ভেপিংয়ে ছেলেদের পেছনে ফেলছে মেয়েরা, কী বলছে গবেষণা?

ধূমপানের বিকল্প হিসেবে পরিচিত ই-সিগারেট বা ভেপিংয়ের ব্যবহার নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ছেলেদের মধ্যে নিকোটিন ব্যবহারের প্রবণতা বেশি দেখা গেলেও সাম্প্রতিক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ভেপিংয়ের ক্ষেত্রে উল্টো চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণা বলছে, ২০২১ সাল থেকে মেয়েদের মধ্যে ভেপিংয়ের হার ছেলেদের তুলনায় বেশি।
মেডিকেল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলাইনার (এমইউএসসি) গবেষকদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোরীদের মধ্যে নিয়মিত ভেপিংয়ের হার ২০২১ সালে ছিল ৪ দশমিক ৯ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশে। একই বয়সী ছেলেদের মধ্যে ২০২৪ সালে নিয়মিত ভেপিংয়ের হার ছিল ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী জামা পেডিয়াট্রিকসে।
কেন বাড়ছে মেয়েদের ভেপিং?
গবেষকেরা বলছেন, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে তরুণদের মধ্যে ভেপিংয়ের ব্যবহার দ্রুত বেড়ে যায়। নিকোটিন সল্টযুক্ত ই-সিগারেট এবং সহজে বহনযোগ্য ছোট আকারের ডিভাইসের জনপ্রিয়তা এ প্রবণতা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছিল। এসব ডিভাইস ব্যবহার ও আড়াল করা তুলনামূলক সহজ হওয়ায় কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে এর আকর্ষণ তৈরি হয়। তবে মেয়েদের মধ্যে ব্যবহারের হার ছেলেদের ছাড়িয়ে যাওয়ার পেছনে নির্দিষ্ট কী কী কারণ কাজ করছে, তা বুঝতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
শুধু বেশি বয়সী কিশোরীদের মধ্যেই নয়, ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের মধ্যেও ২০২১ সালের পর মেয়েদের ভেপিংয়ের হার সাধারণত ছেলেদের তুলনায় বেশি ছিল। সর্বশেষ উপাত্তে এই বয়সী মেয়েদের ব্যবহার কিছুটা কমলেও গবেষকেরা মনে করছেন, সমস্যাটি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?
ভেপিংকে অনেকেই প্রচলিত সিগারেটের তুলনায় কম ক্ষতিকর বা নিরাপদ মনে করেন। কিন্তু নিকোটিনযুক্ত ভেপ আসক্তি তৈরি করতে পারে। কিশোর বয়সে নিকোটিনের সংস্পর্শ মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ই-সিগারেটের অ্যারোসলেও ক্ষতিকর রাসায়নিক ও সূক্ষ্ম কণা থাকতে পারে। তাই ভেপিংকে ঝুঁকিমুক্ত অভ্যাস হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ভেপিং প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবাদাতাদের সমন্বিত ভূমিকা জরুরি। ভয় দেখানো বা শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে ভেপিংয়ের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানানো, ব্যবহার শুরু করার কারণ বোঝা এবং প্রয়োজন হলে আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে সহায়তা করা গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, মেয়েদের মধ্যে ভেপিংয়ের প্রবণতা বেশি হওয়া নতুন করে জনস্বাস্থ্যগত উদ্বেগ তৈরি করলেও ছেলেদের ভেপিংয়ের ঝুঁকিও উপেক্ষা করা যাবে না। কিশোর-কিশোরীদের নিকোটিনের আসক্তি থেকে সুরক্ষিত রাখতে বয়স ও লিঙ্গভিত্তিক প্রবণতা বিবেচনায় নিয়ে সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
ভোরের আকাশ/জেআ