বিজ্ঞান যা বলছে
আইসক্রিম খেলে কি সত্যিই ব্রেকআপের কষ্ট কমে?

ব্রেকআপ বা সম্পর্কের বিচ্ছেদ মানুষের জীবনের অন্যতম কঠিন মানসিক অভিজ্ঞতা। এ সময় অনেকেই আইসক্রিম খান, প্রিয় গান শোনেন বা একা কিছু সময় কাটান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রায়ই দেখা যায়—ব্রেকআপ মানেই এক বালতি আইসক্রিম! কিন্তু প্রশ্ন হলো, আইসক্রিম কি সত্যিই মন ভালো করে, নাকি এটি কেবল সাময়িক অনুভূতি?
আইসক্রিম কেন ভালো লাগতে পারে?
মনোবিজ্ঞান ও স্নায়ুবিজ্ঞানের গবেষণা বলছে, সম্পর্ক ভেঙে গেলে মানুষের মস্তিষ্কে আনন্দের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু রাসায়নিকের (যেমন ডোপামিন ও অক্সিটোসিন) কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে মানসিক চাপের কারণে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়ে।
মিষ্টি ও সুস্বাদু খাবার খেলে মস্তিষ্কের 'রিওয়ার্ড সিস্টেম' কিছু সময়ের জন্য সক্রিয় হয়। ফলে সাময়িকভাবে মন কিছুটা হালকা বা স্বস্তিদায়ক অনুভূতি পেতে পারে। এ কারণেই অনেকের কাছে আইসক্রিম খেলে কষ্ট কিছুটা কমেছে বলে মনে হয়।
তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইসক্রিম মানসিক কষ্টের চিকিৎসা নয়। এটি কেবল কিছু সময়ের জন্য মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দিতে পারে। কিন্তু বিচ্ছেদের কষ্ট, একাকীত্ব বা মানসিক আঘাত কাটিয়ে উঠতে হলে সময়, ধৈর্য এবং সুস্থ মানসিক চর্চার প্রয়োজন।
বরং অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়ার অভ্যাস শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে মানসিক সুস্থতার জন্যও ভালো নয়।
তাহলে কী করলে উপকার মিলতে পারে?
বিচ্ছেদের পর নিজের অনুভূতিকে অস্বীকার না করে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার চেষ্টা করা গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে কিছু বিষয় সহায়ক হতে পারে—
- পরিবার ও বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো।
- নিয়মিত হাঁটা, ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করা।
- কুরআন তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া ও ইবাদতের মাধ্যমে মানসিক প্রশান্তি খোঁজা।
- নতুন কোনো দক্ষতা শেখা বা উপকারী কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখা।
- পর্যাপ্ত ঘুম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা।
ইসলামের দৃষ্টিতে মানসিক কষ্ট
ইসলাম মানুষকে দুঃখ-কষ্টের সময় ধৈর্য, দোয়া এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করার শিক্ষা দেয়। জীবনের প্রতিটি পরীক্ষা মুমিনের জন্য আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ হতে পারে।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
‘কষ্টের সঙ্গেই তো স্বস্তি আছে। অবশ্যই কষ্টের সঙ্গেই স্বস্তি আছে।’
-সুরা ইনশিরাহ : ৫-৬
আইসক্রিম খেলে কিছু মানুষের সাময়িক ভালো লাগতে পারে—এটি বৈজ্ঞানিকভাবেও ব্যাখ্যা করা যায়। তবে ব্রেকআপের কষ্ট থেকে সত্যিকার অর্থে বেরিয়ে আসতে প্রয়োজন সময়, আত্মসংযম, ইতিবাচক জীবনযাপন এবং মানসিক ও আধ্যাত্মিক যত্ন। ক্ষণিকের স্বস্তির চেয়ে নিজের সুস্থতা ও আল্লাহর সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়াই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে কল্যাণকর।
ভোরের আকাশ/এনএ