বারবার আঙুল মটকালে কি ক্ষতি হয়?

কাজ করার ফাঁকে বা অভ্যাসবশত অনেকেই আঙুল ফুটিয়ে বা মটকিয়ে থাকেন। মট শব্দ হওয়ার পর আঙুলে এক ধরনের হালকা অনুভূতির সৃষ্টি হয়। কিন্তু বহু বছর ধরে প্রচলিত একটি ধারণা—‘আঙুল মটকালে বা ফোটালে বাতের ব্যথা (আর্থ্রাইটিস) হয়।’ চিকিৎসাবিজ্ঞান ও সাম্প্রতিক গবেষণায় এই ধারণার সত্যতা কতটুকু, তা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞরা।
আঙুল মটকালে আওয়াজ হয় কেন?
আমাদের আঙুলের জোড়া বা জয়েন্টের চারপাশে 'সাইনোভিয়াল ফ্লুইড' নামক এক ধরনের তরল পদার্থ থাকে, যা হাড়ের ঘর্ষণ রোধ করে।
- যখন আঙুলে চাপ দেওয়া বা মটকানো হয়, তখন জয়েন্টের ভেতরে স্থান প্রসারিত হয় এবং চাপ কমে যায়।
- চাপ কমে যাওয়ার ফলে ওই তরলে দ্রবীভূত গ্যাস (প্রধানত নাইট্রোজেন) বুদ্বুদ বা বাবল তৈরি করে।
- সেই গ্যাসের বুদ্বুদ দ্রুত ফেটে যাওয়া বা তৈরি হওয়ার ফলেই 'মট' শব্দ উৎপন্ন হয়। একবার বুদ্বুদ ফেটে গেলে পুনরায় গ্যাসে পূর্ণ হতে অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে।
চিকিৎসাবিজ্ঞান ও গবেষণার বক্তব্য
চিকিৎসকদের মতে, অভ্যাসগত আঙুল মটকানোর সাথে বাতের রোগ বা অস্টিওআর্থ্রাইটিসের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। ক্যালিফোর্নিয়ার চিকিৎসক ড. ডোনাল্ড উঙ্গার টানা ৫০ বছর ধরে নিজের এক হাতের আঙুল মটকিয়ে এবং অন্য হাত না মটকিয়ে পরীক্ষা চালান। পরবর্তীতে তার দুই হাতের জয়েন্ট পরীক্ষা করে কোনো পার্থক্য বা বাতের লক্ষণ পাওয়া যায়নি। এই গবেষণার জন্য তিনি চিকিৎসাশাস্ত্রে বিশেষ পুরস্কারও পান।
অতিরিক্ত মটকানোর সম্ভাব্য ঝুঁকি
আঙুল ফোটালে বাত না হলেও, মাত্রাতিরিক্ত বা জোরপূর্বক মটকানোর কারণে কিছু মৃদু শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে:
লিগামেন্টের ওপর চাপ: অতিরিক্ত ও সজোড়ে টান দেওয়ার ফলে জোড়ার চারপাশের লিগামেন্টে চোট লাগতে পারে।
গ্রিপ বা শক্তিতে প্রভাব: কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত আঙুল ফোটানোর অভ্যাসের কারণে হাতের মুঠোর শক্তি সামান্য কমে যেতে পারে।
ফোলাভাব বা ব্যথা: জোরপূর্বক মটকাতে গেলে সফট টিস্যু বা নরম কলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আঙুলে সাময়িক ব্যথা বা ফোলাভাব দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো—স্বাভাবিকভাবে আঙুল মটকানো ক্ষতিকর নয় এবং এটি বাতের ঝুঁকি বাড়ায় না। তবে যদি আঙুল মটকানোর সময় তীব্র ব্যথা, শব্দ বা ফোলা ভাব দেখা দেয়, তবে এটি কোনো ভেতরের আঘাত বা জয়েন্টের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এমন অবস্থায় অনতিবিলম্বে অর্থোপেডিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ভোরের আকাশ/জেআ