বাথরুমে সতর্ক না হলে বাড়তে পারে স্ট্রোকের ঝুঁকি

দৈনন্দিন জীবনের একটি অত্যন্ত সাধারণ স্থান হলেও গোসলখানা বা বাথরুম অনেক সময় হঠাৎ বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কেন্দ্র হয়ে ওঠে। স্বাস্হ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের মতো মারাত্মক ঘটনাগুলোর একটি বড় অংশ বাথরুমেই ঘটে থাকে। প্রতিদিনের কিছু অসচেতনতা, গোসলের ভুল নিয়ম এবং শরীরের তাপমাত্রা ও রক্তচাপের হঠাৎ পরিবর্তনের কারণেই মূলত এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
যেসব ভুলের কারণে ঝুঁকি বাড়ে
বাথরুমে হঠাৎ রক্তচাপ ওঠানামা বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের পেছনে প্রধানত কয়েকটি ভুল কাজ দায়ী:
মাথায় সরাসরি ঠান্ডা পানি ঢালা: গোসল শুরুতেই সরাসরি মাথায় ঠান্ডা পানি ঢাললে শরীরের রক্তনালীগুলো হঠাৎ সংকুচিত হয়ে যায়। এর ফলে হুট করে রক্তচাপ (Blood Pressure) আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যেতে পারে, যা স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম প্রধান কারণ।
অতিরিক্ত কোষ্ঠকাঠিন্যে জোরে কোঁথ দেওয়া: বাথরুমে মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করলে পেটে ও মাথায় তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানে 'ভালসালভা ম্যানুভার' (Valsalva Maneuver) বলা হয়। এর ফলে হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপে হঠাৎ তীব্র পরিবর্তন ঘটে, যা দুর্বল রক্তনালী ফেটে যাওয়া বা হার্টে ব্লকেজের ঝুঁকি বাড়ায়।
অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা পানির হঠাৎ ব্যবহার: শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার সাথে সামঞ্জস্য না রেখে হঠাৎ করে খুব গরম বা অতিরিক্ত বরফ-ঠান্ডা পানি ব্যবহার করলে স্বায়ত্তশাসিত স্নায়ুতন্ত্রে (Autonomic Nervous System) ধাক্কা লাগে।
হঠাৎ ঝুঁকে পড়া বা দ্রুত উঠে দাঁড়ানো: বাথরুমে নিচু হয়ে কিছু তোলার সময় বা বসে থাকা অবস্থা থেকে একঝটকায় দ্রুত উঠে দাঁড়ালে রক্তচাপ হঠাৎ কমে যেতে পারে (Orthostatic Hypotension)। এতে মাথা ঘুরে পড়ে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
বাথরুমের ভেজা পিচ্ছিল মেঝ ও দুর্বল বায়ুচলাচল: ভেজা মেঝের কারণে পিছলে পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার ভীতি থেকেও রক্তচাপ বাড়তে পারে। এছাড়া বন্ধ বাথরুমে সঠিক বায়ুচলাচল না থাকলে অক্সিজেনের সামান্য ঘাটতি তৈরি হয়ে মাথা ঘোরার সমস্যা হতে পারে।
প্রতিরোধে করণীয় ও সঠিক নিয়ম
পায়ের দিক থেকে পানি ঢালা: গোসল করার সময় প্রথমে পায়ে, তারপর হাঁটু, উরু, পেট ও কাঁধে পানি দিন। সবশেষে মাথায় পানি ঢালুন। এতে শরীর পানির তাপমাত্রার সাথে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায়।
আস্তে ধীরে কাজ করা: বাথরুমে তাড়াহুড়ো না করে ধীরে সুস্থে সব কাজ করুন এবং মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে আঁশযুক্ত খাবার ও পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
সুরক্ষা নিশ্চিত করা: বাথরুমের মেঝে সবসময় শুকনো রাখার চেষ্টা করুন, অ্যান্টি-স্লিপ ম্যাট ব্যবহার করুন এবং বয়স্কদের জন্য বাথরুমে সাপোর্ট হ্যান্ডেল বা গ্র্যাব বার বসানো নিশ্চিত করুন।
একটু সচেতনতা এবং গোসলের সঠিক নিয়ম মেনে চললেই বাথরুমের এই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিগুলো অনায়াসে এড়ানো সম্ভব। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এসব বিষয়ে বাড়তি সতর্ক থাকা জরুরি।
ভোরের আকাশ/জেআ