এই সময়ে জ্বর? জেনে নিন কারণ, ঘরোয়া যত্ন এবং সতর্কতা

আবহাওয়ার পরিবর্তন, বর্ষা থেকে শরতের আগমন কিংবা ঋতু পরিবর্তনের সময় হুট করেই ঘরে ঘরে জ্বরের প্রকোপ বাড়তে দেখা যায়। হঠাৎ শরীরে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া, সাথে মাথাব্যথা বা শরীর ব্যথার মতো উপসর্গগুলো দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই সময়ে জ্বর হওয়াটা ঋতু পরিবর্তনজনিত সাধারণ ভাইরাসের (Viral Fever) কারণে হলেও, কিছু লক্ষণ খেয়াল রেখে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।
এই সময়ের জ্বরের সম্ভাব্য প্রধান কারণসমূহ
১. সিজনাল ভাইরাল ফিভার: আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে বাতাসে জীবাণুর বিস্তার বাড়ে, যা থেকে সাধারণ সর্দি-জ্বর বা ইনফ্লুয়েঞ্জা দেখা দেয়।
২. ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া: মশার কামড়জনিত এই রোগগুলো বর্ষা বা এর পরবর্তী সময়ে ব্যাপক আকার ধারণ করে। উচ্চ তাপমাত্রা, চোখের পেছনে ব্যথা ও হাড়ে তীব্র ব্যথাই এর প্রধান লক্ষণ।
৩. পানিবাহিত ও অন্যান্য সংক্রমণ: দূষিত পানি বা বাইরের খাবারের কারণে টাইফয়েড বা ইউরিন ইনফেকশন (UTI)-এর মতো ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের কারণেও জ্বর হতে পারে।
জ্বর হলে প্রাথমিক ঘরোয়া যত্ন ও করণীয়
পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার: শরীর ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা মুক্ত রাখতে পর্যাপ্ত পানি, ডাবের পানি, ওরস্যালাইন এবং গরম সুপ গ্রহণ করুন।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম: ভাইরাল ইনফেকশনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শরীরকে পূর্ণ বিশ্রাম দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।
স্পঞ্জিং বা গা মোছা: শরীরের তাপমাত্রা বেশি থাকলে হালকা গরম বা স্বাভাবিক পানিতে সুতি কাপড় ভিজিয়ে পুরো গা বারবার মুছে দিন। (কখনোই ঠান্ডা পানি ব্যবহার করবেন না)।
প্যারাসিটামল সেবন: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বা সাধারণ নিয়মে বয়স ও ওজন মেপে প্যারাসিটামল সেবন করা যেতে পারে। (তবে কোনো অবস্থাতেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করবেন না)।
কখন দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাবেন?
জ্বরকে সবসময় সাধারণ ভাবা ঠিক নয়। নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে নিকটস্থ চিকিৎসক বা হাসপাতালে যোগাযোগ করা উচিত:
জ্বর যদি ৩ দিনের বেশি সময় ধরে ক্রমাগত থাকে বা ১০২°-১০৩° ফারেনহাইটের উপরে থাকে।
শরীরে লালচে র্যাশ বা চাকা দেখা দিলে কিংবা নাক-মুখ দিয়ে রক্তপাতের আভাস পেলে।
তীব্র পেটব্যথা, ক্রমাগত বমি বা একদম খেতে না পারা।
শ্বাসকষ্ট, বুক ব্যথা বা অতিরিক্ত শারীরিক দুর্বলতা ও অচেতন ভাব।
ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে সামান্য সতর্কতাই আপনাকে ও আপনার পরিবারকে সুস্থ রাখতে পারে। জ্বর হলে আতঙ্কিত না হয়ে পর্যাপ্ত বিশ্রাম গ্রহণ করুন, প্রচুর তরল খাবার খান এবং লক্ষণ বুঝে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ভোরের আকাশ/জেআ