ক্ষত নিরাময়ে চিনি কতটা ক্ষতিকর?

জীবনসঙ্গী বা জীবনসঙ্গিনী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে একেক জনের পছন্দ একেক রকম। তবে বর্তমান সময়ে ডেটিং বা সম্পর্কের দুনিয়ায় পেশা একটি বড় ভূমিকা পালন করে। কেউ কর্পোরেট এক্সিকিউটিভ পছন্দ করেন, তো কেউ ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার। কিন্তু আপনি কি কখনো প্রেমিক হিসেবে একজন সাংবাদিক বা গণমাধ্যমকর্মীর কথা ভেবেছেন?
পেশাগত কারণে সাংবাদিকদের জীবন কিছুটা চ্যালেঞ্জিং এবং রোমাঞ্চকর হলেও, সঙ্গী হিসেবে তারা অনন্য। একজন খবরের মানুষের সাথে প্রেম করার অভিজ্ঞতা সাধারণ আর দশটা সম্পর্কের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। প্রেমিক হিসেবে একজন সাংবাদিককে বেছে নেওয়ার পেছনে থাকা জাদুকরী ১২টি কারণ নিচে তুলে ধরো হলো:
১. তারা সবসময় ‘আপ-টু-ডেট’ এবং সচেতন
একজন সাংবাদিকের নখদর্পণে থাকে দেশ-বিদেশের সব খবর। রাজনীতি, বিনোদন, খেলাধুলা থেকে শুরু করে শহরের কোন রেস্তোরাঁয় ভালো খাবার পাওয়া যায় কিংবা কোন পথ দিয়ে গেলে জ্যাম এড়ানো যাবে—সব তথ্যই তাদের জানা। তার সাথে থাকলে আপনাকে কখনো তথ্যহীনতায় ভুগতে হবে না।
২. আড্ডায় কখনোই একঘেয়েমি আসবে না
সাংবাদিকদের ঝুলিতে প্রতিদিন নতুন নতুন গল্প জমা হয়। সমাজের নানা স্তরের মানুষের সাথে মেশার কারণে তাদের অভিজ্ঞতার ঝুলি থাকে সমৃদ্ধ। কফি ডেটে বসে তাদের কাছ থেকে মাঠপর্যায়ের কাজের রোমাঞ্চকর সব গল্প শুনতে শুনতে সময় কীভাবে কেটে যাবে, আপনি টেরই পাবেন না।
৩. তারা দুর্দান্ত শ্রোতা (Good Listener)
খবর বের করে আনার জন্য একজন সাংবাদিককে দীর্ঘ সময় ধরে অন্যের কথা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনতে হয়। পেশাগত এই গুণটি সম্পর্কের ক্ষেত্রেও দারুণ কাজে দেয়। আপনার মনের ছোট ছোট অভিমান, সারাদিনের ক্লান্তি কিংবা যেকোনো সমস্যার কথা তারা অত্যন্ত ধৈর্য ধরে শুনবেন।
৪. ‘মিথ্যে’ ধরায় তারা ওস্তাদ
আপনি যদি একজন সৎ ও স্বচ্ছ মনের মানুষ পছন্দ করেন, তবে সাংবাদিক প্রেমিক আপনার জন্য সেরা। কারণ, তারা পেশাগতভাবেই সত্য-মিথ্যা যাচাই করতে অভ্যস্ত। আপনার চোখের ভাষা বা সামান্য কথার হেরফের দেখেই তারা সত্যিটা বুঝে নিতে পারেন। তাই এই সম্পর্কে লুকোচুরির সুযোগ খুব কম, যা সম্পর্ককে আরও মজবুত করে।
৫. যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতা (Crisis Management)
যেকোনো ব্রেকিং নিউজ বা জরুরি মুহূর্তে মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করা সাংবাদিকদের প্রতিদিনের অভ্যাস। আপনার ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোনো সংকট বা কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হলে, তারা হড়বড় না করে খুব পরিপক্ব ও বাস্তবসম্মত উপায়ে তা সমাধান করতে এগিয়ে আসবেন।
৬. উপহার হিসেবে বই বা সৃজনশীল কিছু পাওয়ার নিশ্চয়তা
