ঠাকুরগাঁওয়ে অনিয়মকারীদের সঙ্গে আঁতাত করেছেন সিইসি: জামায়াত

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও ইসি সচিবের বিরুদ্ধে অনিয়মকারীদের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর মগবাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই অভিযোগ করেন।
গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সচিব ও প্রধান যদি অনিয়মকে অস্বীকার করেন, তাহলে বুঝতে হবে যারা অনিয়ম করেছেন, তাদের সঙ্গে সিইসি ও ইসি সচিবের আঁতাত রয়েছে। তারা সাংবিধানিক পদে বসে এই পদের প্রতি সুবিচার করেননি।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার এ কথা বলেন। শনিবার ঢাকা থেকে খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখে লংমার্চের সর্বশেষ প্রস্তুতি সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরতে জামায়াত এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্র বা ব্যাজ ছাড়া দায়িত্ব পালনের অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাড়াতাড়ি কলম দিয়ে কাগজে পরিচয় লিখে পকেটে টানায়। তারা কোনো নিয়োগপত্রও দেখাতে পারেননি। ফলে তারা নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ করা কর্মকর্তা কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ ছিল না।
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে আগে থেকে ব্যালট পেপারে সিল মারা, জাল ভোট দেওয়া এবং কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কোনো কোনো কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ফলাফল ঘোষণা না করে পুলিশের গাড়িতে করে চলে যাওয়ার সময় দাঁড়িপাল্লার ভোটারেরা গাড়ি থামিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এসব ঘটনার পরেও ইসি সচিব অনিয়মের কথা অস্বীকার করেছেন বলে অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার বলেন, এ ধরনের মন্তব্য অনিয়মকে বৈধতা দিয়েছে।
তবে উপনির্বাচনের ফলাফল নিয়ে এখনই চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করতে চান না বলে জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, তৃণমূল থেকে আরও অনেক তথ্য আসছে। সেগুলো পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করে এ বিষয়ে তারা পরবর্তী সময়ে বক্তব্য দেবেন।
সংবাদ সম্মেলনে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, সরকারকে গণভোটের রায় মানতে হবে। এটি না মানলে রাজনৈতিক সংকট নিরসনের বিকল্প থাকবে না। সরকার একদলীয় ও কর্তৃত্ববাদী মনোভাব নিয়ে চলতে থাকলে রাজনীতি সংঘাতের দিকে যাবে। সরকারই দেশকে সেদিকে ঠেলে দিচ্ছে। জামায়াত সংসদের মাধ্যমে এ সংকটের সমাধান চায়।
গোলাম পরওয়ার বলেন, আগামী ৯ নভেম্বর সংসদের অধিবেশন রয়েছে। সরকার জনগণের আস্থার প্রতি সম্মান দেখাতে চাইলে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকতে হবে। এ জন্য বিশেষ কমিটির প্রয়োজন নেই। জনগণ গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আগামীকাল শনিবার জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের খুলনামুখী লংমার্চের প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, রাজধানীর বায়তুল মোকাররম থেকে গাড়িবহর যাত্রা শুরু করে হানিফ ফ্লাইওভার হয়ে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক ধরে ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, খুলনা, রূপসা সেতু পার হয়ে যশোর ও কুষ্টিয়ার দিকে যাবে। প্রায় ৪২৫ কিলোমিটারের এই যাত্রাপথে ১৯টি জেলা অতিক্রম করা হবে। পথে একাধিক পথসভা হবে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, শুরুতে ৬৫০ থেকে ৭০০টি গাড়ি থাকবে। বিভিন্ন জেলা থেকে গাড়ি যুক্ত হয়ে খুলনায় পৌঁছানোর সময় বহরে প্রায় এক হাজার গাড়ি হবে। পরে যশোর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া থেকে আরও গাড়ি যুক্ত হবে। কুষ্টিয়া জেলা স্টেডিয়াম পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার গাড়ি যুক্ত হওয়ার আশা তাদের।
ভোরের আকাশ/আ.র