রাতে ফোনের চার্জ বাঁচাতে যেসব বিষয় জানা জরুরি

রাতের বেলা ঘুমানোর আগে আমরা অনেকেই ফোনের সব অ্যাপ বন্ধ করে, ফোনটি টেবিলের ওপর রেখে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে যাই। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখা যায়, রাতে ফোনটি একেবারেই ব্যবহার না করা সত্ত্বেও ব্যাটারির চার্জ ৫% থেকে ১০%, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি কমে গেছে!
ফোন স্ক্রিন বন্ধ থাকা সত্ত্বেও ব্যাকগ্রাউন্ডে এমন কিছু প্রক্রিয়া সচল থাকে, যা আমাদের অজান্তেই ব্যাটারির চার্জ শুষে নেয়। প্রযুক্তির ভাষায় একে বলা হয় ‘আইডল ব্যাটারি ড্রেন’। রাতে ফোন ব্যবহার না করলেও ঠিক কী কী কারণে চার্জ কমে যায় এবং তা প্রতিরোধের উপায় নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ রিফ্রেশ
আমরা যখন কোনো অ্যাপ ব্যবহার করা শেষ করে হোম স্ক্রিনে ফিরে আসি, তখন অ্যাপটি পুরোপুরি বন্ধ হয় না। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, জিমেইল বা ইমোর মতো অ্যাপগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে অনবরত কাজ করতে থাকে।
- কারণ: নতুন কোনো মেসেজ, মেইল বা নোটিফিকেশন এলো কিনা—তা যাচাই করার জন্য অ্যাপগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে প্রসেসর ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে। ফলে ফোন লক থাকা সত্ত্বেও ব্যাটারি খরচ হতে থাকে।
২. দুর্বল নেটওয়ার্ক সিগন্যাল
আপনার ঘরের ভেতরের নেটওয়ার্ক যদি দুর্বল বা ওঠানামা করে, তবে সেটি ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়ার অন্যতম বড় কারণ।
- কারণ: নেটওয়ার্ক সিগন্যাল দুর্বল হলে ফোনের ভেতরের মডেম বা অ্যান্টেনা ভালো সিগন্যাল পাওয়ার জন্য বা বারবার নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হতে অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার করে। রাতে যখন ফোন এক জায়গায় স্থির থাকে এবং সিগন্যাল দুর্বল হয়, তখন ফোনটি সর্বোচ্চ শক্তিতে নেটওয়ার্ক খোঁজার চেষ্টা করে, যা ব্যাটারির চার্জ দ্রুত খালি করে দেয়।
৩. অটো-সিঙ্ক এবং ক্লাউড ব্যাকআপ
স্মার্টফোনে সাধারণত গুগল ড্রাইভ, আইক্লাউড বা গুগল ফটোজের মতো ক্লাউড সার্ভিসের ‘অটো-ব্যাকআপ’ অন করা থাকে।
- কারণ: অনেক স্মার্টফোনের সিস্টেমে এমনভাবে সেট করা থাকে যে, ব্যবহারকারী যখন দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার করবেন না (যেমন- রাতের বেলা), তখন ফোনের ছবি, ভিডিও বা চ্যাট হিস্ট্রি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্লাউডে ব্যাকআপ হতে শুরু করবে। এই ডাটা আপলোডের প্রক্রিয়ায় প্রচুর ব্যাটারির প্রয়োজন হয়।
৪. লোকেশন সার্ভিস ও জিপিএস
স্মার্টফোনে থাকা আবহাওয়া অ্যাপ, গুগল ম্যাপস বা বিভিন্ন রাইড শেয়ারিং অ্যাপ প্রতিনিয়ত ব্যবহারকারীর নিখুঁত অবস্থান বা লোকেশন ট্র্যাক করার চেষ্টা করে।
- কারণ: ফোনের জিপিএস হার্ডওয়্যারটি ব্যাকগ্রাউন্ডে সচল থাকলে তা প্রচুর চার্জ নষ্ট করে। আপনি ঘুমালেও এই জিপিএস ট্র্যাকিং বন্ধ হয় না, যদি না আপনি তা ম্যানুয়ালি বন্ধ করেন।
৫. ব্যাটারির নিজস্ব স্বাস্থ্য বা ক্ষয়
আপনার ফোনটি যদি ১ বা ২ বছরের বেশি পুরনো হয়, তবে ব্যাটারির রাসায়নিক কার্যক্ষমতা প্রাকৃতিকভাবেই কমে যায়।
- কারণ: পুরনো বা ড্যামেজড ব্যাটারি নিজে থেকেই কিছুটা চার্জ ধরে রাখার ক্ষমতা হারায়। ফলে ফোন পুরোপুরি বন্ধ বা আইডল মোডে রাখলেও চার্জ লিকেজ বা ড্রেন হওয়ার হার নতুন ফোনের চেয়ে অনেক বেশি হয়।
রাতে ব্যাটারির চার্জ বাঁচানোর ৫টি সহজ উপায়:
১. উড়োজাহাজ মোড অন করুন: রাতে যদি কোনো জরুরি কল আসার তাড়া না থাকে, তবে ফোনটি ফ্লাইট বা অ্যারোপ্লেন মোডে দিয়ে ঘুমাতে পারেন। এতে নেটওয়ার্ক সার্চিং বন্ধ থাকবে এবং চার্জ একদমই কমবে না।
২. অপ্রয়োজনীয় সংযোগ বন্ধ রাখুন: ঘুমানোর আগে ফোনের ওয়াই-ফাই , মোবাইল ডাটা, ব্লুটুথ এবং জিপিএস অবশ্যই বন্ধ করে দিন।
৩. অটো-ব্রাইটনেস ও অলওয়েজ অন ডিসপ্লে: ফোনের ‘Always On Display’ ফিচারটি চালু থাকলে রাতেও স্ক্রিনে ঘড়ি বা নোটিফিকেশন জ্বলে থাকে, যা চার্জ কমায়। এটি রাতে বন্ধ রাখুন।
৪. ব্যাটারি সেভার মোড : ঘুমানোর আগে ফোনের বিল্ট-ইন ব্যাটারি সেভার বা পাওয়ার সেভিং মোডটি চালু করে দিতে পারেন। এটি ব্যাকগ্রাউন্ডের সব অপ্রয়োজনীয় অ্যাক্টিভিটি সাময়িকভাবে থামিয়ে রাখবে।
৫. অ্যাপ রেস্ট্রিকশন: ফোনের সেটিংসে গিয়ে (Settings > Battery) দেখে নিন কোন অ্যাপগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে বেশি চার্জ খাচ্ছে। সেগুলোকে 'Restrict background data' বা 'Background restriction' মোডে সেট করে দিন।
রাতে স্মার্টফোনের ২% থেকে ৫% পর্যন্ত চার্জ কমা স্বাভাবিক বা স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে ধরা হয়। তবে এর চেয়ে বেশি চার্জ কমলে বুঝতে হবে ওপরের কোনো একটি সমস্যা আপনার ফোনে সক্রিয় রয়েছে। সহজ এই টিপসগুলো মেনে চললে আপনার ফোনের ব্যাটারির আয়ু যেমন বাড়বে, তেমনি সকালের ব্যস্ত সময়ে চার্জের জন্য বিপাকে পড়তে হবে না।
ভোরের আকাশ/জেআ