ঘরেই তৈরি করুন সুস্বাদু ‘ছানা পায়েস’

বাঙালি সংস্কৃতিতে যেকোনো আনন্দঘন মুহূর্ত, উৎসব বা পারিবারিক আয়োজনে ‘পায়েস’ একটি অপরিহার্য পদ। সাধারণ চাল বা সেমাইয়ের পায়েসের বাইরে একটু ভিন্ন ও রাজকীয় স্বাদ পেতে চাইলে তৈরি করতে পারেন জিভে জল আনা ‘ছানা পায়েস’। ছানার নরম বল এবং ঘন ক্ষীর বা দুধের মিশ্রণে তৈরি এই পদটি ছোট-বড় সবার কাছেই দারুণ জনপ্রিয়।
খুব সহজেই ঘরোয়া উপকরণ দিয়ে কীভাবে সুস্বাদু ছানা পায়েস তৈরি করা যায়, তার একটি সহজ প্রণালী নিচে তুলে ধরা হলো:
উপকরণ
- দুধ — ২ লিটার
- লেবুর রস — ২ টেবিল চামচ
- চিনি — আধা কাপ (স্বাদ অনুযায়ী)
- এলাচ — ২–৩টি
- কিশমিশ — ১ টেবিল চামচ
- কাজুবাদাম বা পেস্তা কুচি — ২ টেবিল চামচ
- ঘি — ১ চা চামচ (ঐচ্ছিক)
প্রস্তুত প্রণালী
১.এক লিটার দুধ ফুটিয়ে চুলা বন্ধ করুন। অল্প অল্প করে লেবুর রস দিয়ে নাড়ুন। দুধ ফেটে ছানা ও পানি আলাদা হয়ে গেলে পরিষ্কার পাতলা কাপড়ে ছেঁকে নিন। ঠান্ডা পানি দিয়ে ছানা ধুয়ে নিন, যাতে লেবুর গন্ধ চলে যায়। এরপর পানি ঝরিয়ে রাখুন।
২.ছানা হাত দিয়ে ভালোভাবে মথে নরম করে নিন। তবে অতিরিক্ত মথবেন না, এতে ছানা শক্ত হয়ে যেতে পারে।
৩.বাকি এক লিটার দুধ একটি পাত্রে নিয়ে মাঝারি আঁচে জ্বাল দিন। দুধ কিছুটা ঘন হয়ে এলে চিনি ও এলাচ দিন। মাঝে মাঝে নাড়ুন, যাতে পাত্রের তলায় লেগে না যায়।
৪.ঘন দুধে মথে রাখা ছানা দিয়ে অল্প আঁচে ৮–১০ মিনিট রান্না করুন। ছানা যেন দলা পাকিয়ে শক্ত না হয়ে যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
৫.কিশমিশ ও বাদাম কুচি দিয়ে আরও ২–৩ মিনিট রান্না করুন। পায়েস বেশি ঘন হয়ে গেলে সামান্য গরম দুধ যোগ করতে পারেন।
৬. ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন
চুলা বন্ধ করে পায়েস ঠান্ডা হতে দিন। এরপর ফ্রিজে ১–২ ঘণ্টা রেখে ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করুন।
সুস্বাদু ছানা পায়েসের টিপস
- ছানা নরম রাখলে পায়েসের স্বাদ ও গঠন ভালো হবে।
- চিনি দেওয়ার আগে দুধ কিছুটা ঘন করে নিন।
- বেশি সময় ছানা রান্না করলে তা শক্ত হয়ে যেতে পারে।
- চাইলে সামান্য গোলাপজল বা কেওড়াজল দিয়ে সুগন্ধ বাড়াতে পারেন।
ভোরের আকাশ/জেআ