ঘুম থেকে ওঠার পর ঘাড় ব্যথা, আরাম পাবেন যে উপায়ে

ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই ঘাড় আর কাঁধে ব্যথা হচ্ছে। এমন সমস্যায় পড়েন অনেকেই। দীর্ঘক্ষণ ঘাড় গুঁজে কাজ করলে এমনটা হয়। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, ঘাড় ও কাঁধ সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে শোয়ার ভঙ্গি, ম্যাট্রেস কিংবা বালিশের। এর সঙ্গে যদি লম্বা স্ক্রিন টাইম আর স্ট্রেস থাকে তাহলে ফল হতে পারে মারাত্মক।
ঘাড় ও কাঁধের ব্যথার জন্য শোয়ার ভঙ্গি ঠিক কতটা দায়ী তা জানতে একাধিক গবেষণাও করা হয়েছে। যদি ‘জার্নাল অফ টার্কিশ স্লিপ মেডিসিন’ পত্রিকায় প্রকাশিত গবেষণার ফল অনুযায়ী, শোয়ার ভঙ্গির সঙ্গে ঘাড় ও কাঁধের ব্যথার সরাসরি কোনো যোগ নেই। তবে সামগ্রিকভাবে স্লিপ হাইজিন মেনে চলতে না পারলে সমস্যা হতে পারে।
স্লিপ হাইজিন মেনে চলতে কী করবেন? কী করলে ঘাড় ও কাঁধ ব্যথা কম হবে জেনে নিন
বদলে ফেলুন বালিশ:
বালিশে মাথা না রাখলে ঘুম আর আরামদায়ক হয় না। কিন্তু বালিশের কাজ কী? বিছানার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মাথা ও ঘাড়কে সাপোর্ট দেওয়ার জন্যই বালিশ ব্যবহার করা হয়। প্রত্যেকের শরীরের অ্যালাইনমেন্ট আলাদা। সেই অনুযায়ী বালিশও আলাদা হওয়ার কথা। ভুল বালিশ ব্যবহার করলে ঘাড় ব্যথা বাড়ে।
উপুড় হয়ে শোবেন না:
অনেকেই উপুড় হয়ে ঘুমাতে পছন্দ করেন। চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাসের কারণেই ঘাড় ও কাঁধের ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। দীর্ঘ দিন ধরে এইভাবে শোয়ার অভ্যাস থাকলে দেখা দিতে পারে মাসল স্প্যাজম, স্টিফনেস, অস্থিসন্ধির ব্যথার মতো নানা সমস্যা।
কাঁধে অসহ্য ব্যথা হলে কী করবেন
শোয়ার ভঙ্গি বদলান:
ঘাড়, কাঁধের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চিৎ হয়ে কিংবা যেকোনো একপাশ ফিরে শোয়াই শ্রেয়। তবে ব্যথার তীব্রতা বেশি হলে, এক ভঙ্গিতে বেশি সময় ধরে শোয়ার অভ্যাস করবেন না। কোমরের কাছে কিংবা দুই পায়ের মাঝে বালিশ রাখতে পারেন। এতে আরাম মিলবে।
ম্যাট্রেস বদলে নিন:
ঘাড়, কাঁধের ব্যথায় বালিশের মতো ম্যাট্রেসেরও অনেক ভূমিকা রয়েছে। খুব নরম, আরামদায়ক গদিতে ঘুমাতে ভালো লাগতেই পারে কিন্তু এর ফল শরীরের জন্য মোটেও ভালো নয়। তাই ম্যাট্রেস কেনার আগে ভালো করে বিচার-বিবেচনা করে নেওয়াই ভালো।
ঘাড় ও কাঁধের ব্যথা মোটেও অবহেলা করবেন না। ঘরোয়া উপায়ে সমাধান না মিললে প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ভোরের আকাশ/তা.কা