ধূমপানের কারণে ঠোঁট কালো হওয়ার পেছনে কী কারণ?

ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব শুধু ফুসফুস বা হৃদ্যন্ত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, এর প্রভাব পড়তে পারে ঠোঁটের স্বাভাবিক রং ও ত্বকের ওপরও। অনেক ধূমপায়ীর ঠোঁট সময়ের সঙ্গে কালচে বা বাদামি হয়ে যেতে দেখা যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই পরিবর্তনের একটি সম্ভাব্য কারণ হলো মেলানিনের উৎপাদন বেড়ে যাওয়া। তবে সবার ক্ষেত্রে ঠোঁট কালো হওয়ার কারণ এক নয়।
ধূমপানে ঠোঁট কালো হয় কেন?
ঠোঁটের রং মূলত মেলানিন নামের রঞ্জক পদার্থ, রক্তনালির বৈশিষ্ট্য ও ত্বকের গঠনের ওপর নির্ভর করে। সিগারেটের ধোঁয়ায় থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ঠোঁটের সূক্ষ্ম ত্বকে জ্বালা ও প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। এ ধরনের দীর্ঘস্থায়ী উদ্দীপনার প্রতিক্রিয়ায় ত্বকে মেলানিনের উৎপাদন বেড়ে যেতে পারে। ফলে ঠোঁট ধীরে ধীরে গাঢ় রং ধারণ করতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ধূমপানের সঙ্গে সম্পর্কিত এ ধরনের রঞ্জক পরিবর্তনকে ‘স্মোকার্স মেলানোসিস’ (Smoker’s melanosis) বলা হয়।
নিকোটিনই কি ঠোঁট কালো হওয়ার একমাত্র কারণ?
ঠোঁট কালো হওয়ার জন্য শুধু নিকোটিনকে দায়ী করা ঠিক নয়। সিগারেটের ধোঁয়ায় থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ, তাপ এবং ঠোঁটের টিস্যুতে তৈরি হওয়া প্রদাহও ভূমিকা রাখতে পারে। ধূমপানের পরিমাণ, কত বছর ধরে ধূমপান করা হচ্ছে এবং ব্যক্তির স্বাভাবিক ত্বকের রং—এসব বিষয়ের কারণে এই পরিবর্তনের মাত্রা ভিন্ন হতে পারে।
তবে ঠোঁট কালচে হলেই যে তা ধূমপানের কারণে হয়েছে, এমন নয়। বংশগত বৈশিষ্ট্য, হরমোনের পরিবর্তন, কিছু ওষুধ, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কারণেও ঠোঁটের রং বদলে যেতে পারে।
গবেষণায় কী পাওয়া গেছে?
চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণায় ধূমপায়ীদের মুখের ভেতরের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লি ও মাড়িতে মেলানিনের অতিরিক্ত জমার সঙ্গে ধূমপানের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ঠোঁট ও মুখের টিস্যুতে দেখা দেওয়া এই পরিবর্তনকে ধূমপানজনিত রঞ্জকতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে ব্যক্তিভেদে এর মাত্রা ও প্রকাশ ভিন্ন হতে পারে। তাই ঠোঁটের রং পরিবর্তনের পেছনে ধূমপানই একমাত্র কারণ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে অন্যান্য সম্ভাবনাও বিবেচনা করা জরুরি।
ধূমপান ছাড়লে কি ঠোঁটের স্বাভাবিক রং ফিরে আসে?
ধূমপান বন্ধ করলে নতুন করে ধোঁয়ার সংস্পর্শ ও এর ক্ষতিকর প্রভাব কমে। ফলে সময়ের সঙ্গে ঠোঁটের কালচে ভাব কিছুটা কমতে পারে। তবে কতটা পরিবর্তন হবে এবং কত সময় লাগবে, তা ব্যক্তিভেদে আলাদা। সবার ঠোঁট পুরোপুরি আগের রঙে ফিরে আসবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
ঠোঁটের যত্নে ধূমপান ছাড়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, ঠোঁটের জন্য উপযোগী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং সূর্যের আলো থেকে সুরক্ষা নেওয়া সহায়ক হতে পারে। ঠোঁটের রং দ্রুত বদলে গেলে, একপাশে অস্বাভাবিক কালো দাগ দেখা দিলে, ঘা হলে বা দীর্ঘদিনেও না সারলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সুস্থ থাকার জন্য ধূমপান ত্যাগ জরুরি
ধূমপান ছেড়ে দেওয়া ঠোঁটের রং পরিবর্তনের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ধূমপান ফুসফুসের ক্যানসার, হৃদ্রোগ, স্ট্রোক ও দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। ঠোঁটের কালচে ভাবকে কেবল সৌন্দর্যগত সমস্যা হিসেবে না দেখে ধূমপান ছাড়ার একটি সতর্কসংকেত হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
ভোরের আকাশ/জেআ