শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

সুষ্ঠু ভোটের অঙ্গীকার ইসির, শঙ্কা জামায়াত-এনসিপির

মাজাহারুল ইসলাম

প্রকাশ : ৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

আর মাত্র ৩৪ দিন পরই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন। দীর্ঘ ১৭ বছর যে অধিকার বঞ্চিত হয়েছিল, সেই অধিকার ফিরে পাওয়ার দিনটির অপেক্ষায় দেশের ১৮ কোটি মানুষ। জনগণের ইচ্ছায়, সুষ্ঠু ভোটের মধ্যদিয়ে একটি জবাবদীহি সরকার গঠন হবে এবং দেশে সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে-এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। কাজেই অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহনযোগ্য ভোট আয়োজনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সরকার ও নির্বাচন কমিশন (ইসি)। 

জাতির ইতিহাসে একটি সেরা নির্বাচন উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অর্ন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূস। এ লক্ষে সরকারের উর্ধ্বতন মহল, প্রশাসন ও  ইসি দিনরাত কাজ করছেন বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে। এমনকি সকল শঙ্কা দূর করে শান্তিপূর্ন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট আয়োজনে অঙ্গীকার ইসির। তবে নির্বাচন সুষ্টু না হওয়ার শঙ্কা দেখছে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরির পার্টি (এনসিপি) ও কয়েকটি  ইসলামী দল।

সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষে সংসদ নির্বাচনে কঠোরভাবে আচরণবিধি প্রতিপালন ও অনিয়ম রোধে মাঠ পর্যায়ে ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম, নির্বাচন মনিটরিং টিম এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল গঠিত হচ্ছে ইসির নিদের্শনা অনুযায়ী। পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলা বিষয়ে কমিশনের সাথে গত রোববার সকল বাহিনী প্রধানদের এবং সংস্থা প্রধানদের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে তিন বাহিনী প্রধান তথা সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান এবং বিমান বাহিনী প্রধানের সাথে আলাদাভাবে মিটিং করেছে। সুষ্ঠু ভোট সম্পন্ন করই মূল টাগের্ট নিয়ে আলোচনা হয় ঐ বৈঠকে। নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী সব কাজ যেন নির্বিঘ্ন হতে পারে সে নির্দেশনা রয়েছে বৈঠকে। কাজেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখতে সারা দেশে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে যৌথ বাহিনী।

যৌথ বাহিনীর অভিযানের মূল লক্ষ্য তিনটি। ১. অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার: নির্বাচন সামনে রেখে যে অবৈধ অস্ত্রের সরবরাহ আছে, সেগুলো উদ্ধার করা। যেগুলোকে উদ্ধার করা সম্ভব না, সেগুলো যেন কোনো অপকর্মে ব্যবহৃত না হয়। ২. চিহ্নিত সন্ত্রাসীদেরকে গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসা। ৩. নির্বাচনকেন্দ্রিক দল এবং প্রার্থীর যে আচরণবিধি আছে, সেই আচরণবিধির বড় কোনো ব্যত্যয় ঘটলে তা যৌথ বাহিনী দেখবে।

সুষ্ঠু, গ্রহনযোগ্য ও নিরপেক্ষ ভোট আয়োজন প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, দেশে কোনো পাতানো নির্বাচন হবে না। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়েও আমরা শঙ্কিত নয়। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করবে কমিশন।

মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপিল কর্তৃপক্ষ হিসেবে সর্বোচ্চ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে নির্বাচন কমিশন। রিটার্নিং কর্মকর্তা কোনো মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিল করলে, উভয় ক্ষেত্রেই সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আপিল করার সুযোগ রয়েছে। 

তিনি বলেন, আমরা ইনসাফে বিশ্বাসী। আমরা ইনসাফ করব। শুনানি শেষে আপনারা দেখবেন, আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী ন্যায়বিচার করা হয়েছে। আইন সবার জন্য সমান এবং সবাই তা মানতে বাধ্য। 