বেশিরভাগ সাংবাদিকই পড়াশোনা করতে এবং লেখার চর্চা রাখতে ভালোবাসেন। তাই সাধারণ চকোলেট বা আর্ট পেপারের কার্ডের চেয়ে তারা আপনাকে চমৎকার কোনো বই, নিজের লেখা কবিতা কিংবা কোনো সৃজনশীল ও অর্থপূর্ণ জিনিস উপহার দিয়ে চমকে দিতে পছন্দ করবেন।
৭. ‘স্পেস’ বা নিজস্ব স্বাধীনতা পাবেন
সাংবাদিকদের কাজের কোনো নির্দিষ্ট সময় থাকে না। অ্যাসাইনমেন্টের প্রয়োজনে তাদের হুটহাট ব্যস্ত হয়ে পড়তে হয়। যেহেতু তারা নিজেদের কাজের ব্যস্ততা বোঝেন, তাই আপনার চাকরি, পড়াশোনা বা বন্ধুদের আড্ডার জন্য প্রয়োজনীয় নিজস্ব স্বাধীনতা (Space) দিতে তারা কখনোই কার্পণ্য করবেন না।
৮. তাদের পরিচিতির পরিধি বিশাল (Networking)
ডাক্তার, আইনজীবী, পুলিশ, আমলা থেকে শুরু করে সেলিব্রিটি—সব মহলেই সাংবাদিকদের অবাধ যাতায়াত থাকে। আপনার যেকোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা আইনি প্রয়োজনে তাদের এই বিশাল নেটওয়ার্কিং ও পরিচিতি দারুণভাবে কাজে লাগতে পারে।
৯. তারা অত্যন্ত কৌতুহলী এবং রোমাঞ্চপ্রিয়
একঘেয়ে জীবন সাংবাদিকরা পছন্দ করেন না। নতুন নতুন জায়গা এক্সপ্লোর করা, অজানা তথ্য জানা এবং রোমাঞ্চের খোঁজে ঘুরে বেড়ানো তাদের সহজাত প্রবৃত্তি। ফলে ট্রাভেল পার্টনার হিসেবে একজন সাংবাদিক প্রেমিক আপনাকে সবসময় নতুন কিছুর স্বাদ দেবে।
১০. চমৎকার লেখনী ও সুন্দর মেসেজের জাদু
সোশ্যাল মিডিয়ায় চ্যাটিং বা জন্মদিনের শুভেচ্ছাবার্তায় তারা সাধারণ 'HBD' বা এক লাইনের মেসেজ পাঠাবেন না। শব্দের সঠিক চয়ন ও জাদুকরী লেখনীর মাধ্যমে তারা আপনার প্রতি ভালোবাসার অনুভূতিগুলো এমনভাবে ফুটিয়ে তুলবেন, যা আপনার মন ছুঁয়ে যেতে বাধ্য।
১১. তারা অন্যায় এবং অন্যায্যতার বিরুদ্ধে সোচ্চার
একজন প্রকৃত সাংবাদিক সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলেন। এই স্বভাবের কারণে সম্পর্কে কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা অন্যায় হলে তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করতে দ্বিধা করেন না এবং সঙ্গীর অধিকারের ব্যাপারে সবসময় সচেতন ও যত্নশীল থাকেন।
১২. আপনি একজন ‘তারকা’র পাশে থাকার অনুভূতি পাবেন
টেলিভিশনের পর্দায় লাইভ রিপোর্ট করা, খবরের কাগজে নাম ছাপা হওয়া কিংবা বড় বড় টকশোতে অংশ নেওয়া—এসবের কারণে সমাজে সাংবাদিকদের একটি আলাদা ফেস ভ্যালু বা সম্মান থাকে। যখন আপনি আপনার সাংবাদিক প্রেমিকের সাথে কোথাও বের হবেন, তখন মানুষের সমীহ জাগানো চাউনি আপনাকে অবশ্যই গর্বিত করবে।
কাজের ব্যস্ততার কারণে হয়তো তারা অনেক সময় আপনার প্রথম ফোনেই সাড়া দিতে পারবেন না, কিংবা ডেটের মাঝপথেই 'ব্রেকিং নিউজ'-এর টানে উঠে যেতে হতে পারে। তবে এই ব্যস্ততাটুকুকে মেনে নিতে পারলে, একজন সাংবাদিকের চেয়ে কেয়ারিং, বুদ্ধিমান এবং রোমাঞ্চকর প্রেমিক পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার!
ভোরের আকাশ/জেআ