বুফে খাওয়ার লাভ-লোকসান: সচেতন না হলে বাড়তে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি

জন্মদিন, পারিবারিক আয়োজন কিংবা বন্ধুদের আড্ডায় বুফে রেস্টুরেন্টে খাওয়ার জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। নির্দিষ্ট মূল্যে পছন্দমতো নানা ধরনের খাবার খাওয়ার সুযোগ থাকায় অনেকেই এটিকে সাশ্রয়ী মনে করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পনা ছাড়া বুফে খেলে উপকারের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি।
বুফেতে সাধারণত ভাত, মাছ, মাংস, সালাদ, ডেজার্ট ও বিভিন্ন পানীয় একসঙ্গে পরিবেশন করা হয়। বৈচিত্র্যের কারণে অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খেয়ে ফেলেন। এতে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি, চর্বি, চিনি ও সোডিয়াম প্রবেশ করে, যা দীর্ঘমেয়াদে ওজন বৃদ্ধি, হজমের সমস্যা, ডায়াবেটিস ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তবে সচেতনভাবে খাবার নির্বাচন করলে বুফেও হতে পারে স্বাস্থ্যকর। সালাদ, শাকসবজি, ফল, গ্রিল করা মাছ বা মুরগির মাংস এবং পরিমিত পরিমাণে অন্যান্য খাবার গ্রহণ করলে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া সম্ভব।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিষয়ক লেখায় পরিমিত খাবার গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তার মতে, যেকোনো উৎসব বা বিশেষ আয়োজনে অতিভোজন শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাই খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্স বিভাগের গবেষণায় দেখা গেছে, অনেকের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফল ও দুধজাতীয় খাবারের ঘাটতি রয়েছে। তাই বুফেতে শুধু মাংস বা ভাজাপোড়ার দিকে না ঝুঁকে সুষম খাদ্য বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, বুফেতে যাওয়ার আগে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা উচিত নয়। ধীরে ধীরে খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং ডেজার্ট সীমিত রাখলে অতিভোজনের ঝুঁকি কমে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, বুফে খাওয়ার প্রকৃত লাভ নির্ভর করে খাবারের ধরন ও পরিমাণের ওপর। সচেতনভাবে খাবার নির্বাচন ও পরিমিত খাওয়ার অভ্যাসই পারে বুফে খাওয়াকে আনন্দদায়ক ও স্বাস্থ্যসম্মত অভিজ্ঞতায় পরিণত করতে।
ভোরের আকাশ/এনএ