সন্তানের লাগামহীন স্ক্রলিং কমানোর কার্যকর ৫ উপায়

স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন শিশু-কিশোরদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগও বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্য সরকার ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের জন্য রাতের নির্দিষ্ট সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে স্বয়ংক্রিয় কারফিউ চালুর পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি অটো-প্লে ও ইনফিনিট স্ক্রলিংয়ের মতো আসক্তি বাড়ানো ফিচার সীমিত করার কথাও ভাবা হচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তি থেকে সন্তানকে পুরোপুরি দূরে সরিয়ে রাখার পরিবর্তে সচেতন অভ্যাস গড়ে তোলাই বেশি কার্যকর।
১. ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনুন
হঠাৎ করে ফোন বা ট্যাবলেট কেড়ে নেওয়ার বদলে ধাপে ধাপে স্ক্রিন টাইম কমানোর চেষ্টা করুন। শান্ত পরিবেশে সন্তানের সঙ্গে কথা বলুন এবং বাড়িতে ডিভাইস রাখার জন্য নির্দিষ্ট একটি স্থান ঠিক করে দিন।
২. নিয়ম তৈরিতে সন্তানকে যুক্ত করুন
একতরফাভাবে নিয়ম চাপিয়ে না দিয়ে সন্তানের মতামত নিন। কখন ফোন ব্যবহার করবে, কখন বিরতি নেবে—এসব বিষয়ে পারিবারিক আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিলে তারা নিয়ম মানতে বেশি আগ্রহী হয়।
৩. স্ক্রিন টাইমকে শেখার সুযোগ বানান
সন্তান কী ধরনের কনটেন্ট দেখে, কেন দেখে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কীভাবে কাজ করে—এসব নিয়ে আলোচনা করুন। ভুয়া তথ্য চেনা ও তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাসও শেখান।
৪. আগে নিজেই উদাহরণ তৈরি করুন
শিশুরা বড়দের অনুসরণ করে। তাই অভিভাবকরা নিজেরাও অপ্রয়োজনীয় ফোন ব্যবহার কমান। পরিবারের সবাই মিলে কিছু সময় ‘স্ক্রিন-ফ্রি’ সময় কাটানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন।
৫. অযথা আতঙ্কিত হবেন না
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু-কিশোরদের মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা অনেক বেশি। তাই প্রযুক্তিকে শত্রু না ভেবে সচেতন ও ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবহার শেখানোই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।
সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখুন, প্রযুক্তি ব্যবহারে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলুন এবং পরিবারের সবাই মিলে স্বাস্থ্যকর ডিজিটাল অভ্যাস তৈরি করুন। তাহলেই লাগামহীন স্ক্রলিং অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
ভোরের আকাশ/এনএ