং তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত চেইন অব কমান্ড পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শিগগিরই যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করা হবে-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সংগঠনের সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৮ জুলাই আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি ও নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই আংশিক কমিটিতে রেজাউল করিম পলকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, বিল্লাল হোসেন তারেককে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, কামরুজ্জামান জুয়েলকে সাংগঠনিক সম্পাদক এবং নুরুল ইসলাম সোহেলকে দপ্তর সম্পাদক করা হয়। ছয় সদস্যের আংশিক কমিটি দিয়ে সংগঠনটির কার্যক্রম চলছে প্রায় দুই বছর।  

বিএনপি দলটির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনে স্থবিরতা কাটাতে এবার নড়েচড়ে বসেছে। সংগঠনগুলো পুনর্গঠনে ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছেন চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই খবরে নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঙাভাব তৈরি হয়েছে এবং পদ-পদবির জন্য তাদের তৎপরতাও বেড়েছে। ইতোমধ্যে দলের হাইকমান্ডের কাছে ১৫১ সদস্য ও ২৫১ সদস্যের ২টি কমিটি জমা দিয়েছে জাতীয়তাবাদী যুবদল  সূত্রে জানা গেছে।

দলীয় সূত্র বলছে, আংশিক কমিটি গঠনের প্রায় দুই বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর পুর্নাঙ্গ কমিটির খসড়া হাই কমান্ডের কাছে জমা দেয়া হয়েছে। যে কোনো সময় কমিটি ঘোষণা করা হবে।

এদিকে সংগঠনের এক সূত্র জানিয়েছে, হাইকমান্ড ১৫১ সদস্য বিশিস্ট কমিটি গঠন করার নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু যুবদলের নেতৃবৃন্দ চাইছেন কমিটি ২৫১ সদস্য বিশিস্ট হোক। কারন এতে ত্যাগী ও পরিক্ষীতি বেশি সংখ্যক নেতাদের স্থান দেয়া সম্ভব হবে।

বিএনপির হাইকমান্ড সূত্রে জানা গেছে, যুবদলের আংশিক কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিয়ে সারা দেশে নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশেষ করে বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সাংগঠনিক সফর এবং ইউনিট কমিটিগুলোকে ঢেলে সাজানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নেতৃত্বের মানদণ্ড ও ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ত্যাগী, পরীক্ষিত এবং রাজপথের লড়াকু সৈনিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে যারা কারাবরণ করেছেন এবং পুলিশের হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করার নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির  চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

এ বিষয়ে জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না বলেন, যারা ডেডিকেটেড, ত্যাগী, পার্টির প্রতি বিশ্বস্ত তারাই পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে জায়গা পাবেন।

এ প্রসঙ্গে যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল করিম পল বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি হলে দায়িত্ব বণ্টন সুনির্দিষ্ট হবে, যার ফলে সাংগঠনিক কর্মসূচি পালন এবং তদারকি করা সহজ হবে। তিনি বলেন, কেবল রাজধানী নয়, বরং গ্রামগঞ্জ পর্যন্ত যুবদলের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাই হবে পূর্ণাঙ্গ কমিটির মূল অ্যাসাইনমেন্ট। সংগঠনকে কিভাবে শক্তিশালী করা যায়, সেই কৌশল প্রণয়নেও গুরুত্ব দিবে সংগঠনটি মনে করছেন এই যুবদল নেতা।

বিশ্বস্থ সূত্র জানায়, পূর্নাঙ্গ কমিটির মেয়াদ হতে পারে ১ বছরের বেশী তথা ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। তবে কমিটির সময় নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই পদপ্রত্যাশীদের। তারা চাচ্ছে নিজেদের জন্য সাংগঠনিক একটি পরিচয়। কারণ চলতি বছরের শেষের দিকে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগেই বিএনপির অঙ্গ সংগঠনগুলো পুনর্গঠন করা জরুরি বলেও মনে করছেন তারা।

সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। শীর্ষ ছয় সদস্যের নেতৃবৃন্দের ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ পদে আসার আলোচনায় রয়েছেন যারা। এই তালিকায় রয়েছেন সাবেক ১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন, সাবেক ছাত্রনেতা মাহাবুব হাসান পিংকু, আকরামুল হাসান, ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন, সাইদ ইকবাল টিটু, যুবদল ঢাকা মহানগর  দক্ষিণের আহ্বায়ক খন্দকার এনামূল হক এনাম, সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন, সাবেক ছাত্রনেতা ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ।

পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ প্রত্যাশী কয়েকজন নেতা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে আংশিক কমিটি বা সীমিত পরিসরের নেতৃত্বের কারণে অনেক ত্যাগী নেতা সাংগঠনিক পরিচয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে রাজপথে সক্রিয় থেকেও তারা প্রত্যাশিত মূল্যায়ন পাচ্ছেন না। যখন বিএনপির অঙ্গ সংগঠনগুলো পুনর্গঠনে আলোচনা চলছে তখনই যুবদলের আংশিক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য সংশোধিত বদলি নীতিমালা জারি

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দলীয় অঙ্গ সংগঠনের পুনর্গঠনের কার্যক্রম চলমান আছে। শিগগিরই যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে কবে নাগাদ পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনা হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দায়িত্বশীল নেতাদের নিয়ে কাজ করছেন। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যেই অঙ্গ সংগঠন পুনর্গঠন করা হবে।

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী কমিটি গঠনই এখন প্রধান লক্ষ্য। দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা ইউনিটগুলোতে নতুন মুখ আনার মাধ্যমে সংগঠনে গতি ফেরানোর চেষ্টা চলছে। তারা জানান, পদায়নের ক্ষেত্রে কেবল সিনিয়রিটি নয়, গুরুত্ব পাবে বিগত আমলে মামলার সংখ্যা ও পুলিশের হাতে নির্যাতনের চিত্র। যারা বিগত কয়েক বছরে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, তারাই হবেন নতুন কমিটির কান্ডারি। পদপ্রত্যাশীদের লবিং ও তদবিরেও এবার বিশেষ কড়াকড়ি থাকছে। ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের আমলনামা এখন হাইকমান্ডের টেবিলে।
 

ভোরের আকাশ/নি

পূর্ণাঙ্গ কমিটিযুবদল

শেয়ার করুন: