শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ফল জালিয়াতির অভিযোগে আইনি লড়াইয়ে যাবে ১১ দল

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:০৪ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট অভিযোগ করেছে, অন্তত ৩২টি আসনে অল্প ভোটের ব্যবধানে তাদের প্রার্থীদের পরাজিত দেখাতে ফলাফলে অনিয়ম করা হয়েছে। এ বিষয়ে তারা নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, ইতোমধ্যে বিজয়ীদের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে, ফলে কমিশনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে সংবিধান ও প্রচলিত আইনের আওতায় আদালতে যাওয়ার পথ খোলা রয়েছে বলেও জানানো হয়।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, দ্রুত গেজেট প্রকাশ করায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, অভিযোগ যথাযথভাবে বিবেচনায় না নেওয়ায় তাদের জোটের প্রার্থীরা আইনি প্রতিকার চাইবেন এবং বিষয়টি আদালতে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

রোববার সকালে নির্বাচন ভবনে চার নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের প্রতিনিধিরা।

বৈঠক শেষে আযাদ বলেন, “নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভোটগণনা, ফলাফল প্রকাশের ত্রুটির বিষয়ে আমরা কথা বলেছি। পার্টিকুলারলি ৩২টি আসন চিহ্নিত করা হয়েছে স্বল্প ভোটের ব্যবধানে আমাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

“খেলাফত মজলিসের, আমি জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়কসহ অনেকের ক্ষেত্রে ঘটেছে। এসব তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছি। বলেছি এগুলো পুনর্গনা করা হোক।”

কমিশন তড়িঘড়ি করে গেজেট প্রকাশ করেছে মন্তব্য করে এ জামায়াত নেতা বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হয়েছে, ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টায় গেজেট করা হয়েছে। …গেজেট হয়ে যাওয়ার কারণে অভিযোগের সুযোগ নেই বলা হয়েছে প্রার্থীদের। অথচ তড়িঘড়ি করে ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে জামায়াত, এনসিপি প্রতিনিধি এসে বলেছিল, ‘গেজেট প্রকাশ করবেন না, অভিযোগ রয়েছে; এসব আসনের গেজেট স্থগিত রেখে পুনর্গণনার মধ্য দিয়ে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে রেজাল্ট দেন, গেজেট করেন’।

“এখন প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। উনারা বলছেন, ‘উনাদের নিয়ত ভালো, আইনের দরজা খোলা রয়েছে। সবই শুনেছি। আমরাও বলেছি অভিযোগ দিয়ে গেলাম, আমরাও আইনের প্রক্রিয়ার মধ্যে যাব। কিন্ত এখানে আমাদের অধিককার ক্ষুণ্ন করা হল, এ প্রশ্ন রয়ে গেল।”

কোথায় কীভাবে জালিয়াতি?

জামায়াত নেতা এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “অতীতে যে নির্বাচনের নামে যে প্রহসন হয়েছিল, সে জায়গা থেকে বেরিয়ে এসে আমরা একটি সুন্দর ঐতিহাসিক নির্বাচনের আকাঙ্ক্ষা ছিল—সে নির্বাচন হবে এবার।’’

ভোটগ্রহণ, গণনা, ফল ঘোষণার প্রক্রিয়া তুলে ধরে তিনি বলেন, “এ তিন ধাপের মধ্যে ভোটগ্রহণের বেলায় অতীতের তুলনায় এবার গুণগত পরিবর্তন দেখেছি কিছুটা। খুনাখুনি, সহিংসতা ছিল না। ভোটগ্রহণকালে অসুস্থ পরিবেশ ছিল নানা ধরনের।

“সূচনা সুন্দর হলেও সমাপ্তি সুন্দর হয়নি। জালভোট, কালোটাকা ছড়াছড়ি ও কোথাও হুমকি হামলা মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এগুলো সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন উপাদান তৈরি হয়েছে।”

আযাদ বলেন, “চিফ এজেন্টদের পক্ষ থেকে নানা অভিযোগ দায়ের করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা দেখিনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, যৌথবাহিনীর থাকলেও হারানো চার শতাধিক পিস্তল ও অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। অবৈধ উদ্ধার তো আছে। এগুলো নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে ভূমিকা রেখেছে।

“কালো টাকা, অস্ত্র, হুমকির পাশপাশি ইলেকশন ম্যানিপুলেশন করার কিছু কার্যক্রম আমরা লক্ষ্য করেছি। কোনো কোনো কেন্দ্রে অফিসাররা ব্যালটে সিল মারা, দলীয় কর্মীদেরও সিল মারার অভিযোগ রয়েছে। আবার ভোটগ্রহণকালে পথিমধ্যে বাধা-ভীতিকর পরিবেশের কারণে ভোটকাস্ট কম হয়েছে। ১১ দলের পক্ষ থেকে স্থানীয়ভাবে ও ইসিতে বলার পরও সন্তোষজনক পদক্ষেপ পাইনি।”

ফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ তুলে এ জামায়াত নেতা বলেন, “নির্বাচন শেষ হল সাড়ে ৪টায়, শেষদিকে কিছু কিছু যে ভোট কাস্ট হয়েছে, ৪টা ২০ মিনিটের যে রেজাল্ট রেকর্ড আমরা পেয়েছি, পূর্ণাঙ্গ রেজাল্টের সময় একই কেন্দ্রে অস্বাভাবিক ভোট কাস্ট দেখানো হয়েছে। তাহলে এখানে অতিরিক্ত ব্যালট ব্যবহার হয়েছে কি না প্রশ্ন রয়ে গেছে।”

আযাদ বলেন, “সব মিলিয়ে ইলেকশনে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় এ ত্রুটি লক্ষ্য করা গেছে। দ্বিতীয়ত গণনার ক্ষেত্রে কোথাও এজেন্টকে বের করা হয়েছে, জোর করা হয়েছে। গণনার সুষ্ঠু পরবেশ কোথাও কোথাও ছিল না। ফলে ইলেকশন ভোটগণনার মধ্যে ত্রুটি থাকলে ফলাফলে প্রভাব পড়বে স্বাভাবিক।

“ফলাফল শিটেও দেখা গেছে ঘষামাজা, ওভাররাইটিং-অনেক জায়গায় অরিজিনাল এজেন্টের স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি। ঢাকা-৬ আসনে রেজাল্টশিট পেন্সিলে, এজেন্টর নাম পরিবর্তন করা হয়, অন্য একটা স্বাক্ষর করা হয়। ত্রুটিপূর্ণ রেজাল্ট শিট হয়েছে।”

প্রতিনিধি দলে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির মিডিয়া সমন্বয়ক এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াত নেতা নাজিবুর রহমান মোমেন, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ও এনসিপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বিডি নিউজ

ভোরের আকাশ/এনএস

জালিয়াতি অভিযোগজামায়াতে ইসলামী

শেয়ার করুন: