গ্রিন টি খাওয়ার ৪টি উপযুক্ত সময় জেনে নিন

ওজন নিয়ন্ত্রণ, মেটাবোলিজম বৃদ্ধি এবং শরীরকে টক্সিনমুক্ত রাখতে গ্রিন টি -এর জুড়ি নেই। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের খাদ্যাভ্যাসে এটি একটি নিয়মিত পানীয়। তবে যেকোনো স্বাস্থ্যকর উপাদানের পূর্ণ উপকারিতা পেতে তা সঠিক সময়ে পান করা অত্যন্ত জরুরি। ভুল সময়ে গ্রিন টি পান করলে হজমের সমস্যা বা আয়রন শোষণে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, সারাদিনের মধ্যে গ্রিন টি পান করার ৪টি সবচেয়ে কার্যকর ও উপযুক্ত সময় নিচে তুলে ধরা হলো:
গ্রিন টি পানের ৪টি সঠিক সময়
১. সকালের নাশতার ১ ঘণ্টা পর: খালি পেটে গ্রিন টি পান করলে গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা হতে পারে। তাই সকালে হালকা ও পুষ্টিকর নাশতা খাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা পর গ্রিন টি পান করা সবচেয়ে ভালো। এটি শরীরকে সতেজ করে এবং দিনের শুরুতেই মেটাবোলিজম ত্বরান্বিত করে।
২. শরীরচর্চা বা ব্যায়ামের ৩০ মিনিট আগে: ব্যায়াম বা ওয়ার্কআউট শুরু করার আধঘণ্টা আগে এক কাপ গ্রিন টি পান করলে এতে থাকা ‘ক্যাটেচিন’ ও ক্যাফেইন শরীরের ফ্যাট বার্নিং প্রসেস বা চর্বি ঝরানোর প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং শারীরিক স্ট্যামিনা বাড়ায়।
৩. প্রধান খাবারের (দুপুর বা রাতের খাবার) ১-২ ঘণ্টা পর: ভারী খাবার খাওয়ার পরপরই গ্রিন টি পান করা অনুচিত, কারণ এটি খাবারে থাকা আয়রন ও প্রোটিন শোষণে বাধা দেয়। তাই দুপুরের বা রাতের খাবার গ্রহণের অন্তত ১ থেকে ২ ঘণ্টা পর গ্রিন টি পান করলে তা খাবার হজমে দারুণ সহায়তা করে।
৪. বিকেলে বা সন্ধ্যার নাস্তার সময়ে: বিকেলের দিকে যখন শরীরে ক্লান্তি ভাব আসে, তখন অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স বা প্রসেসড ফুডের বদলে এক কাপ গরম গ্রিন টি পান করলে শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি ফিরে আসে এবং মেটাবোলিজম সক্রিয় থাকে।
সতর্কতা ও কিছু জরুরি নিয়ম
খালি পেটে পরিহার করুন: কখনোই সকালে ঘুম থেকে উঠেই খালি পেটে গ্রিন টি পান করবেন না।
ঘুমানোর ঠিক আগে নয়: গ্রিন টি-তে সামান্য পরিমাণে ক্যাফেইন থাকে, যা অনেকের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তাই ঘুমানোর অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগেই চা পান শেষ করা উচিত।
পরিমিত মাত্রা: দিনে ২ থেকে ৩ কাপের বেশি গ্রিন টি পান করা উচিত নয়।
সঠিক সময়ে ও পরিমিত মাত্রায় গ্রিন টি পান করার অভ্যাস গড়ে তুললে তা শরীরের সার্বিক কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আপনাকে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ ও সতেজ রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
ভোরের আকাশ/জেআ