সিইসি বলেন, আগের মতো এবার কোনো পাতানো নির্বাচন হবে না। যারা আবেদন করছেন আইনি ভিত্তিতে তা সমাধান করা হবে।

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচনে কঠোরভাবে আচরণবিধি প্রতিপালন ও অনিয়ম রোধে মাঠ পর্যায়ে ‘ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম’, ‘নির্বাচন মনিটরিং টিম’ এবং ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল’ থাকবে।

ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে রিটার্নিং অফিসাররা ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছেন। পরিপত্রে বলা হয়, নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম রোধে বিভিন্ন কমিটি গঠন ও তাদের কার্যপরিধি নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। আইন, বিধিমালা ও প্রচলিত পদ্ধতি অনুসরণ করে এসব কমিটি দায়িত্ব পালন করবে, যাতে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে রিটার্নিং অফিসারদের জন্য কয়েকটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে-(ক) বিশেষ কোনো মহলের কোনো প্রকার প্রভাব বা হস্তক্ষেপে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা যেন ক্ষুন্ন না হয় তা আইন, বিধিমালা ও আচরণ বিধিমালার আলোকে নিশ্চিত করতে হবে। (খ) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এমন কোনো কাজ করবেন না যেন তারা কর্তৃপক্ষ বা জনগণের কাছে হেয় প্রতিপন্ন হন। (গ) জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে এলাকার জনগণের যৌথ সভা করে ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখতে হবে। (ঘ) ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে আসা ও নিরাপদে বাড়ি ফেরার নিশ্চয়তা দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভ্রাম্যমাণ ইউনিটকে নিবিড় টহল দিতে হবে। (ঙ) ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে এবং যেকোনো প্রকার অশুভ কার্যকলাপ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে সদা সতর্ক থাকার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দিতে হবে। (চ) ভোটকেন্দ্রের তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর কেন্দ্রগুলোর অবস্থান সম্পর্কে নির্বাচনের আগে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম গঠন ও কাজ: সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে জেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকায় রিটার্নিং অফিসার এবং উপজেলা পর্যায়ে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নেতৃত্বে এই টিম গঠন করা হবে। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বেসরকারি পর্যায়ের নির্দলীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সদস্য হিসেবে থাকবেন। এই টিমের প্রধান কাজ হচ্ছে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ ও সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ যথাযথভাবে মেনে চলা হচ্ছে কি না, তা সরেজমিনে দেখা। নির্বাচনি ব্যয় নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করছে কি না তা তদারকি করা। আচরণবিধি ভঙ্গের ঘটনা নজরে আসলে তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি তদন্ত কমিটিকে জানানো। নির্বাচনি বিধি-নিষেধ ভঙ্গের ক্ষেত্রে মামলা দায়ের ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া। নির্বাচনি এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিদিনের প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে পাঠানো।

আচরণবিধি অবহিতকরণ: সব প্রার্থী, রাজনৈতিক দল ও তাদের এজেন্টকে আচরণবিধি সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। বিধি ভঙ্গের শাস্তি, বিশেষ করে প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।

নির্বাচন মনিটরিং টিম: তফসিল ঘোষণার পর রিটার্নিং অফিসারের নেতৃত্বে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে মনিটরিং টিম গঠন করতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল গঠন: নির্বাচনি এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে রিটার্নিং অফিসারের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল গঠন হবে। এতে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা নির্বাচন অফিসার, পুলিশ সুপার বা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের প্রতিনিধি, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর মনোনীত কর্মকর্তা থাকবেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলের কার্যপরিধি: এই সেল নির্বাচনি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে অবহিত করবে।

অন্যান্য ব্যবস্থা: ভোটাররা যেন অবাধে ও নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করে সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। নারী ভোটারসহ সব শ্রেণির ভোটারকে নিরাপদে ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাস্তানদের গ্রেপ্তারের নির্দেশও রয়েছে। গোলযোগপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। আচরণবিধি ভঙ্গ, উসকানিমূলক বক্তব্য বা অর্থ ও পেশিশক্তি দিয়ে নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

