সায়েদাবাদ প্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি, আসিফের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুরুতে ৪ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে অনুমোদিত প্রকল্পটির ব্যয় প্রথম সংশোধনে বেড়ে ৭ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা করা হয়। পরে দ্বিতীয় সংশোধনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ হাজার ১৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।
অর্থাৎ মূল অনুমোদিত ব্যয়ের তুলনায় প্রকল্পটির ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১১ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা। ব্যয় বৃদ্ধির যৌক্তিকতা, প্রকল্পের অগ্রগতি ও সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে এরই মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রকল্পটির ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তাঁর দায়িত্ব পালনকালে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে প্রকল্পটির ব্যয় বাড়ানো হয়েছে—এমন অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়নি।
একই ধরনের গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার প্রকল্পের সঙ্গেও সায়েদাবাদ প্রকল্পের ব্যয়ের তুলনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রায় ১০ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ের গন্ধর্বপুর প্রকল্পে সায়েদাবাদের তুলনায় বেশি পানি শোধন ক্ষমতা রয়েছে। পাশাপাশি ওই প্রকল্পের পাইপলাইনও দীর্ঘতর। অথচ এর ব্যয় সায়েদাবাদ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধিত ব্যয়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
এ অবস্থায় সায়েদাবাদ প্রকল্পের ব্যয় কেন এতটা বাড়ানো হলো, কাজের অগ্রগতি কম থাকা অবস্থায় ব্যয় বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা কী ছিল এবং এর পেছনে কোনো অনিয়ম বা আর্থিক স্বার্থ কাজ করেছে কি না—এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে।
উল্লেখ্য, সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় বর্তমানে ১৬ হাজার ১৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ঢাকা ওয়াসা বাস্তবায়ন করছে।
এদিকে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টিও অনুসন্ধানের আওতায় আসতে পারে বলে জানা গেছে।
তবে প্রকল্পটির ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহার জড়িত ছিল কি না, তা অনুসন্ধানের মাধ্যমে যাচাই হওয়ার বিষয়। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কারও বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
ভোরের আকাশ/জেআ