ভালো ঘুমের জন্য রাতে মোজা পরা কি কার্যকর?

শীতের রাতে কিংবা এসি ছেড়ে ঘুমানোর সময় অনেকেরই পায়ে মোজা পরে ঘুমানোর অভ্যাস রয়েছে। আবার অনেকে মনে করেন, রাতে মোজা পরে ঘুমালে রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে বা স্বাস্থ্যগত ক্ষতি হতে পারে। তবে আধুনিক ঘুম গবেষণা ও চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা—রাতে সুতির নরম মোজা পরে ঘুমালে সত্যি সত্যিই ঘুম দ্রুত এবং গভীর হয়।
কেন রাতে মোজা পরে ঘুমানো ভালো ঘুমের জন্য সহায়ক, এর নেপথ্যে রয়েছে মানবদেহের এক চমকপ্রদ শারীরিক প্রক্রিয়া।
কীভাবে মোজা ভালো ঘুমে সাহায্য করে?
আমাদের শরীরের একটি নিজস্ব ঘুমানোর জৈবিক ঘড়ি বা ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ রয়েছে। ভালো ঘুমের জন্য শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়া প্রয়োজন। মোজা কীভাবে এতে সাহায্য করে:
- ভাসোডাইলেশন বা রক্তনালীর প্রসারণ: মোজা পরলে পায়ের পাতা ও আঙুলগুলো গরম হয়ে ওঠে। এর ফলে পায়ের রক্তনালীগুলো প্রসারিত হয় (যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ভাসোডাইলেশন বলে)।
- দেহের তাপমাত্রা দ্রুত কমায়: পায়ের রক্তনালী প্রসারিত হলে শরীর খুব দ্রুত ভেতরের অতিরিক্ত তাপ হাত ও পায়ের মাধ্যমে বাইরে ছড়িয়ে দেয়। ফলে শরীরের মূল অংশের তাপমাত্রা দ্রুত কমে আসে, যা মস্তিষ্ককে বার্তা পাঠায়—‘এখন ঘুমানোর সময় হয়েছে’।
দ্রুত ঘুম আসা: গবেষণায় দেখা গেছে, যারা রাতে হালকা ও আরামদায়ক মোজা পরে ঘুমান, তারা স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত ৭ থেকে ১৫ মিনিট দ্রুত ঘুমাতে পারেন এবং রাতে তাদের ঘন ঘন ঘুম ভাঙার প্রবণতা কমে যায়।
অতিরিক্ত কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা
- ফাটা পায়ের সমস্যা দূর: রাতে পায়ে ভালো ময়েশ্চারাইজার বা ভ্যাসলিন লাগিয়ে সুতির মোজা পরে ঘুমালে পায়ের খসখসে ভাব ও গোড়ালি ফাটা দ্রুত ভালো হয়।
- রেনড'স ডিজিজ প্রতিরোধ: যাদের ঠান্ডায় হাত-পায়ের আঙুল নীল বা অসাড় হয়ে যায়, মোজা পরলে তাদের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে।
- হট ফ্ল্যাশ প্রতিরোধ: নারীদের মেনোপজ বা রজোনিবৃত্তির সময়ে রাতে হুট করে শরীর গরম হয়ে ওঠার সমস্যা সামলাতে পায়ের মোজা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
মোজা পরে ঘুমানোর সঠিক নিয়ম ও সতর্কতা
সব ধরনের মোজা পরলে লাভ তো হবেই না, বরং ক্ষতি হতে পারে। তাই কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি:
১. ঢিলেঢালা ও সুতির মোজা: ইলাস্টিক টাইট বা বেশি শক্ত মোজা পরা যাবে না। এতে পায়ে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হতে পারে। সবসময় পরিষ্কার, সুতি বা ক্যাশমেয়ারের হালকা মোজা বেছে নিন।
২. সিনথেটিক মোজা এড়িয়ে চলুন: নাইলন বা কৃত্রিম ফেব্রিকের মোজা পরলে পায়ে ঘাম জমে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাল ইনফেকশন হতে পারে।
৩. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: সারাদিন যে মোজা পরে বাইরে ঘুরেছেন, তা পরে কখনোই ঘুমাতে যাবেন না। রাতে ঘুমানোর জন্য সবসময় আলাদা ধোয়া ও শুকনো মোজা ব্যবহার করুন।
অনিদ্রা বা রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার সমস্যায় যারা ভুগছেন, তারা ওষুধ বা জটিল কোনো চিকিৎসায় যাওয়ার আগে সহজ এই প্রাকৃতিক উপায়টি চেষ্টা করে দেখতে পারেন। পরিচ্ছন্ন ও আরামদায়ক এক জোড়া সুতির মোজাই হয়তো এনে দিতে পারে আপনার কাঙ্ক্ষিত প্রশান্তির ঘুম।
ভোরের আকাশ/জেআ