এছাড়াও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে ইতোমধ্যে প্রশাসনকে রদ-বদল করে সাজানো হয়েছে। তবুও নির্বাচন কমিশনের উপর আস্থা রাখতে পারছেন না জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ কয়েকটি ইসলামী দল। দলগুলোর নেতারা মনে করছেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করে একটা সুষ্ঠ নির্বাচন হোক। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা থাকা দরকার। নিরপেক্ষ ডিসি, এসপিকে নিয়োগ করার কথাও বলছেন তারা। তবে বর্তমান প্রশাসন নিয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আমি তো এখনো আশাবাদী। আমরা যদি কোনো বিচ্যুতি দেখতে পাই, তাহলে আমরা সেভাবে ব্যবস্থা নেব। ঢালাওভাবে তো কিছু না। আমরা সাধারণভাবে মনে করছি তারা (মাঠ প্রশাসন) প্রস্তুত আছেন, যোগ্য আছেন। যদি সুনির্দিষ্টভাবে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়, আমরা অবশ্যই তাৎক্ষণিকভাবে বিবেচনা করব।

এ প্রসঙ্গে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, প্রশাসন একটি দলের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে। জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

ডা. আবদুল্লাহ তাহের বলেন, আগামী নির্বাচন অতীতের পাতানো নির্বাচনগুলোর মতো হবে কি না তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। দু-এক সপ্তাহ ধরে সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী যেভাবে একটি বিশেষ দলের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে এবং প্রশাসন যেভাবে আনুগত্য দেখাচ্ছে এতে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ ধরনের পাতানো নির্বাচন বাংলাদেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে।

ইসিকে দৃঢ় হতে হবে উল্লেখ করে আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, ইসিকে প্রমাণ করতে হবে যে, তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। অন্যথায় জাতি আপনাকে দায়ী করবে। ইলেকশন কমিশনকে দায়ী করবে। সরকারকে করবে না। আমরা বলেছি নিরপেক্ষ ডিসি, এসপিকে নিয়োগ করতে হবে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখন সৃষ্টি হয়নি।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি আমরা আস্থা রাখতে চাই। আমরা যেহেতু নির্বাচন প্রক্রিয়ায় রয়েছি তাই ইসিকে প্রমাণ করতে হবে যে, তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়েও আমরা শঙ্কিত। নির্বাচনের আগে চিরুনি অভিযান করে অস্ত্র উদ্ধার না করলে নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে। আশা করি নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকার কারণে সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার শঙ্কা বলেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

দলটির মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেন, সরকারের বিভিন্ন অংশ একটি নির্দিষ্ট দলের দিকে ঝুঁকে যাওয়ার পাশাপাশি সামান্য কারণে, সংশোধনযোগ্য মনোনয়ন বাতিল করে রিটার্নিং অফিসাররা প্রার্থীদের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন।

আতাউর রহমান বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে এবং তাদের প্রধানরা ‘ভিভিআইপি প্রটোকল’ ভোগ করছেন, যা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির পথে বড় বাধা।

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, কিছু প্রার্থীর ক্ষেত্রে এসব ছোটখাটো ত্রুটি ক্ষমা করা হলেও আমাদের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি। এটি স্পষ্ট বৈষম্য।

নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ওপর জোর দিয়ে আতাউর বলেন, এখনো পর্যন্ত লুট হওয়া সব অস্ত্র উদ্ধার হয়নি।

কমিশন আমাদের জানিয়েছে, ৭০ শতাংশের মতো উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু এখনো অনেক অবৈধ অস্ত্র রয়ে গেছে। নির্বাচনের আগে অস্ত্র উদ্ধারের যে গতি থাকা উচিত, এবার আমরা তার চেয়ে কিছুটা কম লক্ষ্য করছি।

ভোরের আকাশ/এসএইচ

জামায়াত ইসলামীএনসিপিইসিজাতীয় সংসদ নির্বাচন

শেয়ার করুন: