আজ অলসদের দিন

অ্যালার্মের কর্কশ শব্দে ঘুম ভাঙা, তড়িঘড়ি করে কাজের উদ্দেশ্যে ছোটা কিংবা সারা দিন ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে দৌড়ানো—এই তো আমাদের দৈনন্দিন জীবন। কিন্তু এই নিরন্তর দৌড়ঝাঁপ থেকে বিরতি নিয়ে কেবল অলসতায় কাটানোর দিন যদি বছরে অন্তত একটা পাওয়া যেত? হ্যাঁ, অলসদের সেই কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নপূরণের জন্যই উদ্যাপিত হয় ‘আন্তর্জাতিক অলস দিবস’ ।
প্রতি বছর ১০ আগস্ট বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ভিন্নধর্মী এই দিনটি। কাজের সব চাপ, ইমেইল, নোটিফিকেশন আর ডেডলাইনকে একপাশে সরিয়ে রেখে একটু নিজেদের মতো ঝিমিয়ে নেওয়ার জন্যই দিবসটির অবতারণা।
কীভাবে এলো এই অলস দিবস?
অলসদের নিয়ে এই বিশেষ দিন পালনের সুনির্দিষ্ট ইতিহাস বেশ ধোঁয়াশাপূর্ণ—যা হয়তো অলসদের স্বভাবের সাথেই সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ! ধারণা করা হয়, কোনো এক অলস বা উদ্যমী ব্যক্তি হয়তো কোনো কাজ না করার অজুহাত হিসেবেই প্রথম এই দিবসটির ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে কারণ যাই হোক, আধুনিক জীবনের তীব্র ব্যস্ততা ও স্ট্রেসের ভিড়ে এক দিনের এই ‘অলসতা’ এখন বিশ্বজুড়ে বেশ জনপ্রিয়।
বিজ্ঞান কী বলে? অলসতা কি আসলেই খারাপ?
আমরা সাধারণত অলসতাকে নেতিবাচক চোখে দেখি। তবে আধুনিক স্বাস্থ্য ও মনস্তত্ত্ববিজ্ঞান বলছে, পরিমিত অলসতা শরীর ও মনের জন্য বেশ উপকারী:
মস্তিষ্কের বিশ্রাম : সারাক্ষণ কাজ করলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায়। একটু অলস সময় কাটালে মস্তিষ্কে নতুন চিন্তার বিকাশ ঘটে।
মানসিক চাপ হ্রাস: কোনো অপরাধবোধ ছাড়াই অলস সময় কাটালে শরীরে স্ট্রেস হরমোন (কোর্টিসল)-এর মাত্রা কমে আসে।
সৃজনশীলতা বৃদ্ধি: বিখ্যাত অনেক বৈজ্ঞানিক বা শৈল্পিক আইডিয়া অলসভাবে শুয়ে-বসে চিন্তা করার সময় বের হয়ে এসেছে।
আজকের এই দিনে অলসদের করণীয়:
১. অ্যালার্ম বন্ধ রেখে অতিরিক্ত কিছুক্ষণ বিছানায় গড়া দেওয়া।
২. জমে থাকা প্রিয় কোনো বই পড়া বা ঘণ্টার পর ঘণ্টা পছন্দের মুভি-সিরিজ দেখা।
৩. রান্না বা জটিল গৃহস্থালি কাজ এড়িয়ে গিয়ে সহজ কোনো খাবার বা টেক-আওয়ে উপভোগ করা।
৪. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সব তাড়া এড়িয়ে নিজেকে কিছুটা সময় দেওয়া।
প্রতিদিনের ইঁদুরদৌড়ে ক্লান্ত শরীর ও মনকে চাঙ্গা করতে মাঝে মাঝে অলস হওয়াটা কোনো অপরাধ নয়, বরং নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের উপায়। তাই আজকের দিনটিতে অপরাধবোধ ভুলে একটুখানি জিরিয়ে নিন—শুভ আন্তর্জাতিক অলস দিবস!
ভোরের আকাশ/জেআ