টানা এক ঘণ্টা প্রস্রাব আটকে রাখলে শরীরে কী হয়?

ব্যস্ততা, দীর্ঘ পথযাত্রা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজের ফাঁকে প্রস্রাব আটকে রাখা অনেকেরই একটি পরিচিত অভ্যাস। যদি কারও মূত্রথলি সুস্থ থাকে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে মাঝেমধ্যে কেউ মাত্র এক ঘণ্টা প্রস্রাব চেপে রাখেন, তবে সাধারণত এতে বড় কোনো স্থায়ী ক্ষতি বা শারীরিক বিপদ ঘটে না। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও ইউরোলজি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাসটি যদি নিয়মিত বা অভ্যাসে পরিণত হয়, তবে তা শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
টানা এক ঘণ্টা বা তার বেশি সময় প্রস্রাব আটকে রাখলে শরীরে ও মূত্রনালীতে তাৎক্ষণিকভাবে যেসব শারীরিক পরিবর্তন ও প্রতিক্রিয়া ঘটে, তা নিচে তুলে ধরা হলো:
১. তাৎক্ষণিক শারীরিক প্রতিক্রিয়া ও অস্বস্তি
মূত্রথলিতে অতিরিক্ত চাপ: একজন সুস্থ মানুষের মূত্রথলিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ তরল জমা হওয়ার পরই মস্তিষ্কে তা খালি করার সংকেত পৌঁছায়। এক ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় প্রস্রাব ধরে রাখলে মূত্রথলির পেশিগুলো প্রসারিত হয়ে বাড়তি চাপ সহ্য করে, যার ফলে তলপেটে অস্বস্তি বা মৃদু ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
মনোযোগের ব্যাঘাত: মস্তিষ্কে বারবার প্রস্রাবের তাগিদ সংক্রান্ত সংকেত পাঠানোর কারণে কাজের প্রতি মনোযোগ নষ্ট হয় এবং এক ধরনের মানসিক অস্থিরতা তৈরি হয়।
২. দীর্ঘমেয়াদী ও নিয়মিত অভ্যাসের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি
মাঝেমধ্যে এক ঘণ্টা আটকে রাখা গুরুতর না হলেও, যারা নিয়মিত দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব আটকে রাখেন তাঁদের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত জটিলতাগুলো দেখা দিতে পারে:
ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা ইউটিআই : প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বের হয়ে যায়। কিন্তু প্রস্রাব দীর্ঘক্ষণ জমিয়ে রাখলে সেই ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবিস্তার করার সুযোগ পায়, যা থেকে মূত্রনালীর সংক্রমণ বা UTI হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
মূত্রথলির পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া: দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত প্রস্রাব আটকে রাখলে মূত্রথলির প্রসারণ ও সংকোচনের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণকারী পেশিগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে পরবর্তীতে প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণে সমস্যা কিংবা সম্পূর্ণভাবে মূত্রথলি খালি না হওয়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।
শ্রোণীদেশ বা পেলভিক ফ্লোরের ক্ষতি: বারবার প্রস্রাব আটকে রাখার ফলে পেলভিক ফ্লোরের পেশিগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক সক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
কি্ডনির ওপর চাপ ও পাথর সৃষ্টি: প্রস্রাব আটকে রাখার ফলে যদি তা কিডনির দিকে ফিরে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি করে কিংবা ক্রমান্বয়ে খনিজ পদার্থ জমাট বাঁধতে শুরু করে, তবে তা কিডনির কার্যকারিতায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
জরুরি পরিস্থিতিতে বা একান্ত বাধ্য হয়ে কদাচিৎ এক ঘণ্টা প্রস্রাব আটকে রাখলে বড় কোনো বিপদ না হলেও, এটিকে কখনোই নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করা উচিত নয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, যখনই প্র্রস্রাবের তাগিদ অনুভূত হবে, তা না এড়িয়ে সময়মতো শৌচাগার ব্যবহার করাই সুস্থ থাকার সবচেয়ে ভালো উপায়।
ভোরের আকাশ/জেআ