শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ব্যস্ত জীবনে দাম্পত্য সম্পর্ক শক্ত রাখার উপায়

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

কর্মব্যস্ত জীবন, ক্যারিয়ারের প্রতিযোগিতা, পারিবারিক দায়িত্ব আর সোশ্যাল মিডিয়ার ভার্চুয়াল দুনিয়া—সব মিলিয়ে আধুনিক দম্পতিদের নিজেদের জন্য একান্ত সময় বের করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক সময় একই ছাদের নিচে বছরের পর বছর পার হলেও মানসিক দূরত্বের কারণে সম্পর্কে একঘেয়েমি চলে আসে। এই সংকট থেকে বাঁচতে এবং বৈবাহিক জীবনকে আজীবন মধুর ও প্রাণবন্ত রাখতে ‘কোয়ালিটি টাইম’ কাটানো অত্যন্ত জরুরি।

তবে প্রশ্ন হলো—সংসার ও কর্মব্যস্ততা সামলে দিনে ঠিক কতক্ষণ স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে সময় কাটানো উচিত? সমাজবিজ্ঞানী ও সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের গবেষণার আলোকে এর একটি চমৎকার ও বাস্তবমুখী রূপরেখা নিচে তুলে ধরা হলো:

১. ‘২০ মিনিটের গোল্ডেন রুল’

সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, সারাদিনের ব্যস্ততার মাঝে দম্পতিদের জন্য কোনো রকম পারিবারিক বা দুনিয়াবী জটিল আলোচনা ছাড়া অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট একান্ত সময় কাটানো বাধ্যতামূলক।

এই সময়টা কেমন হবে: এই ২০ মিনিটে কোনো মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ বা টেলিভিশন থাকবে না। ঘরের সন্তান বা সংসারের হিসাব-নিকাশ নিয়েও কোনো কথা হবে না। এটি কেবলই আপনাদের দুজনের সময়। একে অপরের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন, সারাদিন কেমন কাটল তা জানুন এবং মানসিক অনুভূতিগুলো শেয়ার করুন। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘মাইন্ডফুল কানেকশন’ বলা হয়।

২. ‘৫:১’ অনুপাতের গুরুত্ব

বিখ্যাত সম্পর্ক গবেষক ড. জন গটম্যানের মতে, একটি সুখী দাম্পত্য সম্পর্কের জন্য ‘৫:১’ অনুপাত মেনে চলা উচিত। অর্থাৎ, প্রতিটি নেতিবাচক বা সাধারণ কথোপকথনের বিপরীতে অন্তত ৫টি ইতিবাচক বা রোমান্টিক মিথস্ক্রিয়া  থাকা প্রয়োজন। দিনে অন্তত ১৫-২০ মিনিট একে অপরের প্রশংসা করা, পুরনো কোনো সুন্দর স্মৃতি রোমন্থন করা বা স্রেফ একসাথে হাসাহাসি করা এই অনুপাত বজায় রাখতে সাহায্য করে।

৩. সপ্তাহের একটি ‘ডেট নাইট’

দৈনিক ২০-৩০ মিনিটের বাইরেও সপ্তাহে অন্তত একটি দিন নিজেদের জন্য একটু বড় সময় (৩-৪ ঘণ্টা) বরাদ্দ রাখা উচিত।

করণীয়: ছুটির দিনে দুজনে মিলে বাইরে কোথাও খেতে যাওয়া, সিনেমা দেখা, কিংবা কোনো পার্ক বা নিরিবিলি জায়গায় হাঁটতে যাওয়া। যদি বাইরে যাওয়া সম্ভব না হয়, তবে ঘরের ভেতরেই বাচ্চাদের ঘুম পাড়িয়ে একসাথে ক্যান্ডেল লাইট ডিনার বা পছন্দের কোনো শো দেখতে পারেন।

সময় কাটানোর ৩টি বিশেষ ও কার্যকর উপায়:

আরও পড়ুন

পাকিস্তানে জ্বালানি বাজারে স্বস্তির বার্তা

১. ডিজিটাল ডিটক্স  : রাতে ঘুমানোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই মোবাইল ফোন সাইলেন্ট করে দূরে রেখে দিন। বিছানায় স্ক্রিন স্ক্রোল করার অভ্যাস দাম্পত্য জীবনের রোমান্সকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই সময়টুকু একে অপরকে জড়িয়ে ধরে গল্প করুন বা হালকা ম্যাসাজ করে দিন।
২. একসাথে ঘরের কাজ করা : সময় কাটানো মানেই যে মুখোমুখি বসে কথা বলতে হবে, তা নয়। রাতে বা সকালে দুজনে মিলে একসাথে রান্না করা, ঘর গোছানো বা টেবিল সাজানোর কাজগুলোও চমৎকার কোয়ালিটি টাইম হতে পারে। এতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও কাজের প্রতি বোঝাপড়া বাড়ে।
৩. একসাথে হাঁটা : বিকেলে বা সকালে মাত্র ১৫-২০ মিনিটের জন্য দুজনে একসাথে হাঁটতে বের হতে পারেন। বাইরের খোলা বাতাস এবং হাঁটাহাঁটির সময় মন প্রফুল্ল থাকে, যা সুন্দর ও খোলামেলা আলোচনার জন্য দারুণ পরিবেশ তৈরি করে।

দাম্পত্য জীবনে সময়ের পরিমাণের চেয়ে সময়ের গুণগত মান  বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা সারাদিনে কত ঘণ্টা একসাথে বসে আছেন, তার চেয়ে বড় বিষয় হলো যতটুকু সময় একসাথে আছেন—সেখানে একে অপরের প্রতি কতটা মনোযোগ এবং আন্তরিকতা রয়েছে। প্রতিদিনের এই ছোট ছোট বিনিয়োগই একটি সম্পর্ককে আজীবন মজবুত ও সুখী রাখে।

ভোরের আকাশ/জেআ

দাম্পত্য জীবন

শেয়ার করুন: